× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কালো সাদা করতে ৫০% কর আদায়ের দাবি জিএম কাদেরের

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৪ ২২:৫৫ পিএম

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। ফাইল ফটো

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। ফাইল ফটো

প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে কালো টাকা (অপ্রদর্শিত অর্থ) সাদা (বৈধ) করার জন্য ১৫ শতাংশ কর দিয়ে যে সুযোগ রাখা হয়েছে তা অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী করবে বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)।

বাজেট পাস হওয়ার আগের দিন শনিবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে জিএম কাদের দাবি তুলেছেন অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ না দেওয়ার। তিনি বলেছেন, তবে সুযোগ দিলে সেক্ষেত্রে ৩০ শতাংশের বেশি, অন্তত ৫০ শতাংশ কর আদায়ের বিধান যেন রাখা হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের আপসহীন নীতি (জিরো টলারেন্স) কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জিএম কাদের বলেন, বড়-বড় ব্যবসায়ী– যারা বিপুল অংকের কর ফাঁকি দেন, তারা ভুল করে কর ঠিকমতো দেননি, এটা সম্পূর্ণ ভূল। ভুল করে যারা আয়কর দেন না, তার ধরা পড়েন ও খেসারত দেন। যারা ইচ্ছা করে ফাঁকি দেন, তারা হিসাব-নিকাশ করেই তা করেন। সেজন্যই তারা ধরা পড়েন না। সমস্যা হলো– স্বাভাবিকভাবে বৈধ আয়ের ওপর করের হার বিভিন্ন স্তরে ভিন্নতর করলেও সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ। সেখানে অবৈধ আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিলেই বৈধ হওয়া যেমন অনৈতিক, তেমন যুক্তিসঙ্গত নয়।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ খুব বেশি মানুষ গ্রহণ করবে না। রাজস্ব আদায়ে কোনো ভূমিকা রাখবে না। অবৈধ আয়কে দায়মুক্তি দিয়ে আইনসিদ্ধ কখনও করা হয়নি। অসৎ ব্যক্তিরা সরকার পরিবর্তনের ভয়ে নিজের দুর্নীতির খবর প্রকাশ করতে সাহস করত না। পরবর্তী সরকার এলে সমস্যা হতে পারে– এ আশঙ্কা ছিল। কালো টাকার মালিকরা অবৈধ অর্থের মুনাফা চান না, তারা অর্থের নিরাপত্তা চান। এভাবে দায়মুক্তি দিলে দুর্নীতি উৎসাহিত হবে।

তিনি বলেন, কোভিড মহামারির প্রকোপ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি কারণে বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের অর্থনেতিক মন্দার আঘাত হেনেছে। অনেক উত্তরণে সক্ষম হয়েছে। অনেক দেশ উত্তরণের পথে অগ্রসরমান। বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন। আমাদের অর্থনীতি প্রতিদিন নিম্নগামী।বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ঘাটতি, টাকার বিনিময় হারের পতন, সীমিত রপ্তানির প্রবৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ক্রমবর্ধমান সুদের হার, উচ্চ নন-পারফরমিং ঋণ, সরকারের সংকুচিত আর্থিক ক্ষমতা, এডিপি ব্যয়ের হ্রাস, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংক ঋণের ওপর অতি নির্ভরশীলতা, বিদেশি বিনিয়োগের পতন, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি হ্রাস বড় কারণ।

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এ বছরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অনেক বেশি সংকটময় বলা যায়। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশা আমলে নিয়ে সে অনুযায়ী দিক-নির্দেশনা বা উদ্যোগ এ বাজেটে নেই। সবগুলো না হলেও কিছু কিছু সমস্যা বাজেটে চিহ্নিত করার প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু বাজেট প্রণয়নে বরাদ্দ, রাজস্ব আহরণে যে কর প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে করে চিহ্নিত সমস্যাসমূহ সমাধানের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যা বাড়বে।

ব্যাংক ঋণ নির্ভর বাজেট উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, ব্যাংক খাতের যে খারাপ অবস্থা তার প্রধান কারণ খেলাপি ঋণ। এ বিষয়ে অতিসম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ব্যাংক ঋণ খেলাপি হওয়ার আগের ধাপ ওভারভিউ বা মেয়াদোত্তীর্ণ। আর চলতি ২০২৪ সালের মার্চে খেলাপি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। খেলাপির সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ ধরলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমান দাড়ায় ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা