প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৪ ১২:১৩ পিএম
আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৪ ১৩:২৬ পিএম
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এলডিপি প্রেসিডেন্ট কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম। প্রবা ফটো
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ডক্টর কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, সর্বসাধারণের উদ্দেশে বলতে চাই, স্বৈরাচারের পতনের পর জাতি-ধর্ম-বর্ণ-রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর মগবাজারে এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
কর্নেল অলি বলেন, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ নতুন সরকারের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা। তার ওপর অর্পিত নির্বাহী দায়িত্ব পালনে সফলতার আশা ব্যক্ত করি।
এলডিপি প্রেসিডেন্ট বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের এবং তাদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর ইত্যাদি রাষ্ট্রে সাজাপ্রাপ্ত ও বহিষ্কৃত বাংলাদেশি ভাইদের মুক্তি ও পুনর্নিয়োগ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
২০০৯ সাল থেকে যারা উপযুক্ত প্রমাণাদি ছাড়াই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা তুলে নিতে হবে এবং যারা গ্রেপ্তার ও বন্দি হয়েছেন তাদের অবিলম্বে মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রাক্তন সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীসহ সরকার কর্তৃক অপহৃত, নিহত ও গুম করা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। স্বতন্ত্র তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
১৯৯৬ সালের পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় যে অবৈধ ও অযৌক্তিক সংযোজন করা হয়েছে তা বাতিল করতে হবে এবং ওইসব মুক্তিযোদ্ধার পোষ্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ বাতিল করতে হবে।
স্বৈরাচারী ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধ করতে হবে।
স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অভিযুক্ত ও পলাতক ব্যক্তিকে উপযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করতে হবে। তাদের অবৈধ সম্পদ জব্দ করতে হবে এবং বিদেশে পাচার করা সম্পদ প্রত্যর্পণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাতে হবে।
বাংলাদেশের স্থল, জল বা বিমান বন্দর দিয়ে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি যাতে পলায়ন করতে না পারে বা অপরাধীরাও অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া মাত্র শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।
ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য একটি স্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে।
কমপক্ষে পরবর্তী চারটি জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী থেকে প্রজাতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠানে (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ) শীর্ষ নির্বাহী পদে কোনো ব্যাক্তি সর্বোচ্চ দুবারের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।
নিম্নোক্ত বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নিতে হবে—
সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবিলম্বে নিজ নিজ দায়িত্বে ফেরার অনুরোধ করছি।
প্রয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে পুনর্নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।
ডিজিএফআই ও অন্যান্য আটককেন্দ্রকে আত্মসমর্পণকারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
সব অবৈধ অস্ত্র সাময়িকভাবে নিকটস্থ আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হবে।
২০০৯ সাল থেকে ইস্যু করা সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করতে হবে, যা তদন্ত সাপেক্ষে পুনর্বহাল করা যেতে পারে।
অর্থনীতি পুনর্জীবিত করতে সর্বসাধারণের প্রতি আবেদন জানিয়ে কর্নেল অলি বলেন, বন্দর, কাস্টমস এবং সব সরকারি সেবা দ্রুততম সময়ে পুনরায় স্বাভাবিক করুন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে গার্মেন্টসসহ সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানাই।
প্রবাসী কর্মীদের বৈধ পন্থায় রেমিট্যান্স পাঠানোর উদাত্ত আহ্বান জানাই।