প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৪ ২২:১২ পিএম
গাজীপুর আহ্ছানিয়া মিশন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ৭৫ শতাংশ রোগীই সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। এই প্রতিষ্ঠানে গত ২০ বছরে ২ হাজার ৭৮৯ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে মাদকাসক্ত সমস্যায় ২ হাজার ১৪২ জন ও মানসিক সমস্যায় ৬৪৭ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থতার হার ৭৫ শতাংশ। তবে এসব রোগীদের মধ্যে ২৯.৮ শতাংশ ইয়াবা ও ৩৩.৮ শতাংশ গাঁজা গ্রহণকারী। সংস্থাটি বলছে, দিন দিন গাঁজা ও ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যা বেড়েছে। এজন্য সবার উচিৎ পারিবারিকভাবে সচেতনত হওয়া। মাদকাসক্তির লক্ষ্য দেখা মাত্র সঠিক কাউন্সিলিং করা।
আহ্ছানিয়া মিশনের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২৭৮৯ জন রোগীর মধ্যে ৮৭.৮৮ শতাংশ চিকিৎসার মেয়াদ পূর্ণ করেছে। মেয়াদ পূর্ণ না করে চলে গেছে ৮.৩৩ শতাংশ এবং বিভিন্ন কারণে ১.৫ শতাংশ রোগীকে রেফার করা হয়েছে এবং ২.২৯ শতাংশ রোগী বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে। চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ২৯.৮ শতাংশ ইয়াবা, ৩৩.৮ শতাংশ গাঁজা, ১৪.৯ শতাংশ ঘুমের ওষুধ, ১৬.৩ শতাংশ হিরোইন, ১২.৬ শতাংশ এ্যালকোহল এবং ৪৩.৪৩ শতাংশ একইসঙ্গে একাধিক মাদক গ্রহণকারী এবং বাকিরা অন্যান্য মানসিক রোগে আক্রান্ত ছিল।
বৃহস্পতিবার (০৯ মে) গাজীপুর আহ্ছানিয়া মিশন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এসব তথ্য জানান ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।
এ সময় তিনি বলেন, গত ২০ বছরে কেন্দ্রটি মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারের ধ্বংসাত্মক প্রভাবের সঙ্গে লড়াইরত অগণিত ব্যক্তি এবং পরিবারের জন্য আলোর বাতিঘর হয়ে উঠেছে। আমাদের সামগ্রিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় যত্ন ও চিকিৎসা সেবা প্রদান নয় বরং তাদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই কেন্দ্রটি তিন ধরনের রোগী যেমন মাদকদ্রব্য নির্ভরশীল, আচরণগত এবং মানসিক সমস্যাগ্রস্থ তাদের ৬ মাস ভিত্তিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকে। এছাড়াও পূর্ণ মেয়াদ চিকিৎসা সম্পূর্নকারী ক্লায়েন্টরা পরবর্তিতে রিলেপ্স করলে রিভিউ ক্লায়েন্ট হিসাবে ৩ মাস ভিত্তিক চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে পারবে। যারা পূর্ণমেয়াদি চিকিৎসা গ্রহণ করে এখনও সুস্থ আছেন তারা সেন্টার থেকে বছরে সর্বোচ্চ ১২ দিন বিনামূল্যে থাকা, খাওয়া ও কাউন্সেলিং সেবা পাচ্ছেন।
কেন্দ্রটি আধুনিক ও বিজ্ঞানসন্মত প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন। চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো ক্লায়েন্টের সমস্যাগুলো নিরূপণ ও ড্রাগ টেস্ট করা। এরপর ক্লায়েন্টের চিকিৎসা পরিকল্পনা করা হয়। ডিটক্সিফিকেশন বা নির্বিষকরণের মাধ্যমে ক্লায়েন্টের মূল চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু হয়।