প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ২২:৩৮ পিএম
শনিবার রাজধানীর পল্টনে ফেনী সমিতি অডিটোরিয়ামে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষকে শ্রমিকের অধিকার লঙ্ঘন না করতে এবং তাদের সঙ্গে ইনসাফপূর্ণ আচরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, রাসুল (সা.) শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সচেষ্ট ছিলেন। তিনি শ্রমিকের অধিকারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের হকের ব্যাপারে বারবার সতর্ক করেছেন। শ্রমিকের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
শনিবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনের ফেনী সমিতি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদের অধিবেশন ও জেলা-মহানগরী সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আ.ন.ম শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন, ফেডারেশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, গোলাম রব্বানী, লস্কর মো. তসলিম, কবির আহমদ, মাস্টার শফিকুল আলম ও মনসুর রহমান প্রমুখ। সম্মেলনে ১৩টি প্রস্তাবনা গৃহীত হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের কেন্দ্র করে অনেক শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে উঠেছে। এই সংগঠনের নেতারা শ্রমিকদের কষ্ট ব্যথা বেদনার খবর জানেন। কিন্তু গতানুগতিক ধারার শ্রমিকনেতারা শ্রমিকদের দুর্দশা কীভাবে দূর করতে হবে সে সম্পর্কে ওয়াকিফহাল নন। বরং শ্রমিকদের পুঁজি করে কীভাবে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে হবে তা ভালো করে জানে। ফলে শ্রমজীবী মানুষরা প্রতি যুগে এই সমস্ত ট্রেড ইউনিয়ন ও নেতৃত্বের কাছে বারবার প্রতারিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। আল্লাহ মানবজাতিকে ন্যায় ও ইনসাফের বিধান দিয়েছেন তা যদি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতি পালন করা হয় তাহলে শ্রমিকের দুঃখ ব্যথা বেদনা দূর হবে। ইনসাফের মানদন্ডে ওপর যার যার প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, একজন শ্রমিক যখন দেখবে তার শ্রমের ন্যায্য মূল্যায়ন করা হয়েছে তখন শুধু দেহের শক্তি নয় মনের শক্তি যুক্ত হবে। এতে উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে যাবে। এতে কার্যত মালিকরা শ্রমিকদের থেকে বেশি লাভবান হবে। অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়ন মালিক-শ্রমিকের সংঘাত লাগাতে চায়, আমরা এটা চাই না।
তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমিক ময়দানে একটি বিপ্লব ঘটাতে চাই। এই বিপ্লবের জন্য প্রত্যেকটি কর্মীকে নিজের চিন্তা ও কর্মের জগতে আমূল পরিবর্তন তথা বিপ্লব ঘটাতে হবে। আমরা যদি নিজের মাঝে বিপ্লব ঘটাতে পারি তাহলে আমরা শ্রমিক অঙ্গনে প্রত্যাশিত বিপ্লব ঘটাতে পারব। আমরা হবো মর্যাদার অংশীদার। কিন্তু ঐ বিপ্লব যদি না ঘটে তাহলে এই সমাজে আমাদের কারো মর্যাদা থাকবে না। আমরা যে যেখানে যে অবস্থায় থাকি না কেনো সকলে অপদস্থ ও অপমানিত হবো। সকলে বারবার প্রতারিত ও বঞ্চিত হবে।