আরিফুল আমিন
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৫ ১৬:২৩ পিএম
পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক নর্থব্রুক হল, যা স্থানীয়দের কাছে ‘লালকুঠি’ নামে পরিচিত, ফিরে পাচ্ছে নতুন প্রাণ। ১৮৭৪ সালে ভারতের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যারিং নর্থব্রুকের ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে নির্মাণ শুরু হয় টাউন হলটির, যা ১৮৮০ সালে তাঁর হাতেই উদ্বোধন হয়। লাল রঙের জন্য স্থানীয়দের মুখে-মুখে এটি পরিচিতি পায় লালকুঠি নামে।
ব্রিটিশ, মুঘল ও ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীর মিশ্রণে গড়া ভবনটিতে ছিল নাট্যশালা, সভাকক্ষ, মিলনায়তন ও গ্রন্থাগার। একসময় এটি ছিল ঢাকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। ১৯২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এখানে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সংবর্ধনা দেয় ঢাকা পৌরসভা—যা লালকুঠির ইতিহাসে অন্যতম গৌরবময় অধ্যায়।
বহু বছর অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়া ভবনটি ২০১৬ সাল থেকে মিলনায়তন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল না। বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ভবনটির পুনঃসংস্কার ও সংরক্ষণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন রঙে সেজে উঠেছে দেড়শো বছরের পুরোনো স্থাপনাটি। সামনে তৈরি হয়েছে মার্বেল পাথরের বৃহৎ ফোয়ারা, পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে কাঠের দরজা-জানালা ও কারুকাজ, সবই আদি নকশা অনুসারে।
স্থানীয়দের কাছে লালকুঠি শুধু একটি ভবন নয়, স্মৃতির ভান্ডার। বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু সাইদ বলেন, ছোটবেলায় নাটক, কবিতা আবৃত্তি, ঈদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতাম এখানে। সংস্কারের ফলে সেই স্মৃতিগুলো আবার জীবন্ত হয়ে উঠছে। আরেক বাসিন্দা মাসুদুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, সংস্কারের পর লালকুঠি আবারও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ও প্রকল্প পরিচালক রাজীব খাদেম জানান, সংস্কার কাজের ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষিত শ্রমিকদের দিয়ে সংবেদনশীল কাজ করা হচ্ছে, যাতে শতবর্ষ আগের রূপ ফিরিয়ে আনা যায়। আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।