মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৪ ১৭:১০ পিএম
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৪ ১৭:২৫ পিএম
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ফটো
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো হবে। তার চিকিৎসায় দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল শনিবার (২২ জুন) রাতে নেওয়া সিদ্ধান্তের বিষয়ে আজ মেডিকেল বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শুক্রবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক একিউএম মহসিনসহ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়ার দেখভাল করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসায় তারা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিকেল বোর্ডের এক সদস্য জানান, খালেদা জিয়ার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল। অর্থাৎ তার হৃদযন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। রক্ত চলাচল সঠিকভাবে সঞ্চালন করতে পারেনি। এজন্য তাকে দ্রুত গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে আনা হয়।
এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের মতোই আছে। মেডিকেল বোর্ডের সভাগুলোতে লন্ডন থেকে তার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকছেন।
তিনি বলেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ম্যাডামের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করে তাৎক্ষণিক যা করণীয় সেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’
চিকিৎসা-সংক্রান্ত সূত্রমতে, ৭৯ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপারসন আর্থরাইটিস, হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। এবারের আগে ২ মে তাকে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। তখন খালেদা জিয়া সিসিইউতে দুই দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে গত বছরের ৯ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। বাসায় ফেরেন এ বছরের ১১ জানুয়ারি। তখন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতে পরিবার থেকে সরকারের কাছে আবেদন করা হলেও আইনি জটিলতায় অনুমতি মেলেনি।
এমন পরিপ্রেক্ষিতে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসনের রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার করা হয় গত বছরের ২৭ অক্টোবর। যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকায় এসে এই অস্ত্রোপচার করেন।
দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী হন। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দী ছিলেন তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাজা ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছিল। তখন থেকে ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছে সরকার।