ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গিয়েছে কিছুদিন আগেই। খেলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই ভক্তদের মাঝে চলছে জার্সি উন্মাদনা। চলুন ছবিতে দেখে আসি ফ্যাশনে জার্সি কীভাবে জায়গা করে নিয়েছে ভক্তদের মাঝে।
ফুটবল বিশ্বকাপ আক্ষরিক অর্থেই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। এই আয়োজন শুধু খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা পরিণত হয়েছে এক বহুমাত্রিক বৈশ্বিক উদ্যাপনে। সে উদযাপনের উন্মাদনা বাংলাদেশেও কম নয়।
বিশ্বকাপের উদযাপন চলছে আড্ডায়, পতাকা দিয়ে দালান-কোঠা সাজানো বা গোটা রাস্তা-দেওয়ালে বিশ্বকাপের প্রিয় খেলোয়াড় ও পতাকার ছবি আঁকায়।
রাজধানীর মতিঝিলের টিকাটুলি এলাকায় স্থানীয়দের আয়োজনে একটি গলির নামকরণ করা হয়েছে ‘ফিফা গলি’। এই গলির দুই পাশের দেয়ালজুড়ে জনপ্রিয় খেলোয়ারদের ছবি আঁকা হয়েছে, রয়েছে ফুটবল নিইয়ে নানা চিত্রও।
সময়ের পরিক্রমায় ফুটবল জার্সি এখন আর শুধু খেলা দেখার সময় প্রিয় দলকে সমর্থনের পোশাক নয়; বরং স্ট্রিট স্টাইল, ফিউশন আর রানওয়ের আমেজে তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
ইউনিভার্সিটি, গেট-টুগেদার বা বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখা সবখানেই জার্সি-ভিত্তিক নানা স্টাইলিং ইদানিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বিশ্বকাপে প্রতিটি দলের জার্সি শুধু রং বা ডিজাইনের সমন্বয় নয়; বরং একটি দেশের পরিচয়, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ভিজ্যুয়াল প্রতীক।
জার্সির ফ্যাশন ট্রেন্ড হওয়ার পেছনের কারণ হচ্ছে অন্য যেকোনো ধরনের টপের তুলনায় জার্সিতে কিছুটা ভিন্নতা আছে। একই নকশার কোটি কোটি জার্সি বিক্রি হলেও শুধু এর নকশার কারণে এর আবেদন বিন্দুমাত্র কমে না। এক নকশার অনেক টি-শার্ট দেখতে বিরক্ত লাগলেও একই নকশার জার্সি দেখতে খারাপ লাগে না।
ঢাকা ও ঢাকার বাইরে গড়ে উঠেছে জার্সির বিশাল বাজার। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে জার্সির বাজার যেন ফুলেফেঁপে ওঠে। রাস্তার পাশে ছোট্ট দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় দোকান আর অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে জার্সি। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই কোনো না কোনো দলের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে চায়। এটা শুধু খেলার বেলায় নয়, জীবনের অনেক জায়গাতেই দেখা যায়। আর প্রিয় দলের জার্সি পরা আসলে সেই দলের অংশ হয়ে ওঠার একটা অনুভূতি। জার্সি পরা কেবল ফ্যাশন নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের ডোপামিন নিঃসরণ বাড়িয়ে ‘ইমোশনাল অ্যাম্প্লিফিকেশন’ বা আবেগের তীব্রতা তৈরি করে।
জার্সি : অ্যাথলিট স্পোর্টস গিয়ার