প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৪ ১৫:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪ ১৬:২১ পিএম
সরকার জনগণের টাকা খরচ করে ভারতকে ট্রানজিট, বন্দর ও বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তাই ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে রাষ্ট্র সরকার আন্দোলন।
বুধবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর তোপখানা রোডের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে সংবাদ সম্মেলন করছি বাংলাদেশের মাফিয়া সরকারের এবং ইন্ডিয়ার ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে।’
শুধুমাত্র ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া পররাষ্ট্রনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন মন্তব্য করে হাসনাত কাইয়ূম আরও বলেন, ‘ট্রানজিট যদি দিতেই হয় তাহলে সেটা হতে হবে ট্রান্স-এশিয়ান কানেকশনে যুক্ত সব দেশের সঙ্গেই, একে অপরকে দেওয়ার মাধ্যমে। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটা দেশকে ট্রানজিট দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের বিপক্ষে নিয়ে যাওয়ার নামান্তর; যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।’
সদ্য ভারত সফরের নানা দিক নিয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধের পরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ফেরত যাওয়া নিয়ে যে ভাষায় কথা বলেছেন, সে ভাষায় কথা বলে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা রাজাকাররা এবং পাকিস্তানিরা। উনার এরূপ বক্তব্য স্পষ্ট বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বেইমানি বলে মনে করি আমরা।’
সংগঠনের রাজনৈতিক সমন্বয়ক ফরিদুল হক বলেন, ‘ইন্ডিয়া অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক বিকাশকে রুদ্ধ করতে চায়। কারণ দক্ষিণ এশিয়াকে একটা পিপলস ফেডারেশন ইউনিয়নে পরিণত করার ক্ষেত্রে স্বাধীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু ইন্ডিয়া তা হতে দিতে চায় না। এজন্যই সার্ককে তারা অকার্যকর করে রেখেছে। এজন্যই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামরতদের অর্থাৎ আমাদের, ভারতীয় পত্র-পত্রিকায় ইসলামিক মৌলবাদী হিসেবে হাজির করা হয়। অন্যদিকে ভোটারবিহীন, দিল্লির বরকন্দাজ অবৈধ হাসিনা সরকারকে গণতান্ত্রিক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।’
লিখিত বক্তব্যে সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার সংবাদ সম্মেলনে যেভাবে ইউরোপের মধ্যে ‘ফ্রি যাতায়াতের’ উদাহরণ দিয়েছেন, সেটা তো কোনোভাবেই ভারত-বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। সেখানে যাতায়াত হয় সম-মর্যাদার দুটা দেশের মধ্যে এবং সেখানে এক দেশ আরেক দেশকে কাঁটাতার দিয়ে ঘিরেও রাখে না, আরেক দেশের বাহিনী সেই কাঁটাতার পেরিয়ে এসে আরেক দেশের নাগরিকদের গুলি করে মারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারত রাষ্ট্র একদিকে আমাদের কাঁটাতারে ঘিরে রেখেছে, আমাদের সীমানার ভেতরে ঢুকে আমাদের গুলি করে মারছে। অন্যদিকে উনি (প্রধানমন্ত্রী) তাদের করিডোর দিয়ে এসে জনগণকে ইউরোপের উদাহরণ দিচ্ছেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক বিকাশের জন্য, তথা রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য, দিল্লির গোলাম হাসিনা সরকারের অপসারণের কোনো বিকল্প নাই।’
‘সেই অপসারণের পথ ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে। আর একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে চলা কোনো রাষ্ট্রের ওপর এই রকম দেশবিরোধী চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া যায় না কিংবা তেমনি কোনো সরকারও চাইলে আগ্রাসী শক্তিকে সেই সুযোগ করে দিতে পারে না। তাই এই মাফিয়াদের বিরুদ্ধে এবং তাদের সমর্থনকারী সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের লড়াইয়ের পথ শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক সংগ্রাম তথা রাষ্ট্র সংস্কারের রাজনীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া,’ যোগ করেন ইমরান ইমন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান রিজু, ঢাকা জেলা সমন্বয়ক শাহাবুদ্দিন কবিরাজ লিটন, রাষ্ট্র সংস্কার যুব আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মাশকুর রাতুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দপ্তর সমন্বয়ক এহসান আহমেদ, দ্বীন ইসলাম, ইয়াকুব হোসেন প্রমুখ।