প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৭:৫৬ পিএম
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৮:০০ পিএম
মারুফ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি মারুফ আহমেদ নামে এক কিশোর হাসপাতালে হাতকড়া লাগানো অবস্থায় মারা গেছে। পরিবারের অভিযোগ তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) কিশোর সংশোধনাগারে নির্যাতনে কিশোরবন্দির মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সই করা এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানায় সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৭ জানুয়ারি খিলক্ষেত এলাকায় এক ঝালমুড়ি বিক্রেতার সঙ্গে কয়েকজন ছেলের ঝগড়া হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল মারুফ। সেসময় খিলক্ষেত থানা পুলিশ দুই ছেলের সঙ্গে মারুফকেও ধরে নিয়ে যায়। ২৮ জানুয়ারি কোর্টে চালান করে দেয় তাকে। মারুফের দিনমজুর বাবা থানায় গিয়ে জানতে পারেন মারুফের নামে ডাকাতির মামলা হয়েছে। পরে তাকে আদালত থেকে গাজীপুরে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
বাবা রফিক আহমেদ অভিযোগ করেন যে, ৮ থেকে ১০দিন আগে মারুফের মা ইয়াসমিন বেগমসহ তিনি টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে মারুফের সঙ্গে দেখা করতে যান।
মারুফ কান্নারত অবস্থায় জানায়, এখানে নানা ধরনের কাজ করানো হয়, কাজ না করলে তাকে নির্যাতন করা হয়। এমতাবস্থায় ১২ ফেব্রুয়ারি ফোনে জানানো হয় মারুফ অসুস্থ এবং ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালেত ভর্তি রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে গিয়ে তারা দেখতে পান মারুফ অচেতন অবস্থায় আছে। কথা বলতে পারেননি। মারুফের শরীরে, হাতের কনুইয়ে ও পিঠের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত দেখেছেন।
রফিক আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, ওরা মারুফকে মারধর করেছে। মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ছেলের মৃত্যুর বিচার দাবি করেন।
শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মো. সানারুল হক সুরতহাল রিপোর্টে উল্লেখ করেন, মারুফের ডান চোখের পাশে কালো দাগ ছিল। ডান ও বাম হাতের কনুইতে দাগ ছিল, দুই পায়ের বিভিন্ন স্থান ফোলা ছিল।
টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বন্দি মারুফ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে মারা গেছে। নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ সত্য নয়।’
এমএসএফমনে করে, কিশোর সংশোধনাগারে কিশোরদের সংশোধন করে সুন্দর জীবনযাপনের জন্য তৈরি করা হয়। কিন্তু সেখানে নির্যাতনের অভিযোগে মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। এমএসএফ এ ধরনের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে কেন্দ্রের বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা আবশ্যক বলে মনে করে। পরিবারের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ উঠেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রে কোন গাফিলতি রয়েছে কিনা তা সুষ্ঠূভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে এমএফএস।