প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:৩৩ পিএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:৩৪ পিএম
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লব একে অপরের পরিপূরক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরষ্পর বিরোধী নয়, তারা একে অপরের পরিপূরক মাত্র। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যদি আমরা বিষয়গুলোকে পর্যালোচনা করি, তাহলে সেখানে কিন্তু কোনো সংঘাতের প্রয়োজন নেই। আজকে স্বাধীনতার প্রায় ৫৩ বছর পরে এসে আমরা যেখানে উপনীত হয়েছি, সেখানে আমাদের স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে হবে, সংঘাতময় রাজনীতিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে না।’
মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘সংবিধান সংস্কার’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ সব কথা বলেন।
সংবিধান পুনর্লিখন নিয়ে মঈন খান বলেন, ‘সংবিধানের জন্য জনগণ নয়, জনগণের জন্য সংবিধান— এই কথাটি যদি আমরা অন্তর থেকে বিশ্বাস করি, তাহলে আজকে যে প্রশ্নটি এসেছে সংবিধান পুনর্লিখন অথবা সংশোধনের মধ্যে আমি কোনো সংঘাত দেখতে পাই না। কারণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য তো সংবিধান নয়, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণ। কাজেই জনগণের কল্যাণের জন্য যা কিছু প্রয়োজন আমরা সেটাই তো করব। প্রয়োজনে সংবিধান পুনর্লিখন অথবা সংশোধন করব; এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এমন একটি সিস্টেম তৈরি করা, যে সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা সৃষ্টি করব, যে রাষ্ট্রব্যবস্থা জনগণের জন্য মঙ্গলজনক হবে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র সৃষ্টি করা। সেই কল্যাণ রাষ্ট্র সৃষ্টি করার জন্য যে কাজগুলো করা প্রয়োজন, সেই কাজগুলো আমরা করব। সেটা যেই পদ্ধতিতেই হোক না কেন। আমি মনে করি, আমাদের উদ্দেশ্য যদি সঠিক হয়, সৎ হয় এবং সত্যিকার অর্থে যদি আমরা জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করতে চাই, তাহলে পদ্ধতি কোনো বাধা হয়ে থাকতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘মানব সমাজ পরিবর্তনশীল। যেই সমাজ এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামনে যেতে পারে না, তারা পিছিয়ে যায়, পরাজিত হয়। বাংলাদেশ কি সেই বালুচরের চোরাবালিতে হারিয়ে যাচ্ছে কিনা?’
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে সেমিনারের সভাপতি এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘শেখ হাসিনা এ দেশের গণতন্ত্র শেষ করে দিয়েছে, নির্বাচন ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা এমন একটি নির্বাচন চাই, যেই নির্বাচন সবাই আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে পারবে। এই রকম একটি নির্বাচনে সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, দেশে গণতন্ত্রের একটি মূল্যবোধ আসবে। এটার ওপর দাঁড়িয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশ তৈরি করতে পারব। তার মানে মূল কাজ হচ্ছে নির্বাচন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সংবিধান পরিবর্তন করি, দেশের সংস্কার করি- সবাই মিলে করি। এ জন্য ঐক্যমত লাগবে। এমনিতেই বাংলাদেশ অনেক বিভাজিত। ভাবের দিক থেকে, চিন্তার দিক থেকে, কাজে দিক থেকে, দলের দিক থেকে। এই বিভাজন যদি চলতে থাকে, তাহলে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। আমাদের মতগুলো সন্নিবেশিত করতে হবে, একসঙ্গে করতে হবে।’
মান্না বলেন, ‘এ দেশে কেউ নিজের ইচ্ছা পূরণ করে রাজনীতি করতে পারবেন না। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান বা বিপ্লব যাই বলেন, বিরাট একটি আশা তৈরি করেছে, মানুষের মধ্যে বিশ্বাস দিয়েছে, সাহস দিয়েছে। তারা মনে করে, বাংলাদেশ আমরা বদলাতে পারি। কিন্তু কারা বদলাবে? যারা এখন ক্ষমতায় আছে। চাইলে কি মঈন ভাই (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য) কি বদলাতে পারবে? কিছু করতে পারবে? বিএনপির যত বড় নেতাই হোক, ক্ষমতায় তো নেই। যারা ক্ষমতায় আছে, তারাই সিদ্ধান্ত নেবে শেষ পর্যন্ত। অতএব, তারাও যখন বলে, আমরা তো আপনাদেরই লোক। তা আমরাও তো আপনাদেরই লোক। তো মিলেমিশে করি। দুঃখের সঙ্গে বলছি, বর্তমান সরকার একা চলছে। এখন পর্যন্ত যেভাবে যাচ্ছে, তাতে অন্যদের সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছে তেমন দেখছি না।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।