বিএনপির ঢাকা মহানগর ও যুবদল
বাছির জামাল
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৪ ১১:০৪ এএম
ফাইল ফটো
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি সামনে রেখে আবারও রাজপথে সংগঠিত হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এরই মধ্যে ঢাকায় এক দিন এবং মহানগর ও জেলা শহরে দু্ই দিনসহ তিন দিনের কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। বিএনপির নীতিনির্ধাকরা জানিয়েছেন, সামনে আরও কর্মসূচি আসবে। আগামী সোমবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ কথা জানা গেছে।
নতুন করে আন্দোলন বেগবান করতে সংগঠন পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ঈদুল আজহার আগে যুবদল ও ঢাকা মহানগর বিএনপিসহ একাধিক ইউনিটের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এর পর ১৫ দিনের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও নতুন কমিটি দেওয়া হয়নি। দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চূড়ান্ত না হলেও বিলুপ্ত কমিটিগুলো প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। শেষ পর্যায়ের ঘষামাজা শেষ করে কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। সে ক্ষেত্রে আগে দেওয়া হতে পারে ঢাকা মহানগরের দুই কমিটি, এরপর যুবদল এবং চট্টগ্রাম ও বরিশাল মহানগর কমিটি। আবার একসঙ্গেও এসব ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কমিটি কয়েকদিনের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে। কমিটি তো প্রস্তুত করাই আছে তাহলে ঘোষণা করা হচ্ছে না কেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হতে পারে। তবে আমার কাছে কমিটি নেই। হাইকমান্ড যখন আমার কাছে দেবেন, তখন আমি তা জানিয়ে দেব।’
গত ১৩ জুন বিএনপি দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ চারটি মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। অন্য দুটি কমিটি হলো চট্টগ্রাম ও বরিশাল মহানগর। একই সঙ্গে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।এ ছাড়া বিলুপ্ত করা হয় ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটিও। এরপরই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ৪৫ নেতাকে বিভিন্ন পদে রদবদল করে নতুনভাবে পদায়ন করা হয়। অনেক নেতার যেমন পদোন্নতি হয়েছে, তেমনি কারও কারও পদাবনতিও হয়েছে।
দলের দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা বলেছেন, ঈদুল আজহার পরই বিলুপ্ত ইউনিটগুলোতে নতুন কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ঈদের পর দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় কমিটিকেন্দ্রিক তৎপরতা ঝিমিয়ে পড়ে। তা ছাড়া অপেক্ষাকৃত তরুণদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা রয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের। শেষ মুহূর্তে দলের কয়েকজন নেতা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ায় কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়েও কমিটি ঘোষণা পিছিয়ে যায়।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, তরুণদের নেতৃত্বে ঢাকার দুই মহানগরকে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মহানগরের সিনিয়র নেতারাও নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুক। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগও করছেন তারা। একটি প্রভাবশালী অংশ তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, শুধু তরুণদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে ঢাকা মহানগরে আন্দোলন সংগঠিত করায় বেগ পেতে হবে। বিষয়টি তারা হাইকমান্ডকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। বিকল্প হিসেবে সিনিয়রদের যোগ্যতা অনুযায়ী মূল দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হলে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে ঢাকা মহানগরের সাধারণ কর্মীদের প্রত্যাশা হচ্ছেÑ ঢাকা মহানগরে যারা রাজনীতি করেন, তাদেরকেই যেন দুই কমিটির নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়।
ঢাকা উত্তরের নেতৃত্বে যারা আসতে পারেন
সম্প্রতি কারামুক্ত যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও উত্তর বিএনপির বিদায়ি কমিটির সদস্য সচিব সাবেক ফুটবলার আমিনুল হকÑ এই দুজনের নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে মহানগর উত্তরের নতুন কমিটির দুই শীর্ষ পদে। শুরুতে আমিনুলের সভাপতি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকলেও নীরব কারামুক্ত হওয়ায় কমিটি ঘিরে নতুন এই সমীকরণ তৈরি হয়েছে। নীরবের সঙ্গে এরই মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফোনে কথা বলেছেন। তা ছাড়া যুবদলের সাবেক এই সভাপতিকে ঘিরে প্রভাবশালী একটি অংশও জোরালোভাবে মাঠে নেমেছে। তা ছাড়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবের নামও উত্তরের শীর্ষ পদে সম্ভাব্য নেতা হিসেবে যুক্ত হয়েছে। অবশ্য বিদায়ি কমিটির মূল নেতাদের রেখেই মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের জোরালো দাবি রয়েছে। যুবদলের সাবেক সহসভাপতি এস এম জাহাঙ্গীরের নাম শোনা যাচ্ছে। এদের বাইরে সাধারণ সম্পাদক পদে বিদায়ি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, এ জি এম শামসুল হক, আতাউর রহমান চেয়ারম্যান, মোস্তফা জামান, আক্তার হোসেন এবং উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম কফিল উদ্দিন আহমেদের নাম আলোচনায় রয়েছে। উত্তরের বিদায়ি কমিটির দপ্তরের দায়িত্ব পালন করা সদস্য এ বি এম এ রাজ্জাকও পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। বিদায়ি কমিটির সিনিয়র সদস্য তাবিথ আউয়ালের নামও আলোচনায় রয়েছে।
দক্ষিণের নেতৃত্বে যারা আসতে পারেন
বিএনপির কাছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। নীতিনির্ধারকরা জানান, এই ইউনিটের অধীনেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অবস্থান। এই কার্যালয়ের সামনের সড়কেই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ সভা-সমাবেশ হয়। তাই এই কমিটি গঠনের সময় অনেক বিষয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে মাথায় রাখতে হয়।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কমিটির দুই শীর্ষ পদে শুরু থেকেই বিদায়ি কমিটির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু ও যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ রবিনের নাম উচ্চারিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি বিদায়ি কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবীকে ঘিরে দলের একটি প্রভাবশালী অংশ জোরালো তৎপরতা শুরু করেছে। খোকাপন্থি হিসেবে পরিচিত নবী উল্লাহর মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নবী উল্লাহ ও মজনুকে দিয়েও নতুন কমিটি গঠন করা হতে পারে। এদের বাইরে দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হামিদুর রহমান হামিদ ও বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র সদস্য ইশরাক হোসেন ও দলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সহসম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলের নামও আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রশিদ হাবিবের নামও উচ্চারিত হচ্ছে। তবে হাবিবের নাম যুবদলের শীর্ষ দুই পদেও শোনা যাচ্ছে।
যুবদলের কমিটিতে যারা আসছেন
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন যুবদলের নতুন কমিটি গঠনেও তারুণ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেদিক থেকে যুবদলের নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদপ্রত্যাশী হিসেবে বিদায়ি কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন এগিয়ে রয়েছেন। মুন্নার দীর্ঘদিন কারাভোগ করাটাও র্শীষ পদে যাওয়ার ক্ষেত্রে ‘প্লাস পয়েন্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে সারা দেশে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মুন্না কারাগারে আটক থাকায় যুবদলের পক্ষে রাজপথে আন্দোলন সংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন নয়ন। এ ছাড়া সভাপতি হিসেবে বিদায়ি কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে। শীর্ষ পদের দৌড়ে বিদায়ি কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারও রয়েছেন। যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানেরও সম্ভাবনা রয়েছে।