প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১৮:১২ পিএম
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১৯:৩২ পিএম
‘সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গেছে’ মন্তব্য করে সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরিক জোট গণতন্ত্র মঞ্চ।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোড়ে নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চের নতুন সমন্বয়কারী নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘যে বাধার বিন্দাচল ছিল, যে ভয়ের পাহাড় ছিল, যে ভয়ের চাদর ছিল ওগুলো চলে গেছে। যেভাবে লড়াই করছে শিক্ষার্থীরা, যেভাবে লড়াই করছে শিক্ষকরা, গুণিজন, মুরুব্বিরা, আইনজীবীরা, সাংবাদিকরা…সবাই যেরকম করে নেমেছে তাতে এ সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজেছে।’
মান্না আরও বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, এই পরিস্থিতি ওরা (সরকার) গায়ের জোরে মোকাবিলা করতে পারবেন না। বাংলাদেশের টোটাল ফোর্স নামানো হয়েছে মুভমেন্ট যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে। থামাতে তো পারেননি। সরকার সব রকম নির্যাতন করবার পরেও পারেনি এই আন্দোলন বন্ধ করতে। এই আন্দোলন বাড়ছে, আন্দোলন আরও বাড়বে। গণতন্ত্রমঞ্চ তার সঙ্গে শুরু থেকে ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে; যতক্ষণ পর্যন্ত এই সরকারের পরাজয় না হয়।’
সরকারের উদ্দেশে মঞ্চের নতুন সমন্বয়কারী বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে বলেছি, তোমরা অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছ, নির্বাচন করছ না। অতএব নির্বাচন না করে ক্ষমতায় থাকতে গেলে আরও বল প্রয়োগেই তোমাকে ক্ষমতায় থাকতে হবে। একদম চূড়ান্ত নিষ্ঠুরতা-হত্যাকারীর জায়গায় পৌঁছাবার আগেই ক্ষমতা থেকে চলে যাও।’
‘আমাদের আজকে একই আবেদন, এখনও হয়তো সময় আছে… আমি বলছি, এখনও হয়তো সময় আছে পদত্যাগ করও। তারপরে দেশ কীভাবে চলবে সেটা এদেশের জনগণ বুঝবে। তোমরা জনগণের দুশমনে পরিণত হয়েছ, তোমরা জনগণের জন্য কিছু করতে পারবে না। বোধ-বুদ্ধি যদি এখনও থাকে তাহলে জনগণের কথা শুনে, দেয়ালের কথা শুনে পদত্যাগ করেন। যত তাড়াতাড়ি পদত্যাগ করবেন ততই ভালো,’ বলেন মান্না।
এ সময় অবিলম্বে কারফিউ প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।
মান্না বলেন, ‘এই আন্দোলন কেবল কোটার আন্দোলন নয়, এটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলন, এখন সরাসরি এসব হত্যার বিচার চায়, ওই সমস্ত মন্ত্রী যারা গুলির নির্দেশ দিয়েছেন, উসকে দিয়েছেন ছাত্রলীগকে তাদের পদত্যাগ চাই দল থেকে এবং সরকার থেকে। খোদ প্রধানমন্ত্রী সমস্ত হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে যাতে জনগণের কাছে ক্ষমা চান, সেজন্য তারা (শিক্ষার্থীরা) দাবি করেছে। এগুলো মানতে হবে।’
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘সরকারের মধ্যে দেখছেন এক ধরনের গৃহদাহ শুরু হয়েছে। গতকাল সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদককে (ওবায়দুল কাদের) নিজের দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে ভুয়া ভুয়া শুনে সভাস্থল তাকে ত্যাগ করতে হয়েছে। তার মানে হয়তো আমরা আগামীতে এই ধরনের অনেক ঘটনা দেখব।’
সংবাদ সম্মেলনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হাসনাত কাইয়ুম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বক্তব্য দেন।