প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৪:২৮ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৫:৩৩ পিএম
তৎকালীন সরকারপ্রধান ও সরকারি দলের যোগসাজসেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড হয়েছিল বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর কয়েকটি কমিশন করলেও সেগুলোর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। সেনাবাহিনীর ইনকোয়ারির রিপোর্টটিও অন্ধকারে রয়ে গেছে। বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্দেশ্যে এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল।’
মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মেজর হাফিজ বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। কমিশন গঠন করতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নতুন করে তদন্ত করার উদ্যোগ নেওয়ায় তাকে ধন্যবাদ।’
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বসহ অনেকেই জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর নৈতিক বল ভেঙে ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে এই হত্যাকাণ্ড। শাকিল সেনাপ্রধানের কাছে সাহায্য চাইলেও পাঠাননি তিনি। বিদ্রোহের কথা শুনলে বিদ্রোহ দমন করা সেনাকর্মকর্তার দায়িত্ব। সেনাবাহিনী হত্যাকাণ্ডের পরপরই সাঁজোয়া যানসহ মিলিটারি অ্যাকশনে যাওয়ার কথা থাকলেও সেনাপ্রধান ৪৬ ব্রিগেড কমান্ডার করতে দেয়নি। সরকারপ্রধানের ভূমিকাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘জেনারেল মঈনের কারও কাছ থেকে কোনো নির্দেশের প্রয়োজন ছিল না, তারপরও ব্যবস্থা নেয়নি। সেনাবাহিনীর মনোবল ধ্বংস করতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগের সরকার বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।’
মেজর হাফিজ বলেন, ‘শেখ হাসিনা অফিসারদের নিয়ে বৈঠক করলে সেখানে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করা ৫০-৬০ জন অফিসারকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তাদেরকে সেনাবাহিনীতে পুনর্বহালের আহ্বান জানাই। পুনঃতদন্ত সঠিকভাবে করতে বিএনপি সহযোগিতা করবে।’
আওয়ামী লীগ প্রতিবেশী দেশের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে দলীয়করণ এমনভাবে করেছে যে, জেনারেলরা কথা বললে যেন ছাত্রলীগের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছে। সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করার প্রাথমিক পদক্ষেপ বিডিআর হত্যাকাণ্ড। দেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংসে যেসব দল, দেশ ভূমিকা নিয়েছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।