প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৪ ২০:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪ ২২:২৯ পিএম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দ্বিপক্ষীয় সফরে আগামী ২১ জুন ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগদানের পর আবারও দেশটিতে যাচ্ছেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এমএম ইমরুল কায়েস শুক্রবার (১৪ জুন) প্রতিদিনের বাংলাদেশকে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সফরে ২১ জুন দিল্লি যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২২ জুন তিনি দেশে ফিরে আসবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নতুন সরকারের মন্ত্রীদের কারো কারো সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। তবে সফরের কর্মসূচি এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। তাই সফরসূচিতে কী কী থাকছে তা এখনই সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র বলছে, দ্বিতীয় দফায় দিল্লি সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর দিল্লি নাকি বেইজিংয়ে হবে তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ছিল। এই আলোচনার মধ্যেই ভারতের নির্বাচন চলাকালে গত মে মাসে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। সে অনুযায়ী জুনের ২১ থেকে ২৩ তারিখের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতিও নিচ্ছিল ঢাকা। এর মধ্যে নরেন্দ্র মোদি তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং তার নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার আমন্ত্রণ জানান। বঙ্গবন্ধুকন্যাও সে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ৯ জুন মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম বিদেশ সফর করেন জার্মানিতে। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি দেশটিতে অনুষ্ঠিত মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে যোগ দেন। বহুপক্ষীয় ফোরামের বাইরে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে গত এপ্রিলের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী ব্যাংককে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর করেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়াকে সৌজন্য সফর হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তবে এর দিন দশকের মাথায় ফের সরকারপ্রধান দিল্লি যাবেন কি নাÑ তা নিয়ে সংশয় ছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, পরবর্তী সুবিধাজনক সময়ে প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন। কিন্তু দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের বেলায় সবই সম্ভব, যার নজির হচ্ছে এই স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই প্রধানমন্ত্রীর আবারও দিল্লি সফরের এই সিদ্ধান্ত।
এদিকে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরে নিয়ে যেতে মরিয়া হয়ে ওঠে দেশটি। গত রমজানের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফর করার একটা প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে জুলাইয়ে চীনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন সরকারপ্রধান। সবকিছু ঠিক থাকলে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেইজিং সফরে যাবেন।