প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৪৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ডিসেম্বর মাস থেকে মাঠে নামছে বিএনপি। নির্বাচনী রোডম্যাপের দিনক্ষণ স্পষ্ট করা এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী ‘ফ্যাসিবাদী’ সরকারের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার দাবি নিয়ে এবার দশ সাংগঠনিক বিভাগে বড় সমাবেশ করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাবেশ ও সেগুলোর দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।
সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
গত ৪ নভেম্বর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মেয়াদের তিন মাসেও নির্বাচনী রোডম্যাপের বিষয়টি স্পষ্ট না করায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণার বিষয়টি আলোচনা করে বিএনপি। নাহলে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার চিন্তা করবে দলটি।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সোমবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ফ্যাসিবাদী ষড়যন্ত্র মোকাবিলা এবং নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণাÑ এই দুই ইস্যুতে মাঠের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন তারা। সেই ভাবনা থেকেই এবার দশ সাংগঠনিক বিভাগে বড় সমাবেশ করার চিন্তাভাবনা করছে দলটি। এ ছাড়া মহান বিজয় দিবস ঘিরেও বড় শোডাউনের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। তাই আগামী ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় আরেকটি বড় র্যালিও করবে দলটি।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির সভায় সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে সম্প্রতি তিনজনের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এই নিয়োগ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরাও বিস্মিত। বিএনপি নেতারা অভিমত দেন যেÑ এদের মধ্যে দুজনকে নিয়ে নানা মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে ছাত্র-জনতা এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং তারা আন্দোলন করছে। যথেষ্ট যাচাই-বাছাই ও চিন্তাভাবনা করে এদের নিয়োগ দিলে এই বিতর্ক সৃষ্টি হতো না। তাই সরকারের উচিত যথাসম্ভব বিতর্ক এড়িয়ে সামনে অগ্রসর হওয়া। বিতর্কিত কাউকে সরকারে না রাখা এবং ভালোভাবে খোঁজখবর করে দায়িত্বে নিয়ে আসা।
বৈঠকে দলের কেউ কেউ বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। তারা বলেন, জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির বরাবরই তো কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানপরবর্তী পরিস্থিতিতে প্রশাসন, মাঠপ্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদায়ন নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। যেটাতে দল দুটির মধ্যে একধরনের মতদ্বৈততা তৈরি হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। এমন প্রেক্ষাপটে জামায়াতের সঙ্গে যাতে কোনো দূরত্ব তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত বলে বৈঠকে অভিমত দেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। এজন্য জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার তাগিদ দেন তারা।