প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৩৯ পিএম
বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নারী জাতির গর্ব আখ্যা দিয়ে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগসহ সব ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
শনিবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা হচ্ছেন নারী জাতির গর্ব। আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সকল ক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ প্রশান, বিচারবিভাগসহ সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছেন নারীরা।’
কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে আওয়ামী লীগকে, মুক্তিযুদ্ধকে বাঁচাতে হবে। দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাঁচিয়ে রাখতে শেখ হাসিনা কোনো বিকল্প নেই।’
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এই সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সাফিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সম্মেলন সজ্ঞালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্ব সমস্যার কারণে এখনো জ্বালানি সংকট রয়েছে। তাই এখনো কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে। তবে লোডশেডিং থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য শেখ হাসিনা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এটাও সমাধান হয়ে যাবে।’
বিএনপির সমালোচনা করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছেন এবং সে সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার বন্ধ করেছেন। তারই ছেলে তারেক জিয়া ২১ আগস্টের মাস্টার মাইন্ড। গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা করেছে তারেক।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ রূপকার ও আমাদের সাহসের ঠিকানা বঙ্গবন্ধুরকন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালের শেখ হাসিনা তার ছোট বোনকে নিয়ে বিদেশে ছিলেন বলেই বেঁচে গেছেন। শেখ হাসিনা যদি বেঁচে না থাকতেন, তাহলে আজ দেশের অবস্থা কী হতো? এতো উন্নয়ন অগ্রগতি কখনো হতো না।’
বিএনপির এখনো টার্গেট শেখ হাসিনা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির টার্গেট শেখ হাসিনা, তারা শেখ হাসিনাকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। শেখ হাসিনার উন্নয়ন দেখে তাদের জ্বালা আর জ্বালা, তাদের অন্তরে জ্বালা শুরু হয়।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতির মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ ত্রিবার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়। দুপুর ৩টার আগে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে উপস্থিত হোন প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা।
এরপর জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এই সময় সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের ৭২টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন করা হয় সম্মেলনের।
মঞ্চে ওঠার পর শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সংগঠনের অন্য নেতারা। প্রধানমন্ত্রীকে পরিয়ে দেওয়া হয় উত্তরীয়।
তার আগে প্রথমে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করার মধ্যদিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রথমে পবিত্র কোরান থেকে তেলওয়াত করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরিন রোকসানা। সংগঠনের সহসভাপতি বনশ্রী বিশ্বাস পবিত্র গীতা পাঠ করেন। সংগঠনের সদস্য বাসন্তি চাকমা ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন। সংগঠনের সদস্য দিপীকা সমারদার বাইবেল পাঠ করেন।
এরপর বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। ৱ
প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা উপস্থিত হওয়ার পর প্রথমে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু হয়, পরে শুরু হয় আলোচনাসভা।