প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৪ ২২:৩৮ পিএম
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান আহমেদসহ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিবর্ষণে নিহতদের হত্যার দায় চাপিয়ে হত্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি।
শুক্রবার (২৩ আগস্ট) জাসদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সিলেট জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান আহমেদসহ জাসদের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী, পূর্ববর্তী সরকার সমর্থিত অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণে নিহতদের হত্যার দায় চাপিয়ে হত্যা মামলা করা হয়েছে।
জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি মনে করে, হাসানুল হক ইনু ও লোকমান আহমেদসহ জাসদের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা আইনসম্মত ও যুক্তিযুক্ত নয়। জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চায় যে, দেশে দীর্ঘদিনের দ্বি-মেরুকৃত বিভাজিত রাজনীতিতে হাসানুল হক ইনু বা দলগতভাবে জাসদ একটি রাজনৈতিক পক্ষে, একটি রাজনৈতিক মেরুতে অবস্থানে থাকলেও, জাসদ কোটা সংস্কার ছাত্রআন্দোলনের শুরু থেকে এই আন্দোলন ও আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে কোনো বক্তব্য, বিবৃতি প্রদান করেনি। বরং আন্দোলন থামাতে বলপ্রয়োগ না করে আলোচনা করে কোটা সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, ১৬ আগস্ট পুলিশের গুলিতে রংপুরের আবু সাঈদ নিহতসহ প্রতিটি হত্যাকান্ডের নিন্দা এবং তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হত্যা মামলায় হাসানুল হক ইনু ও লোকমান আহমেদসহ জাসদের নেতা-কর্মীদের যে সময়ে সংঘটিত হত্যার ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে সে সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর উপর কোনো তাদের কর্তৃত্ব ফলানোর কোনো সুযোগই ছিল না। কিংবা তৎকালীন সরকার সমর্থিত অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসীদের উপর তার কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ছিল না। কারণ হাসানুল হক ইনু, লোকমান আহমেদ কখনই তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক নেতা ছিলেন না। তাদের যতটুকু রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ বা দায় তা তাদের নিজ দল জাসদের উপর বা জাসদের নেতা-কর্মীদের উপর ছিল এবং আছে। জাসদের কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা দেশের কোথায়ও কোটা প্রশ্নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আন্দোলনের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেয়নি। তাই জাসদের কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নাম হত্যা মামলায় যুক্ত করার আগে প্রাথমিক তদন্ত করার জন্য পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫টি হত্যা মামলায় জাসদ নেতাদের আসামি করা হয়েছে বলে জাসদ সূত্র জানিয়েছে।