প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৪ ১৫:৩৪ পিএম
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৪ ১৮:৩১ পিএম
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক। ছবি : সংগৃহীত
বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ী করে অবিলম্বে তাকে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। সোমবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর তোপখানা রোডে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চের নেতা বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এ দাবি জানান।
কোটা আন্দোলন দমনে নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে গণতন্ত্র মঞ্চ আগামী ৩১ জুলাই বেলা ১১টায় ঢাকার পুরানা পল্টন মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সাইফুল হক বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সব দল ও জোটসহ গণতন্ত্র মঞ্চ সারা দেশে ধারাবাহিক কর্মসূচি করবে। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের একটি ন্যায্য আন্দোলনে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পথে না গিয়ে সরকার ছাত্র-জনতার হত্যাকাণ্ডসহ নাশকতার যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে তার দায়-দায়িত্ব সরকার ও সরকারি দলের। আমরা সরকারকে জনগণের জানমালের এ বিপুল ক্ষয়ক্ষতির দায়-দায়িত্ব নিয়ে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ‘সরকার হত্যা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন-নিপীড়ন, মিথ্যাপ্রচারের যে পথে হাঁটছে এই পথে এই সংকটের সমাধান নেই। সংকট উত্তরণে সরকারকে রাজনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নিতে হবে। তা নাহলে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষায় সরকারকে বিদায় দেওয়া ছাড়া দেশের মানুষের নিজেদের রক্ষার আর কোনো উপায় থাকবে না।’
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নে ছাত্র-জনতার হত্যাকাণ্ডসহ সামগ্রিক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিসহ ছয় দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানায় গণতন্ত্র মঞ্চ।
অন্যান্য দাবিগুলো হচ্ছে, দ্রুত কারফিউ প্রত্যাহার, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবিসহ বিশেষ বাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া; ইন্টারনেট পুরোপুরি চালু, গণমাধ্যমের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপ প্রত্যাহার; আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপরে গুলি, হত্যার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা; গ্রেপ্তারদের বিরোধী নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তি; গোয়েন্দা বাহিনী কর্তৃক তুলে নেওয়া আন্দোলনকারী নেতাদের মুক্তি এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু ও ঢাকা সারা দেশে ব্লক রেইড বন্ধ করা।
সাইফুল হক বলেন, ‘সরকার ও সরকারি দলের যাবতীয় উসকানি ও নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা এড়িয়ে গণতন্ত্র মঞ্চ ছয় দফার দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণভাবে গণ-আন্দোলন এগিয়ে নেবে। আমরা দেশের সব গণতন্ত্রকামী ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও শ্রেণি-পেশার সংগঠন এবং মুক্তিকামী দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই আন্দোলন এগিয়ে নিতে উদাত্ত আহ্বান জানাই।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নজিরবিহীন নৃশংসতায় দমন করতে যেয়ে তারা (সরকার) যে বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। তাকে আড়াল করতে কথিত ইন্ধন ও নাশকতার অজুহাতে এখন সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলকে দমনের অভিযান চলছে। সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পথে না যেয়ে কারফিউ এর ছত্রছায়ায় বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযানের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশকে ভয়াবহ বিপর্যয় ও গভীর অনিশ্চয়তায় নিক্ষেপ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যেভাবে কেবল বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এই গণ-আন্দোলন দমন করতে চেয়েছে তাতে এটা স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে, জনগণের ভেতরে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বলতে আর কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই। সরকার ও সরকারি দল কার্যত জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইতিহাস বার বার প্রমাণ করেছে জাগ্রত জনতার সামনে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ চিরকালই পরাজিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জনগণের বিজয় হয়েছে।’
‘সরকার, তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনের নামে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টারে গুলিবর্ষণ করে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তার বেশির ভাগই আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার-নিপীড়ন, রিমান্ডে নিয়ে গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে নির্মমভাবে নির্যাতন, কোটা আন্দোলনেরর পাঁচ সমন্বয়কারীকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন ও জোর করে আন্দোলন সমাপ্তি টানার ঘোষণা দেওয়াসহ সরকারের নির্মমতার নিন্দাও জানান সাইফুল হক।
তিনি জানান, গতকাল পর্যন্ত সাড়ে ১২ হাজার বিরোধী নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১৯ জুলাই গণতন্ত্র মঞ্চের মিছিলে পুলিশি হামলার ঘটনায় মঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুসহ নেতৃবৃন্দ গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন সাইফুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, ইমরান ইমন, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, মোফাখখারুল ইসলাম নবাব, জেএসডির শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, একেএম জামির, গণসংহতি আন্দোলনের আবুল হাসান রুবেল, ভাসানী অনুসারি পরিষদের আবু ইউসুফ সেলিম, বাবুল বিশ্বাস, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।