প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৪ ১২:৪০ পিএম
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আলোচনা সভায় কথা বলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। প্রবা ফটো
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন মহল থেকে নতুন নতুন ইস্যু সামনে নিয়ে আসায় গোটা সংস্কার এজেন্ডা অনেকটা পিছনে পড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে জাতীয় মতৈক্যের ভিত্তিতে জরুরি সংস্কারসমূহ সম্পন্ন করে সম্ভব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তক্ষেপ করে মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নেওয়া। কিন্তু এই ব্যাপারে এখনও দৃষ্টিগোচর তেমন কোনো তৎপরতা নেই। এখনও নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হয়নি।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আয়োজনে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ৮০দিন: গতিমুখ ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার গঠিত ১০টি সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট চূড়ান্ত করে রাজনৈতিক দলসগুলো সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মতৈক্যের ভিত্তিতে করণীয় নির্ধারণ করার কথা। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন মহল থেকে নতুন নতুন ইস্যু সামনে নিয়ে আসায় গোটা সংস্কার এজেন্ডা এই মুহর্তে অনেকটা পিছনে পড়ে গেছে।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন সে কারণে তাদের উত্থাপিত ইস্যুর পেছনে সরকারের সম্মতি বা সমর্থন রয়েছে কিনা এই প্রশ্ন জোরালোভাবে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষ চরিত্র বৈশিষ্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। আগামী দিনগুলোতে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন যদি বড় হতে থাকে তাহলে রাজনৈতিক দল ও বৃহত্তর রাজনৈতিক সমাজের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব বাড়তে থাকবে; রাজনৈতিক দল ও জনগণের বিপুল সমর্থনের সরকার অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের মধ্যে পড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সরকারের গণতান্ত্রিক রুপান্তরের জরুরি সংস্কারগুলো বাস্তবায়নও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে।
অন্তবর্তী সরকারের ৮০ দিন পার করা সাফল্য ও স্বস্তির উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, জনগণের বিরাট প্রত্যাশার চাপ নিয়ে সরকার পরিচালনায় নানা ঘাটতি ও দূর্বলতা থাকলেও গত ৮০ দিনে দেশের ভংগুর সামষ্টিক অর্থনীতিতে খানিকটা শৃংখলা ফিরে এসেছে, অর্থনীতি কিছুটা সচল হতে শুরু করেছে। গণঅভ্যুত্থানকালে নৃশংস গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিচারে গঠিত ট্রাইবুনাল ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে; ধীর গতিতে হলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে।
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধগতি মানুষকে নাজেহাল করে তুলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জন-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নির্বাচন ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার ছিল জনজীবনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা বিধান করা। এজন্য সরকারের প্রচেষ্টা রয়েছে। কিন্তু বাজার পরিস্থিতি এখনও বেসামাল; দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধগতি মানুষকে নাজেহাল করে তুলছে। জনজীবনে রয়েছে উদ্বেগজনক নিরাপত্তাহীনতা। আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীসহ প্রশাসনকে এখনও পেশাদারি দক্ষতায় কার্যকরি করা যায়নি।
সরকারের বেফাঁস ও আবেগী কথাবার্তায় জনমনে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরী হয়েছে উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি না থাকলেও তাদের মধ্যে রয়েছে সমন্বয়হীনতা, শ্লথগতি, সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার অভাব। গত ৮০ দিনে তাদের নানা বেফাঁস ও আবেগী কথাবার্তায় তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাদের কিছু পদক্ষেপ ও ঘোষণাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ৫ দফা দাবি কোন প্রক্রিয়ায় মীমাংসিত হবে তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যে দাবি উত্থাপন করেছেন ও তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এসব বিষয় কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় মীমাংসিত হবে এটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তারা কি এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্তের জন্য রাজনৈতিক দল ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করবেন, নাকি ঐক্যমতের ভিত্তিতে এসবের সুরাহা হবে? আর এইসব ব্যাপারে জনগণের অভিপ্রায় বা কিভাবে বোঝা যাবে- এইসব প্রশ্নের যৌক্তিক উত্তর প্রয়োজন। তা না হলে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষাবলম্বী রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে বিভক্তি বিভাজনই কেবল বাড়তে থাকবে; বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হওয়ার আশংকা থাকবে। এর সুযোগ গ্রহণ করতে পারে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তিসহ নানা অপশক্তি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাষানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।