প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২২ ২০:৫৭ পিএম
জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের সম্মেলন উপলক্ষে সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৯ নভেম্বর সকালে কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ছাত্র সমাজের সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে এক সভায় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছেন দলের ছাত্র বিষয়ক সেলের সমন্বয়কারী ও জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।
তিনি জানান, যাচাই-বাছাই শেষে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে বৈধতা পেয়েছেন মো. আল মামুন, লক্ষ্মণ বিশ্বাস, মো. রুহুল আমিন গাজী, মো. মারুফ ইসলাম তালুকদার, আল-আমিন ও মো: জুবায়ের আহাম্মেদ। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী পদে নাম এসেছে নকিবুল হাসান নিলয়, মো. আশ্রাফুল ইসলাম (আশ্রাফ খান), মো. শিবলী আহমেদ সবুজ, নাজমুল হাসান রেজা ও মো. ইউসুফের।
২০২২ অনুষ্ঠেয় জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন এই তালিকার মধ্য থেকে। গেল ২০ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় পার্টির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন ও যুগ্ম ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল দিদার দিপুর কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন প্রার্থীরা।
রওশনপন্থিদের পাল্টা কমিটি
জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের অনুসারীরা জাতীয় ছাত্রসমাজের নতুন কমিটি গঠন করে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের অনুসারীদের।
২৯ নভেম্বর ঢাকায় জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি যখন প্রায় সম্পন্ন, তখন রওশন এরশাদের অনুসারীদের পক্ষ থেকে জাতীয় ছাত্র সমাজের নতুন কমিটি গঠন করে পাল্টা সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছে।
জাতীয় ছাত্র সমাজের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফকির আল মামুনকে আহ্বায়ক ও আবু সাঈদ লিয়নকে সদস্য সচিব করে ৭৩ সদস্যের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন রওশনের রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসীহ।
রওশনের অনুসারীদের পক্ষ থেকে ঘোষিত জাতীয় ছাত্র সমাজের ওই কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়করা হচ্ছেন হাফসা সুলতানা, আব্দুস সালাম খান, মো. সোয়াইব ইসলাম, অমিত সিকদার, সোবহান মজিব বিদ্যুৎ, খালিদ হাসান অনিক, ফরহাদ হোসেন, ওয়াজেদ মোল্লা, মো. মোমিন, শামসুজ্জোহা রিপন, সাব্বির হোসেন বেলাল, অপু রায়হান আকাশ, টগর কুমার ঘোষ, নাজমুল হোসেন জিকু, আরব আলী জয়, শওকত আলী, আসাদুজ্জামান টিটু, মো. সম্রাট কাজী , জানেবুর রহমান বিপুল, মো. রুবেল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, আমিনুল ইসলাম ইমন ও শাহ্ দেলোয়ার হোসেন শিপন।
জাতীয় ছাত্র সমাজ
নব্বইয়ের দশকে ছাত্র আন্দোলনে জেরবার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার অবস্থান তৈরিতে ১৯৮৩ সালের ২৭ মার্চ নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ নামে একটি সংগঠন গড়েছিলেন। পরে নাম বদলে তা হয় জাতীয় ছাত্র সমাজ। এতে আহ্বায়ক নিযুক্ত হয়েছিলেন রফিকুল হক হাফিজ। পরে ১৯৮৪ সালে এর পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সভাপতি এবং শেখ সিরাজুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। সে সময় সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জাতীয় ছাত্র সমাজ।
ওই সময় ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতাই ছাত্র সমাজে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসাইটে নেতা গোলাম ফারুক অভি, সানাউল্লাহ নিরু, ইকবাল হোসেন রাজু (জাসদ ছাত্রলীগ), নজরুল ইসলাম বাবু (বর্তমানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য), বিএনপি নেতা ইলিয়াস হোসেনসহ অনেকে ছাত্র সমাজে যোগ দিলে পুরো ক্যাম্পাসে এ ছাত্র সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জাতীয় পার্টির নির্বাচনি রাজনীতিতে ভূমিকা রাখলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জায়গা পায়নি ছাত্র সমাজ। এরশাদ পতনের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় সব ছাত্র সংগঠন জাতীয় সমাজকে ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিষয়ে মোটামুটি ঐক্যবদ্ধ ছিল। কিন্তু ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নেওয়ার পর সেই চিত্র পাল্টাতে থাকে।
২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর জাতীয় ছাত্র সমাজের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে ইব্রাহিম খান জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আল মামুন নির্বাচিত হন।