বাজেট প্রতিক্রিয়া
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৪ ১৯:৫৩ পিএম
আপডেট : ০৬ জুন ২০২৪ ২০:৩৪ পিএম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ফটো
২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটকে ‘শুধু গণবিরোধী নয়, বাংলাদেশবিরোধী বাজেট’ বলে বর্ণনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জাতীয় সংসদে বাজেট পেশের পর বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকালে রাজধানীর গুলশানে দলীয় চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পুরো বাজেটটাই দেখবেন মেগা প্রজেক্ট, মেগা চুরি ও মেগা দুর্নীতির জন্য করা হয়েছে। সুতরাং এ বাজেট কেবল তথাকথিত গণবিরোধী বাজেট বলব না, বাংলাদেশবিরোধী বাজেট।’
সাংবাদিকদের কাছে বাজেট প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিএনপি বলেন, ‘এটা তো লুটেরাদের দেশে পরিণত হয়েছে। সরকার লুটেরাতে পরিণত হয়েছে। লুটেরা সরকার আবারও লুট করার জন্য এ বাজেট দিয়েছে। নতুন করে লুট করার পরিকল্পনা করেছে। তথাকথিত বাজেট যা দেওয়া হয়েছে, তাতে আয়ের চেয়ে ব্যয় অনেক বেশি। বাজেটে আয়ের অংশ যা দেখানো হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের ওপর সমস্ত বোঝা পড়বে। ব্যয় মেটানোর জন্য যা করবে, তাও সাধারণ মানুষের ওপর গিয়ে পড়বে। সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হবে। বিদেশ থেকে আনছে অনুদান অথবা ঋণ। সেই সঙ্গে আবার ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। সবটাই গিয়ে পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। সাধারণ মানুষ আর কত বোঝা টানবে?’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একদিকে মূল্যস্ফীতি চরমভাবে ওপরে উঠে গেছে। বিশেষ করে খাদ্য দ্রব্যমূল্য এতে বেড়েছে যে তা আর সাধারণ মানুষের সহনীয় পর্যায়ে আর নেই। কয়েক দিন আগেই বাড়ল পেট্রোল-ডিজেল-বিদ্যুতের দাম। যার প্রতিক্রিয়ায় দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। বাজেটকে সামনে রেখে এখন আবারও দাম বাড়বে।
আইএমএফের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে, প্রতি বছর চারবার করে দাম সমন্বয় করা হবে। আমরা এ পয়সাটা কিসের জন্য দিচ্ছি? বিদ্যুৎ খাতে যে চুরি হয়েছে, এনার্জি খাতে যে চুরি হয়েছে, তা সবাই জানে। এই কুইক রেন্টাল থেকে শুরু করে ভারতে আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ আনা সবকিছু থেকেই তারা তাদের পকেট ভারি করেছে। বলে রূপপুর প্লান্ট! কোথায় রূপপুর প্লান্ট? কোথায় গেল পায়রাবন্দরের কাজ? ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-খুব ভালো কথা। কিন্তু আপনি সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করছেন কি? মানুষ তো আর পারছে না। মানুষ এখন গ্রামে চলে যাচ্ছে। কারণ, মানুষ ঢাকা শহরে টিকতে পারছে না। গ্রামে গিয়ে তারা বিপদে পড়ছে। কারণ কাজকর্ম নাই। প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, এখানে এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট বা ক্রিয়েট করার কিছু নাই।’
কালো টাকা সাদা করার জন্য ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে, কিন্তু বৈধপথে আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে- এ কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা পে করে, যারা ন্যায়ের পথে চলে, তাদের ওপর চাপ পড়ছে। যারা অন্যায় করছে, তাদের কোনো কিছু হয় না। কী করে একজন্য সরকারি কর্মকর্তা হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ তৈরি করে? এখানে দুটি ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। এ রকম ঘটনা আরও রয়েছে। এই যে মালয়েশিয়ায় শ্রমিকরা যেতে পারল না-কেন পারল না? সরকারের ব্যর্থতার জন্য, গভর্নেন্সের চরম ব্যর্থতার জন্য। পত্রিকায় এসেছে, চার-পাঁচজন সংসদ সদস্য জড়িত। ২০ হাজার, ২৫ হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়ে গেছে। এ কারণে আমরা সব সময় বলে আসছি, এটা এখন লুটেরাদের দেশ হয়ে গেছে। জনগণের সরকার না থাকলে, কোনো জবাবদিহি না থাকলে যা হয়, এখন অবস্থা সেরকমই হয়েছে। বর্তমান পার্লামেন্ট কার? সেখানে তারাই সরকারি দল, তারাই বিরোধী দল। যেগুলো বার্নিং ইস্যু, সেগুলো সেখানে আলোচনা হয় না। শুধু স্তুতি আর স্তুতি। বাজেট নিয়েও তাই হচ্ছে।’