দীপক দেব
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৪ ০৮:৫৯ এএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৪ ০৯:০৪ এএম
আওয়ামী লীগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার অন্তর্গত থানা ও ওয়ার্ডের প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেন্দ্র থেকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পর গত জুন মাসে উত্তর ও দক্ষিণ শাখার পক্ষ থেকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই জমা দেওয়া প্রস্তাবিত কমিটিতে পদবাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছেন বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানার নেতারা।
অভিযোগকারী নেতারা বলছেন, প্রস্তাবিত কমিটিতে দলের দুর্দিনের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত, চিহ্নিত অপরাধী, মাদক কারবারি, মামলার আসামি, রাজাকার পরিবারের সন্তান ও হাইব্রিড নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা বলছেন, বিষয়গুলো বিভিন্ন ধরনের তথ্যপ্রমাণসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত কমিটির অনুমোদন না দিয়ে বিতর্কিতদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ত্যাগী নেতারা।
দুই নেতাকে নিয়ে যত আলোচনা ২০ নং ওয়ার্ডে
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের অন্তর্গত ২০ নম্বর ওয়ার্ড রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলে এখন তুমুল আলোচনা চলছে এই ওয়ার্ডের প্রস্তাবিত কমিটির দুই নেতাকে নিয়ে। এলাকায় অনুসন্ধান করে জানা গেছে, শাহবাগ থানার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রস্তাবিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হাসান মাহমুদ ১৯৯২ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদলের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ ইউনিট কমিটির নেতা ছিলেন। ২০০৮ সালের পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। প্রস্তাবিত কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত শাহজালাল সোহেল কখনও দলের কোনো কমিটি বা পদে ছিলেন না। ২০০১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত প্রবাসে থাকা সোহেল দেশে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হন। অভিযোগ রয়েছে, ক্যাসিনোকাণ্ডেও তিনি যুক্ত ছিলেন। মাদক মামলার আসামিও তিনি।
এদিকে শাহবাগ থানায় সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে মোহাম্মদ শহীদের নাম। এ নাম প্রস্তাব নিয়েও চলছে ব্যাপক বিতর্ক। ক্ষুব্ধ অভিযোগকারীরা জানাচ্ছেন, শহীদের আপন ভাই মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও নাশকতা মামলার আসামি।
প্রস্তাবিত কমিটি প্রসঙ্গে ২০ নং ওয়ার্ড সভাপতি মোনোয়ার হোসেন মনু প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘শাহবাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার কমিটিতে শীর্ষ নেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে বিএনপির আলোচিত নেতা চৌধুরী আলমের সহযোগী যুবদল নেতা হাসান মাহমুদ ও এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সোহেলের নাম! সবার প্রশ্ন, ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে এমন বিতর্কিতদের নাম কেন প্রস্তাব করা হয়েছে? এদের মতো লোককে নেতা বানালে শুধু আমি কেন, দুঃসময়ে সক্রিয় ছিলেন এমন অনেকেই রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘থানা সভাপতি হিসেবে শহীদের মতো নারী নির্যাতন মামলার আসামি, যার ভাই আবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরের নেতা, তার নাম কীভাবে প্রস্তাব করা হয়? বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।’ কমিটি নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে দলীয় সভাপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তৃণমূলের এই প্রবীণ নেতা।
৯ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিতর্কিত মাদক ব্যবসায়ী
মতিঝিল থানার অন্তর্গত ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে প্রস্তাব করা হয়েছে শাহিনুর রহমান শাহীনের নাম। যার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কয়েকটি মামলা চলমান। ক্যাসিনো ব্যবসায় সম্পৃক্ত শাহীন বেশ কয়েকবার জেলও খেটেছেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে ওয়াহিদুর রহমান চৌধুরী ওয়াহিদের নাম। তিনি দলের দক্ষিণ শাখার সভাপতি মন্নাফীর ছেলে আহমেদ ইমতিয়াজ আহমেদ গৌরবের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। গৌরবের সঙ্গে সমঝোতা করে ওয়াহিদ পদ বাগিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় একাধিক নেতা।
রাজধানীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পল্টনের প্রস্তাবিত কমিটি নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। পল্টন থানা কমিটিতে ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডের জন্য কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত মোস্তাবা জামান পপিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া এই থানার অন্তর্গত ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে আ ফ ম ইফতেখার রহমান জয়ের নাম। মাদকের মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধেও।
সভাপতি পদের জন্য ১০ লাখ টাকা!
এদিকে পুরান ঢাকার ওয়ার্ডগুলোর প্রস্তাবিত কমিটির অবস্থাও প্রায় একই। ঢাকা-৬ ও ঢাকা-৭ এর অন্তর্গত বিভিন্ন ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ জায়গায় পদবাণিজ্যের মাধ্যমে বিতর্কিতদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-৭ আসনের অন্তর্গত হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত এক ওয়ার্ডের সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘নগরের এক শীর্ষ নেতার ভাগনে আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, সভাপতি পদে বহাল থাকতে চাইলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় প্রস্তাবিত কমিটিতে আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’
৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে সভাপতি হিসেবে সদরঘাট এলাকার বিতর্কিত ব্যক্তি জাবেদ হোসেন মিঠুর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ সদরঘাট এলাকার বিভিন্ন অপরাধকাজে অভিযুক্ত মিঠুর বিরুদ্ধে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ ছাপা হয়েছে। মিঠুর নানা অপকর্মের তথ্যসংবলিত লিখিত অভিযোগপত্র দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে এরই মধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্ব পেয়েছে ‘মাই ম্যান পলিটিক্স’
৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে কোতোয়ালি থানা ছাত্রলীগের সদ্যসাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির রায়হান সজলের নাম। ‘মাই ম্যান’ রাজনীতিকে প্রাধান্য দিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পোড় খাওয়া নেতাদের বাদ দিয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে তার মতো ‘২৭-২৮ বছর বয়সি একজনের নাম’। গত ২৫ জুন আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দক্ষিণ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের আলোচনার সময় সাব্বিরের নাম প্রস্তাব নিয়ে এ অভিযোগ করেন ওয়ার্ডের এক নেতা।
৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রস্তাবিত কমিটি নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ করা হয়েছে, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে মো. হোসেনকে সভাপতি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুখলাল লেনের কাগজি তলার ৭০ নম্বর হোল্ডিংয়ের স্থায়ী বাসিন্দা। পদ পাওয়ার জন্য ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের আরএম দাস লেনের ৩৮ নম্বর হোল্ডিং থেকে নতুন ভোটার হলেও সেই বাসায় তিনি কখনও থাকেন না। অতীতে ওয়ার্ড কমিটির কোনো পদে না থাকলেও দক্ষিণ শাখার সভাপতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে সভাপতি হিসেবে মো. হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া গত কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতির কারণে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে গত কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও ৪৪ কাউন্সিলর মিজানুর রহমান ইমনের ছোট ভাই রেজওয়ান উদ্দিন সায়মনের নাম। অভিযোগ রয়েছে, নগরের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর ছেলে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গৌরবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ইমন এলাকায় পরিচিত।
শান্তি কমিটি নেতার ‘মামাতো-ফুপাতো ভাই কমিটি’
অভিযোগ পাওয়া গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ৪৫ নং ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যাদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, তারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পরিবারের সদস্য। ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনের বই ‘শান্তি কমিটি ১৯৭১’-এর ২৮৮ নম্বর পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে, শরাফতগঞ্জ ইউনিয়ন শান্তি কমিটির নেতা গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। আর এই গিয়াস উদ্দিন হচ্ছেন কমিটির প্রস্তাবিত সভাপতি হাসান আসকরির আপন মামা এবং প্রস্তাবিত সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহার আপন চাচা। অর্থাৎ প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্পর্কে আপন মামাতো-ফুপাতো ভাই। তারা পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দাও। এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে প্রস্তাবিত সভাপতি হাসান আসকরির বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শামসুজ্জোহা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন এই এলাকায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর। অনেকেরই অভিযোগ, অতীতে কখনও আওয়ামী লীগের রাজনীতি না করলেও সরাসরি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রস্তাবিত হওয়ার পেছনে রয়েছে ‘পদবাণিজ্যের মধু’। শিবু ঘোষ নামে আওয়ামী লীগের এক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার স্ট্যাটাসে প্রস্তাবিত এ দুজনকে ‘রাজাকারের পিওর সন্তান’ আখ্যা দিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ
কেন্দ্রের কাছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর ছেলে, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী গৌরবের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ওয়ার্ড শাখার সভাপতি হিসেবে। অন্যদিকে লালবাগ থানার সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে কাউন্সিলর মকবুল হোসেনের নাম। যিনি দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের ভাই। আবার হুমায়ুন কবিরেরই আপন ভাগনে বখতিয়ার হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। এ থেকে অনেকেই অভিযোগ করছেন, দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংগঠনকে পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে যোগ্যতা থাকলে পদ পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। সব দলেই এমন নজির আছে।’ কমিটি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো শুধু প্রস্তাব দিয়েছি। এই পুরো কমিটিই যদি পুরোপুরি বাতিল করে নতুন কমিটি দেওয়া হয়, তাতেও আমাদের কিন্তু কোনো আপত্তি নেই। ৭৫টা ওয়ার্ড ও ২৪টা থানায় প্রার্থী হাজার হাজার। কেন্দ্র থেকে যাচাই-বাছাই করে যাকেই দেওয়া হোক, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। বাণিজ্য, অবাণিজ্য নিয়ে যার যা কথা আছে, কাদের ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলুক। কাদের ভাই এসব অভিযোগ যাচাই করে যাদের নেতা বানিয়ে আমাদের স্বাক্ষর করতে বলবেন, আমরা তাদের ব্যাপারে আপত্তি করব না, স্বাক্ষর দিয়ে দেব। যাচাই-বাছাই করে কাদের ভাই চূড়ান্ত করে দিলে পদবাণিজ্যের সব অভিযোগও বাতিল হয়ে যাবে।’
উত্তরের কমিটি নিয়েও নানা অভিযোগ
দক্ষিণের মতো উত্তরের কমিটি নিয়েও নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পদবাণিজ্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অডিওটিতে ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা আকবর আলী পদ পেতে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। কথোপকথনে উত্তরের সভাপতিকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকারও করতে শোনা গেছে। এর আগেও খোদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একে অপরের বিরুদ্ধে পদবাণিজ্যের অভিযোগ তুলে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা মহানগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কর্নেল (অব.) ফারুক খান বুধবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কমিটি দেওয়ার আগে ঢাকা মহানগরের নেতাদের কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। শুনেছি কমিটি আমাদের পার্টির সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা দিয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কেউ যোগাযোগ না করলেও থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অনেকেই যোগাযোগ করে অনেক কিছু বলেছেন। তিনি বলেন, অতীতে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের দলের ত্যাগী ও দুঃসময়ের নেতাদের মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছিলাম। আর ঢাকা মহানগরের কমিটি দেওয়ার বিষয়টি যেহেতু নেত্রী (শেখ হাসিনা) দেখেন তাই দেখা যাক কী হয়।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের কমিটি নিয়ে কেউ আমার সঙ্গে কোনো আলাপ করেননি। বিষয়গুলো নিয়ে দলীয়ভাবে বসা হবে। তখন এসব নিয়ে কথা বলব।’
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হন এসএম মান্নান কচি। অন্যদিকে দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন যথাক্রমে আবু আহমেদ মন্নাফী ও মো. হুমায়ুন কবির। মহানগরের বর্তমান এই কমিটির মেয়াদ ২০২২ সালে শেষ হয়েছে। মহানগরের নেতারা ২০২১ ও ২০২২ সালে উত্তরের ২৬টি থানা ও ৬৪টি ওয়ার্ড এবং দক্ষিণের ২৪টি থানা ও ৭৫টি ওয়ার্ডসহ ইউনিট কমিটিগুলোর সম্মেলন সম্পন্ন করেন। কিন্তু সম্মেলন শেষ হলেও কমিটি দিতে পারছিলেন না দায়িত্বশীল নেতারা। এ অবস্থায় কেন্দ্রের বারবার তাগাদার পর গত জুনে প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেয় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ।