× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ক্ষমতার দম্ভ

আওয়ামী লীগের বিপর্যয়ের বড় কারণ কাদের

দীপক দেব

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৪ ০৯:২০ এএম

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৪ ১৮:৫৭ পিএম

অলঙ্করণ প্রবা

অলঙ্করণ প্রবা

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর সম্প্রতি সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে টানা চতুর্থ মেয়াদে রাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসা এই দলকে। সংগঠনটির নীতিনির্ধারক নেতারা কিংবা কোনো ফোরাম এই পরিণতির কারণ অনুসন্ধান ও মূল্যায়ন করছে কি না, তা জানা যায়নি। তবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়, মধ্য ও নিচের সারির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথোপকথনে জানা গেছে, দলটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী ওবায়দুল কাদেরের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা এ পরিণতির একটি বড় কারণ। সেতু মন্ত্রণালয়ে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে দুর্নীতির সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে বলেও অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

আওয়ামী লীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা গত রবিবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ক্ষমতার দম্ভ ও শিষ্টাচারবহির্ভূত অসংলগ্ন বক্তব্য দিয়ে ওবায়দুল কাদের শুধু সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করেননি, ভুল পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে পুরো আওয়ামী লীগের জন্য বিপর্যয় ডেকে এনেছেন। দলীয় পদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত ও এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় দলটির অন্য নেতাদের দেওয়া অনেক সৎ পরামর্শ উপেক্ষা করেছেন। কর্মীবান্ধব মনোভাব না থাকায় তারাও থাকতেন সাধারণ সম্পাদক থেকে অনেক দূরে। সাধারণ সম্পাদক পদে টানা তিন মেয়াদে মনোনীত হওয়ার পর ক্ষমতাকে কুক্ষিগত ও একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষত, বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতিতে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে দেওয়া বক্তব্য ও কঠিন চ্যালেঞ্জের সময় তার বিনোদনমূলক কথাবার্তা এবং আচরণ দলের জন্য বড় সংকট হয়ে উঠেছিল। সহজ পরিস্থিতিতে দেখা দেওয়া সমস্যাকেও তিনি জটিল রাজনৈতিক করে তুলতেন; সমস্যাকে ‘বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখা তার স্বভাবে পরিণত হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় দুই নেতা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, বিরোধী দলের নেতাদের উপেক্ষা করে দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ আওয়ামী লীগকে সংকটে ফেলে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামীতে দলীয় কোনো নীতিনির্ধারণমূলক ফোরামে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা কিংবা মূল্যায়ন করা হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই কাদেরের এসব বিষয় আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী ফোরামে তুলে ধরবেন বলে জানান দলটির দুই নেতা।

শক্তিপ্রয়োগকে উৎসাহিত করেন সাধারণ সম্পাদক

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক রবিবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গত ১৫ বছর একটানা ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার মধ্যে অবিশ্বাস্য দম্ভ দেখা দিয়েছিল। যার সবচেয়ে বেশি বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে দমিয়ে রাখার কৌশলে সফল হওয়ায় সবকিছুকে তুচ্ছ জ্ঞান করতে থাকেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের যৌক্তিক আন্দোলনকেও তিনি ভুল কৌশলে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং একের পর এক ভুল পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতিকেই নিয়ন্ত্রণহীন করে ফেলার রসদ জোগান।’

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাই শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই দলীয় ফোরামে বিষয়টিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু ওবায়দুল কাদের ও তার কয়েকজন সমর্থক নেতা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে না গিয়ে শক্তিপ্রয়োগের পথকে উৎসাহিত করেন। এমনকি ছাত্রলীগকে আন্দোলনকারী তো বটেই, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেন। একের পর এক ভুল কৌশল অবলম্বন করে তিনি ছাত্রলীগকে লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস করে তোলেন। এভাবে এ আন্দোলন থেকে সরকার পতনের এক দফা দাবির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পটভূমি তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা। 

অভিযোগ রয়েছে, ওবায়দুল কাদেরের রোষানলে পড়ার ভয়ে ইচ্ছা থাকলেও অন্য কোনো নেতা দলীয় সভাপতির কাছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার যুক্তি তুলে ধরতে পারেননি। ছাত্রলীগকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে মনে করেন দলটির অনেক নেতা। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশও মনে করেন, দলীয় পদে থেকে স্বেচ্ছাচারী আচরণের মধ্য দিয়ে ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দলের জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছেন। এতে দল ও দলের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের মর্যাদা এতই ক্ষুণ্ন হয়েছে যে তা পুনরুদ্ধার করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। 

আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতার মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে ভুল বোঝাবুঝির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তা সমাধানের পথে নিয়ে যেতে আলোচনার প্রস্তাব দিতে দলীয় সভাপতিকে বোঝাতে ওবায়দুল কাদেরকে অনুরোধ করেছিলেন নেতাদের অনেকেই। কিন্তু সেই পথে না হেঁটে গত ১৫ জুলাই দলের সহযোগী সংগঠন ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের দিয়ে তিনি আন্দোলন মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেন। ওই বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে কদের বলেছিলেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত যেসব শিক্ষার্থী নিজেদের ‘রাজাকার’ বলে স্লোগান তুলেছে, তাদের মোকাবিলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগই যথেষ্ট। তার এমন অসহিষ্ণু মনোভাবের বহিঃপ্রকাশের পরদিন ১৬ জুলাই রাজপথের চেহারা পাল্টে যায়। ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলাও সর্বস্তরের মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। 

জিজ্ঞাসাবাদে যা বলছেন সাবেক আইনমন্ত্রী

ইতোমধ্যেই গণমাধ্যমে খবর এসেছে, আটক হওয়ার পর সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ১০ দিনের রিমান্ডের প্রথম দিন গত বুধবারের জিজ্ঞাসাবাদে দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির জন্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ওপর দোষ চাপিয়েছেন। 

জিজ্ঞাসাবাদে আনিসুল হক বলেছেন, ‘দেশে ছাত্র আন্দোলন শুরু হওয়ার পর আমি একটি সমাধানের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। আন্দোলন দমনে তারা খুবই অ্যাগ্রেসিভ ছিলেন।’

দলীয় ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেন ওবায়দুল কাদের 

দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক আহ্বান করা হলেও দলের নেতাদের কথা বলার সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কাদেরের বিরুদ্ধে। যৌথ সভা, মতবিনিময় সভা আহ্বান করলেও নিজের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়েই সভার সমাপ্তি ঘটাতেন তিনি। তার এ আচরণে কেন্দ্রীয় কমিটির অধিকাংশ নেতাও তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিলেন। ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আহ্বান করে কাউকে কথা বলার সুযোগ দেননি তিনি। এ কারণে ওই দিন কাদেরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক ছাত্রনেতারা। এ সময় তাকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ স্লোগানও দেন অনেকে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছিলেন, ‘ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা তাকে উচিত শিক্ষা দিয়েছেন।’

কয়েকজন নেতা জানান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক থাকার সময় তৎকালীন এক নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ অধিকাংশ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কেবল সৈয়দ আশরাফ মিডিয়ার সামনে আসতেন। এভাবে তিনি নিজেকে এবং এ পদটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। কিন্তু কারণে-অকারণে প্রতিদিন গণমাধ্যমে এসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ পদটিকে ওবায়দুল কাদের খুব খেলো জায়গায় নিয়ে গেছেন। কোনো রাজনৈতিক শিষ্টাচার না মেনে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতাদের কটাক্ষ করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েও তিনি এ পদটিকে ছোট করেছেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় চালানোর সময়ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের অপমান, অপদস্থ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে কটাক্ষ করে পাল্টা প্রশ্ন করে সাংবাদিকদেরও ক্ষুব্ধ করে তোলেন তিনি। 

দলে চালু করেছেন প্রটোকল সংস্কৃতি 

আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়েও প্রটোকল বাহিনীর সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি দলীয় কার্যালয়ে এসে গাড়ি থেকে নামলেই এক শ্রেণির কর্মীরা তাকে ঘিরে ধরে নিয়ে যেত। ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা, এমনকি কেন্দ্রীয় কমিটির অনেকেও এই বাহিনীর উচ্ছৃঙ্খল আচরণে বিব্রত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওবায়দুল কাদেরের প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়ে সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা নেতাকর্মীরাও এই প্রটোকল বাহিনীর রোষানলের মুখে পড়তেন। জরুরি প্রয়োজনেও তারা দলের সাধারণ সম্পাদকের দেখা পেতেন না। তাদের রোষানল থেকে বাদ যাননি গণমাধ্যমকর্মীও। কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকজন জানান, ওবায়দুল কাদেরের পরোক্ষ প্রশ্রয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যেও প্রটোকল সংস্কৃতি চালু হয়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।

লাগামহীন কথাবার্তায় বিপদ বেড়েছে দলের

আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই অভিযোগ করেছেন, বক্তব্যের মধ্যে ক্ষমতার দম্ভ দেখানো ওবায়দুল কাদেরের সংস্কৃতি হয়ে উঠেছিল। বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের কটাক্ষ করে ‘ভুয়া’, ‘মাঠ আমাদের, খেলোয়াড় আমাদের, রেফারি আমাদের, খেলা হবে’, ‘গণঅভ্যুত্থানের রঙিন খোয়াব উবে গেছে’Ñ এমন সব সস্তা ও অরাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে সাধারণ সম্পাদকের পদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছেন তিনি। 

জানা গেছে, দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে গণভবনে পেশাজীবীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর হারুনুর রশিদ পরামর্শ দিয়েছিলেন, ওবায়দুল কাদেরকে পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগের অন্য কাউকে মুখপাত্র করা হোক। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ওবায়দুল কাদেরের কথা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করছে না।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মতে, ওবায়দুল কাদের দলের মধ্যে কাউকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ না দেওয়ার কারণে ভালোভাবে সংগঠন গোছাতে পারেনি আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ঢাকা মহানগরে দলের অবস্থা অতীতের যেকোনো সময়ের থেকে দুর্বল। সাম্প্রতিক আন্দোলনের সময়ও তা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। 

মন্ত্রী পদের সুবিধা নিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা 

মন্ত্রী থাকা অবস্থায় ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে সরাসরি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া না গেলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার ভাগবাঁটোয়ারাকে কেন্দ্র করে ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছিলেন ছোটভাই কাদের মির্জা। অভিযোগ রয়েছে, ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে পুরো বিআরটিএ নিয়ন্ত্রণ করতেন কাদের মির্জা। অন্যদিকে রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতেন ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী। কাদেরের বোনের ননদের ছেলে আলী হায়দার রতন ভাগনে পরিচয় দিয়েও অনেক কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন। 

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিপর্যয়ের মুখে পড়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করতে হলে দলের সর্বস্তরের ত্যাগী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সাবেক ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন করে ৭৫ বছরের পুরোনো এই রাজনৈতিক দলকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা