× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিডিআর বিদ্রোহ

সেনা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি মেজর হাফিজের

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৪ ২০:১৪ পিএম

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৪ ২০:৪৫ পিএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ছবি : সংগৃহীত

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সেনা তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। শনিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশ থেকে তিনি এই দাবি জানান।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে শুক্রবার শপথ নিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর। তার নেতৃত্বে একটা ইনকোয়ারি (তদন্ত) হয়েছিল বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে। তিনি সঠিকভাবে কারণ এবং সমাধান বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি।’ আমরা চাই, এ রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।’

তিনি বলেন, ‘বিডিআর এ মেধাবী চৌকস সেনা অফিসারদের পোস্টিং দেওয়া হয়েছিল। এদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দেখছি এ হত্যাকাণ্ডের যে বিচার হচ্ছে দীর্ঘসূত্রিতা, ভেরি স্লো। এভাবে কেয়ামত পর্যন্ত এর বিচার শেষ হবে না।’

অতি দ্রুত প্রয়োজন লাগলে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল করে যাদের যাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছে প্রত্যেককে ঝুলিয়ে দেন। তাহলে নিহতদের আত্মা শান্তি পাবে বলে জানান তিনি।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস) এর সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। এর মধ্যে তৎকালীন বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদকেও হত্যা করা হয়ে ছিল।

এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সেনাবাহিনী থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে ইনকোয়ারি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তিনি তদন্ত প্রতিবেদন জমাও দিয়েছিলেন। বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার পর সে বাহিনী পুনর্গঠন করে নাম বদলে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) করা হয়।

ভারতকে সতর্ক করলেন হাফিজ 

ভারতের প্রসঙ্গ টেনে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভারতকে বলতে চাই, আপনারা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতা করেছেন, সেজন্য আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। লড়াই করেছেন, আমাদের পাশাপাশি যুদ্ধে করেছেন কিন্তু এদেশের প্রভু হওয়ার চেষ্টা করবেন না, জনগণের বিপক্ষ হওয়ার চেষ্টা করবেন না।’

ভারতে আশ্রিত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ইতিহাসের সবচাইতে বড় ঘাতক। কত মায়ের বুক খালি করেছেন তিনি। আমরা আজকে মুক্তিযোদ্ধাদের এই সভা থেকে দাবি করব, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে। ভারতকে বলব, যদি বন্ধুত্ব করতে চান, তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান।’

‘নিকৃষ্ট নির্বাচন কমিশন’ 

তিনি বর্তমান নির্বাচন  কমিশনকে (ইসি) নিকৃষ্টতম প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ভোট ডাকাতি করে এতদিন আওয়ামী লীগকে বহাল রেখেছে তারা। কী ধরনের ইলেকশন কমিশন এরা,  এখনও তারা কী করে থাকে?’

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা কেউ নির্বাচিত নয় উল্লেখ করে তিনি তাদের সব নিয়োগ বাতিলের দাবি জানান। 

শেখ হাসিনার নামে ক্যান্টনমেন্ট বাতিলের দাবি 

হাফিজ ‍উদ্দিন বলেন, সেনাবাহিনী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কী করে অপেক্ষায় ছিলাম। ২ আগস্টে বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধানকে আমি একটা এসএমএস পাঠিয়েছিলাম। সেখানে বলেছিলাম জনগণের সঙ্গে থাকতে এবং বিপ্লবে যোগ দিতে। তবে আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম কিন্তু মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে সরানোর ব্যাপারে সঠিক ভূমিকা রেখেছে। সেজন্য আমি তাদের অভিবাদন জানাই। আমাদের দাবি স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার নামে যে ক্যান্টনমেন্ট করা হয়েছে অবিলম্বে তা বাতিল করতে হবে।’

বিগত কয়েকটি নির্বাচনে সাবেক সেনাপ্রধানরা ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে যেভাবে তোষামোদী করেছেন তার কঠোর সমালোচনাও করেন তিনি।

ছা্ত্র-জনতার ওপর পুলিশের গণহত্যার নির্দেশদাতা শেখ হাসিনার বিচার ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা দল এ সমাবেশ ও আলোচনা সভা করে।

সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা দলের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এগুলো হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিচার, ভুয়া ৫০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল, জামুকা (জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল) বাতিল, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সব শহীদের জাতীয় বীর ঘোষণা এবং আহতদের চিকিসার ব্যয়ভাব রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন এবং অস্বচ্ছল পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা প্রদান।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, ফজলুর রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল হক নুর, এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব নঈম জাহাঙ্গীরসহ মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা