প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:৩২ পিএম
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। প্রবা ফটো
দেশে পতিত ফ্যাসিবাদ ও তার দোসররা নানাভাবে সাংবিধানিক সংকট তৈরির পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) সকালে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে জরুরি সাক্ষাত শেষে গণমাধ্যমকে একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘দেশে যাতে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি না হয়, সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে প্রধান উপদেষ্টা রাজনীতিবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।’
নজরুর ইসলাম বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিবাদ এবং তাদের দোসররা নানা কৌশলে নানাভাবে দেশে রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা মনে করে দীর্ঘদিন লড়াই করে বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা যে পরিবর্তন অর্জন করেছি। এই পরিবর্তন সুরক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করা দরকার।’
সব রাজনৈতিক দল শ্রেণী পেশার সংগঠন ছাত্র-যুব সংগঠন সবার দৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলা দরকার জানিয়ে তিনি বলেন, যাতে কেউ কোনোভাবে দেশে নতুন করে সাংবিধানিক সংকট কিংবা রাজনৈতিক সংকট তৈরি করতে না পারে এভাবে সবাইকে হুশিয়ার থাকতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ চালিয়ে আসছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা আলোচনা করছি। দেশের দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে জনগণ যে কষ্ট পাচ্ছে সেটা দূর করার ব্যাপারে সরকারকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালনের কথা বলেছি।
দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বিএনপি এই নেতা বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনের ক্ষেত্র প্রস্তুতের জন্য যে সংস্কার চলছে, সে কাজ জোরদার করার জন্য ঐক্যমতের ভিত্তিতে সেইসব সংস্কার দ্রুত করে নির্বাচনের মাধ্যমে একটা জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠার আলোচনা আমরা করছি।
সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করে ঐক্যমতের ভিত্তিতে সেই সংস্কারগুলোর করার দাবি তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগনের চলমান সংকটগুলো নিরসন করা। এই আন্দোলনের মূল আকাঙ্খা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পতিত স্বৈরাচারের দোষররা যদি কোনো সাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক সংকট করার চেষ্টা করে তাহলে গণতন্ত্রকামী ও আন্দোলনরত রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংগঠন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করবো।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের বিষয়ে কোনো মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্পেসিফিক কোনও ব্যাপার না। আমরা বলেছি দেশে নতুন কোনো সাংবিধানিক বা রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি না হয় সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে। যদি কেউ সেটা করতে চায় সেটাকে আমরা সবাই মিলে মোকাবিলা করবো।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সালাউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে যমুনায় যান।
দেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে এ বৈঠক অনির্ধারিত, তবে তারা বলছেন, চলমান সংলাপের অংশ।