প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:৩৩ পিএম
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সারা দেশে র্যালিসহ ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এক যৌথ সভা শেষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বরের গুরুত্বকে তুলে নিয়ে আসার জন্য আমরা এবার এ দিবসটি ব্যাপকভাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৭ তারিখ আমরা স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত করা হবে। ৮ অক্টোবর বেলা তিনটায় ঢাকায় বর্ণাঢ্য র্যালি করব। ৭ তারিখ বৃহস্পতিবার বলে রাস্তাঘাটে যানজট যাতে না হয়, সেজন্য সেদিন তা না করে ৮ তারিখে কর্মসূচি নির্ধারণ করেছি।’
এ ছাড়া সব বিভাগীয় শহরগুলোতে র্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা হবে বলে জানান বিএনপির মহাসচিব।
৭ নভেম্বরের কর্মসূচি
৬ নভেম্বর ঢাকায় আলোচনা সভা, ৭ নভেম্বর ভোরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব জেলা কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন। বেলা ১১টায় দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
এ ছাড়া বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলো আলাদাভাবে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেবেন বলে জানান মহাসচিব।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর আলোচিত একটি দিন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পালাবদলের এক পর্যায়ে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি হন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)।
নভেম্বরের শুরুতে সেনাবাহিনীতে খালেদ মোশাররফ ও তার অনুসারীরা জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করেন। এরপর ৭ নভেম্বর কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে এক দল সেনাসদস্য জিয়াকে মুক্ত করেন। কার্যত এ দিনেই জিয়াউর রহমানের উত্থান ঘটে, যিনি পরে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।
বিএনপি এ দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এ দিনে সরকারি ছুটি থাকে।
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে এই যৌথ সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অংশ নেন।
যৌথ সভায় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আফরোজা খান রীতা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ ঊর্ধ্বতন ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।