প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২১:৩৯ পিএম
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২৩:৩৩ পিএম
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যে বিভাজন, বিভক্তিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা। সেই সঙ্গে দেশের ইতিহাসের বাঁকবদলের এ সন্ধিক্ষণে জনআকাঙ্ক্ষার নতুন দেশ গড়ে তুলতে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে জানান তারা।
রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ারের সই করা বিবৃতিতে ওই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটে। সাড়ে ১৫ বছরের দুর্নীতি, লুটপাট, দুঃশাসনের অবসানের পর দেশের জনগণ নতুন দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে। জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রের যে সংস্কারের দাবি উঠেছে তা বাস্তবায়নে অভ্যুত্থানের সব পক্ষ, সব অংশীজনের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের বিকল্প নেই।
এতে বলা হয়, কিন্তু সফল অভ্যুত্থানের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নানান বিভাজন, বিভক্তির চর্চা শুরু হয়েছে। কোনো কোনো ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে। বিদ্বেষমূলক, হিংসাত্মক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার এবং তাদের গৃহীত সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর হামলা এবং হেনস্থা করা হয়েছে। মাজার, মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বিভিন্নভাবে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। কোনো কোনো পক্ষ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিজদের অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের দাবি করে জনগণের ঐক্যের ভিত্তি দুর্বল করার চেষ্টা করছে। যারা ঐক্য বিনষ্ট করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে, ঘৃণা এবং বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, অসহিষ্ণু, হিংসাত্মক এবং আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে।
বিবৃতিতে সই করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাড. হাসনাত কাইয়ূম।