প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:২৩ পিএম
আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪ ১৪:২৫ পিএম
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা। প্রবা ফটো
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার প্রতি জনগণের আস্থার জায়গা নষ্ট করবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)।
সরকারের প্রতি বিশ্বাস রেখে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, অন্তর্বতী সরকারের ভিন্ন কোনও রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা নেই। যিনি এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তিনি পৃথিবী জুড়ে সমাদৃত। তিনি নিজেও বলেছেন , ‘তার রাজনৈতিক ইচ্ছে নেই। আপনারা দায়িত্ব দিয়েছেন সেটি পালন করছি।’
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি অনুরোধ রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশের মানুষ আপনাকে সম্মান দিয়েছেন, দিতে চান। আপনার জায়গা যেন নষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি সার্চ কমিটি ঘোষণা করেছেন। যদিও প্রত্যাশা ছিলো, সার্চ কমিশন গঠন করার আগে রাজনৈতিক দলের গুলোর সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। এমন একটা প্রত্যাশা ছিলো। যাইহোক এটি নিয়ে বড় ধরনের কোনও সমস্যা মনে করছি না।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে সেই সকল শহীদদের শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল। সেইসঙ্গে সকল রাজনৈতিক দল গুলোকে শ্রদ্ধা জানান তিনি, যারা ১৬ বছর ধরে একটা ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন, প্রাণ দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী দল এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এদের চরিত্রের একটি হচ্ছে জঙ্গি, আরেকটি সন্ত্রাস।
ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে খালি হাতে লড়াই করে সাধারণত জয়ী হওয়া যায় না এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, তবে এবার এদেশের ছাত্র-জনতা সেটি প্রমাণ করেছেন, একটি ফ্যাসিজমকে সরিয়ে দিয়ে।
অন্তর্বতী সরকারের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। সেই নির্বাচনে যেন জনগণ ভোট দিতে পারে। নতুন পার্লামেন্ট গঠন করতে পারে। এটা আমাদের প্রত্যাশা। এটাই জনগণ চায়। আমরা জানি, এটা খুব অল্প সময়, এখনও তিনমাস যায়নি। ১৫-১৬ বছরের জঞ্জাল, এই সময়ের মধ্যে দেশে গণতন্ত্রকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। অর্থনীতিকে মুচড়ে দেয়া হয়েছে। ১৭ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে এই আওয়ামী লীগ সরকার। অর্থনীতিকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে, এখন পর্যন্ত মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে চরিত্র তৈরি করেছে, এর বাহিরে গিয়ে কেউ কাজ করে না। খুঁজে পাওয়া যায় না এমন হরফ, ঘুষ খায় না, স্বজনপ্রীতি করে না এমন লোক। শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী ও প্রশাসন সহ সব জায়গায় দুর্নীতি।
রাজনৈতিক সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, রাজনৈতিক সংগ্রাম চলতে থাকে। সংস্কার কার্যক্রম তেমনি চলমান থাকে। আমরা প্রত্যাশা করবো সরকার দ্রুত সংস্কার কমিশন থেকে রিপোর্ট নিয়ে জনগনের সামনে তুলে ধরবেন এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। সব সংস্কার কিন্তু জনগণের দ্বারা স্বীকৃত হতে হবে। এবং জনগণ সেটা মেনে নিতে হবে। জনগনের মতামত ছাড়া কোন সংস্কার দীর্ঘায়িত হবেনা। উপর থেকে ছাপিয়ে দিয়ে কোন কিছুর সফল হয়না।
এনপিপির চেয়ারম্যান ড ফরিদুজ্জামান ফরহাদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ বক্তারা।