প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:০৫ পিএম
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:১৭ পিএম
হাতিরপুলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গণসংহতি আন্দোলন। ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্র পুনর্গঠনে করণীয় ঠিক করতে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে গণসংলাপ অনুষ্ঠান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে গণসংহতি আন্দোলন।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকালে হাতিরপুলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, আগামী ৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে প্রথম কর্মসূচি পালন করা হবে। এর পর ১৭ অক্টোবর বরিশাল, ১৮ অক্টোবর খুলনা, ১৯ অক্টোবর রাজশাহী, ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম, ২৬ অক্টোবর রংপুর, ১ নভেম্বর সিলেট, ২ নভেম্বর ময়মনসিংহ এবং ২৯ নভেম্বর ঢাকায় গণসংলাপ হবে।
তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান মানুষের ভেতরে রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের যে চাহিদা তৈরি করেছে, রাষ্ট্রকে সংস্কার করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার জন্য জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গণসংলাপ আয়োজন করেছি। আমরা অভ্যুত্থানে সক্রিয় অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।’
সম্মেলনে নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ ছাড়া দলের পঞ্চম সম্মেলন উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সোমবার গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ফলে শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জবাবদিহিতা ও বিচার চাই। শ্রমিক আন্দোলনের ভেতরে কেউ যাতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তাই বলে শ্রমিক আন্দোলন দমন করতে গিয়ে শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের পুরোনো রীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মনে করি, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল থেকেই বর্তমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে যেতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম কাজ হবে গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিশ্চিত করা, আহতদের সম্ভাব্য সব ধরনের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং তাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বিচার করা। ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সেটাই হবে প্রথম পদক্ষেপ। এসব বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে আমরা আরও সুনির্দিষ্ট, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার এবং জনগণের কাছে তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানাচ্ছি।
আসন্ন দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায় যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারে সেজন্য সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায় গণসংহতি আন্দোলন।
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দীন পাপ্পু, কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভুঁইয়া, জুলহাসনাইন বাবু, দীপক রায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলিফ দেওয়ান, মিজানুর রহমান মোল্লা, মনিরুল হুদা বাবন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।