রঞ্জিত কয়াল
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৬:১৬ পিএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১৭:০১ পিএম
পটচিত্র একটি অতি প্রাচীন লোকশিল্প। প্রাচীনকালে কাপড় বা কাগজের উপর দেবদেবীর প্রচলিত কাহিনীর ছবি লিখে গ্রামে গ্রামে ঘুরে গান গেয়ে পট দেখাতেন কিছু মানুষ। এটাই তাদের একমাত্র জীবিকা, লোকে তাদের বলতেন ‘পটুয়া’ তারা ‘পটিদার’ নামেও অনেকাংশে পরিচিত ছিল। তাদের বেশির ভাগের পদবী সাধারণত ‘চিত্রকর’।

পটের কথা
‘পট’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ ‘পট্ট’ থেকে যার অর্থ কাপড়। উজ্জ্বল রঙের ছবি ও সহজ সুরের গানের মাধ্যমে প্রাচীন কাহিনীগুলো সহজ হয়ে ওঠে আমাদের কাছে। পটের গান পটচিত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

প্রধানত পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ব্লকের নয়াগ্রামে বসবাস এই পটুয়াদের। এই গ্রামের সবাই মূলত শিল্পী। তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ফুটিয়ে তোলেন নানা রঙের পট। কাপড়ের উপর আঠা দিয়ে শক্ত কাগজ জুড়ে তৈরি হয় পট, যা মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে।

এগুলো ৩ থেকে ১০ ফুট কিংবা তারও লম্বা হয়ে থাকে। কোনো ঘটনা বা কাহিনীর ধারাবাহিক বর্ণনা তুলে ধরা হয় এই পটে। পটুয়ারা এই পটগুলি দেখিয়েই গান শুনিয়ে থাকেন সাধারণত।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল এই পটের গান জনমানবে বেশ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। তাই বর্তমানে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পরিবেশ সচেতনতা ইত্যাদি বিষয়ে প্রচার করা হয় এই পটের গানের মাধ্যমে। এছাড়াও ‘আড়ে লাটাই’ বা আয়তাকার পট এবং চৌকো বা বর্গাকার পট। সাধারণত এই পটে থাকে ঐতিহাসিক বা ধর্মীয় বা বিশেষ সামাজিক কোনো চরিত্র। রং হিসেবে আজকাল আধুনিক রং ব্যাবহার হলেও, ভেষজ রঙ এখনও অনেকে ব্যাবহার করে থাকেন।

মাছের বিয়ে
বাংলার পটশিল্পে লোককথা দূর্গাপট, মনসা পটের পাশাপাশি ‘মাছের বিয়ে’ একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। এখানে দুটি বিশেষ মাছের (দাঁড়িয়া) বিয়ে দেওয়া হয়, খুব ধুমধাম করে, পরে দেখা যায় একটি বড়ো মাছ (বোয়াল) এসে বাকি ছোটো মাছকে খেয়ে নিচ্ছে কারণ তাকে বিয়েতে নিমন্ত্রণ করা হয়নি।

একটি পরিচিত মাছের বিয়ের গান যা সাধারণত পটুয়ারা গেয়ে থাকে পট দেখানোর সময় -
‘দাঁড়িয়া মাছের বিয়ে করাতে
চলো গো রঙ্গিলা।
পুঁটি মাছ বলে আমি,
তোমার কানের পাশা হব লো রঙ্গিলা।।
দাঁড়িয়া মাছের বিয়ে করাতে
চলো গো রঙ্গিলা।
কাতলা মাছ বলে আমি,
তোমার পালকি নয়ে যাবো লো রঙ্গিলা।।’