প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৪ ১৭:১৩ পিএম
মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনে আমির হোসেন আমুর বাসভবনে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠক বসে। ছবি: সংগৃহীত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে যে গোলমাল তৈরি হয়েছে তা দ্রুতই নিরসন করা হবে বলে জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু।
তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে যেটুকু গোলমাল তা নিরসর করার জন্য শিগগিরই আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে। সেগুলো নিরসন করে ঈদের পর থেকে আমরা ইতিবাচক কর্মসূচি গ্রহণ করব। তার মাধ্যমে আমরা সামনে এগিয়ে যাব। ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার (৪ জুন) রাজধানীর ইস্কাটনে নিজ বাসভবনে জোটের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
জোটের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে এ বৈঠক হয়েছে উল্লেখ করে আমির হোসেন আমু বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চায় ১৪ দল সাম্প্রদায়িক শক্তি ও আন্তর্জাতিক বলয়ের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি আদর্শিক জোট। এটা কোন চাওয়া-পাওয়ার জোট নয়। সেই আদর্শের জোট হিসাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছি। দেশীয় ও বিদেশি ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দল আছে, থাকবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করবে। কারণ আমরা মনে করি আদর্শিক যে সংঘাত, সেই সংঘাতের শক্তিরা শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত। সেটা মোকাবিলা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বিষয়ে জোটের মুখপাত্র বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় সিন্ডিকেট আছে। সিন্ডিকেট যদি থেকেও থাকে তবে এ বিষয়ে সরকারের সক্রিয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। যাতে করে জনগণ যে অসুবিধায় আছে তার একটা সুরাহা হয়। তার জোর দাবি জানাচ্ছি।
আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধ থাকার ঘোষণা দিয়ে আমু বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) স্থির থাকতে পারেন, ১৪ দল ছিল, আছে এবং থাকবে। যে শক্তির বিরুদ্ধে ১৪ দল গঠিত হয়েছিল, সেই শক্তি এখনো তৎপর, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত এবং থাকব।
দায়িত্বে থাকাকালীন এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতবড় দুর্নীতির অভিযোগ কিভাবে দেখেন এমন প্রশ্নে আমু বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ সরকার গঠন করবে এবং তা প্রমাণ করবে। প্রমাণ হলে শাস্তি হবে। জোটগতভাবে আমাদের কোন মন্তব্য আছে বলে মনে করি না।
আপনারা বিব্রত কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা বিব্রত না। কারণ মানুষের জীবনে অনেক কিছু ঘটে, দেশের মধ্যে অনেক কিছু ঘটে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ দুর্নীতি করে ধরা পড়লে তার জন্য আমাদের বিব্রত হওয়ার কোন কারণ নেই। যারা দোষী, ধরা পড়বে, শাস্তি পাবে। তার জন্য আমরা বিব্রত হব কেন?
বৈঠকে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবসময় ১৪ দল অবস্থান নিয়েছে। এবারও যে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট। এই দুর্নীতি রোধ করতে না পারলে সরকারের যে অর্জন রয়েছে তা ক্ষুন্ন হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।