× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের

আইনগত দিক দেখেশুনে শিগগিরই পদক্ষেপ

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৪ ২০:০৫ পিএম

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৪ ২০:২২ পিএম

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভায় কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। ছবি : সংগৃহিত

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভায় কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। ছবি : সংগৃহিত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের ১৪ দলীয় জোটের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ আছে। এখন এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে সরকার। নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া কী হবে, সেটা আইনগত দিক দেখেশুনে সরকার শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। কারণ আমরা আইনগত দিকটি ভালোভাবে দেখে নিতে চাই। যাতে কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে এ অপশক্তি আর কোনো সুযোগ না পায়।



মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভায় এসব কথা বলেন তিনি। শোকের মাস আগস্টের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঠিক করতে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এ বৈঠক করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

গত সোমবার গণভবনে ১৪ দলের বৈঠকে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে জানানোর কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে নেতারা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জামায়াতের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সময় দেওয়া আদালতের রায় বিবেচনা করে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধে ১৪ দল সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখানে দলের (আওয়ামী লীগ) কেন্দ্রীয় নেতারা আছেন। জামায়াত নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাদের কারও সংযোজন-বিয়োজন, সংশোধন থাকলে তারা বলবেন। সংযোজন-বিয়োজন বা সংশোধন দরকার।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, বীর ‍মুক্তিযোদ্ধা ও নাগরিক সমাজ দাবি করে আসছে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে একাত্তরে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির গঠিত গণআদালত ও পরবর্তীতে গণজাগরণ মঞ্চের দাবিও ছিল জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার।

তিনি বলেন, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে হাইকোর্টের রায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত বহাল রেখেছেন। দেশের গণপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না থাকলে কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন নজির আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে জার্মানিতে হিটলারের নাৎসি বাহিনী রাজনীতি করতে পারে না।

কাদের বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আদালতে জামায়াতকে দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ আছে। দলটি ধর্মের মুখোশ পরা সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। নানা সময়ে তাদের ধারা প্রকাশ্য ও গোপনে নানা অপতৎপরতা ও নাশকতা, ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। দেশের জনগণও সেটা জানে।

সরকার অসহায় শিক্ষার্থীদের আটক ও নির্যাতন করছে; বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যকে নির্লজ্জ মিথ্যাচার বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করছে। আমাদের জানামতে, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে আটক করা হচ্ছে না। নিরীহ ও সাধারণ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হয়, প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগ নিজেদের আচার-আচরণে দায়িত্বশীলতাকে গুরুত্ব দেয় দাবি করে তিনি বলেন, গণগ্রেপ্তারের নামে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে অপরাধী সাব্যস্ত না হয়, গ্রেপ্তার না হয়, সেই ব্যাপারে আমাদের দলের সিদ্ধান্ত রয়েছে। কোনো নিরিহ ব্যক্তিকে কোনো অবস্থায় হয়রানি করা যাবে না। গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেশি দেখানোর জন্য কেউ যাতে অতি-উৎসাহী হয়ে নিরপরাধ কাউকে না ধরে। এটা যাতে কোনো অবস্থায় না হয়, সেই ব্যাপারে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলের কাছে সবাই নিরপরাধ, সবাই অসহায়। তাহলে প্রশ্নÑ এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাল কারা। কারা অগ্নিসংযোগ করল, রাষ্ট্রের সম্পদ ভস্মীভূত করল। বাংলাদেশে নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ কারা করেছে। আজকে কথায় কথায় সরকার ও আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করা হয়। আমি পরিষ্কার বলতে চাইÑ এ ঘটনাপ্রবাহে আমরা আক্রান্ত, আক্রমণকারী ছিলাম না। এখন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের হাতে অস্ত্র ছিল না। আজকে অনেকেই বলে আওয়ামী লীগের লোকজন কম ছিল, অনুপস্থিত ছিল। আমি বলতে চাই, দলীয় লোকজনকে অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত হয়ে কোথাও অবস্থান নিতে বলিনি। আমরা তো আক্রান্ত হয়েছি। নিরস্ত্ররা সশস্ত্রদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছি।

এ সময় সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি স্থাপনার কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাহলে কারা এই নারকীয় বর্বরতার আশ্রয় নিয়েছে? তাদের সঙ্গে আপনি (ফখরুল) জাতীয় ঐক্য করছেন। যারা কারাগারের অস্ত্র লুট করেছে, তারা কি আপনার বন্ধু ও দোসর। সেজন্য আজকে ইগনোর করছেন।

মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। কোথা থেকে নির্দেশ এসেছে, উস্কানি এসেছে, কোথায় কোথায় বৈঠক করেছেন, অর্থ জুগিয়েছেন, কোন কৌশলে অর্থ পাঠিয়েছেন; সেটা আমরা জানি। সকল ষড়যন্ত্র এখন জাতির কাছে দিবালোকের মতো স্পষ্ট। মিথ্যার বেসাতি করে, আবোল-তাবোল বলে জাতিকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নেই।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম প্রমুখ। সভায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা ছিলেন।

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা