প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৪ ২০:৩০ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৪ ২০:৪৬ পিএম
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির লোগো। ছবি : সংগৃহীত
দেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করার দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেছেন, ‘দেশে সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষায় সরকারের কর্মসূচি পর্যাপ্ত মনে হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে আমরা সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছি। সরকার যদি তা করতে না পারে তবে আমরাই জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করব।’
মঙ্গলবার (২১ মে) সকালে জাতীয় কমিটির অষ্টম জাতীয় সম্মেলনে গৃহীত নতুন কর্মসূচি ঘোষণা এবং নতুন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পরিচিতি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘ভারত, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায় বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন রয়েছে। বাংলাদেশে যদিও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রয়েছে, তবে তাদের তেমন ক্ষমতা প্রদান করা হয়নি। আমরা এখনও সরকারের কাছে বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন সংখ্যালঘু কমিশনের দাবি জানাই। সরকার যদি না পারে, তবে আমরা নিজেরাই এ কমিশন গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেব।’
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অষ্টম জাতীয় সম্মেলনের পরে ৯১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটির সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতির দায়িত্বে এসেছেন শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী। আর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে এসেছেন আগের কমিটির আইসিটি সেলের প্রধান শহীদ সন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়।
নতুন কমিটিতে নির্বাহী সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল। সাতজন সহসভাপতির মধ্যে রয়েছেন তিন শহীদ সন্তান ড. মেঘনা গুহ ঠাকুরতা, তানভীর হায়দার চৌধুরী শোভন, শমী কায়সার। সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন সমাজকর্মী কেশব রঞ্জন সরকার।
এ সময় কমিটির উপদেষ্টা মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘নির্মূল কমিটিকে পরিচালনা করতে গিয়ে পদে পদে প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছি। উচ্চপর্যায় থেকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিত্যাজ্য করার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে। অথচ সরকার যখন বিপদে পড়ে, তখন সরকারের পক্ষ থেকে শাহরিয়ার কবিরকে অনুরোধ জানায় তাদের পক্ষে যেন বিবৃতি দেয়।’
নির্মূল কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি শহীদজায়া শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি অতীতে যেভাবে সোচ্চার ছিল তেমনি ভবিষতেও থাকবে। ৭২-এর সংবিধান পুনপ্রবর্তন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে নির্মূল কমিটি কোনো প্রকার আপস করবে না।’
নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসিফ মুনীর তন্ময় বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোকিত করতে একাত্তরের ১১ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নামে তরুণ ব্রিগেড গঠন করা হয়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পাঠদান কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
কার্যনির্বাহী কমিটি ছাড়াও ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি মমতাজউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক অনুপম সেন, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ, সংসদ সদস্য ও শহীদ পরিবারের সন্তান মানবাধিকারকর্মী আরমা দত্তসহ অনেকে।