প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৩ ১৬:০১ পিএম
আপডেট : ৩০ মে ২০২৩ ১৮:৫৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ‘কমিউনিটি সলিউশন প্রোগ্রামে’ বিশ্বের ৯৫টি দেশের ৭ হাজার ৮৯২টি সংগঠনের মধ্যে প্রথম ৪০০তে কুষ্টিয়ার সামাজিক সংগঠন ও লাইব্রেরি ‘কৃষকের বাতিঘর’ স্থান পেয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ মে) সংগঠনটি থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। কমিউনিটি সলিউশন প্রোগ্রামটি বিভিন্ন দেশের ইয়ূথ লিডারশিপ ও তাদের সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে।
কৃষকের বাতিঘরের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা হোসাইন মোহাম্মদ সাগর বলেন, ‘আমেরিকার কমিউনিটি সলিউশন প্রোগ্রাম বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এবং অত্যন্ত সম্মানজনক একটি কার্যক্রম। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে বিশ্বের ৯৫টি দেশের প্রায় ৮ হাজার সামাজিক সংগঠনের মধ্যে আমাদের সংগঠন এই তালিকার প্রথম ৪০০ এর মধ্যে স্থান পেয়েছে। এটা আমাদের জন্য, আমাদের দেশের জন্য অনেক বড় একটি প্রাপ্তি। আর এই প্রাপ্তি এটাই প্রমাণ করে যে, সমাজের উন্নয়নে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে অবদান রেখে চলেছি।
তিনি বলেন, ‘এই কার্যক্রমে অংশ নিতে কৃষকের বাতিঘরের কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হয়েছে। আমাদের কার্যক্রম নিয়ে তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের ব্যাখ্যামূলক উত্তর দিতে হয়েছে প্রমাণসহ। এরপর সেগুলো তারা যাচাই-বাছাই করে এবং আমাদের ইন্টারভিউ নিয়েছে। এরপর ৯৫টি দেশ থেকে পাওয়া ৭ হাজার ৮৯২টি সংগঠনের সবগুলো আবেদন বাছাই শেষে সম্প্রতি তারা ফল ঘোষণা করে। যেখানে আমাদের সংগঠন ‘কৃষকের বাতিঘর’ প্রথম ৪০০ এর মধ্যে রয়েছে।’
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা গ্রামে ‘কৃষকের বাতিঘর’ লাইব্রেরি ও সংগঠনটি কাজ করছে কৃষকদের সহায়তায়। স্থানীয় একদল তরুণ-তরুণীর এই স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠন কৃষকদের আধুনিক কৃষি, জীববৈচিত্র ও প্রাণ-প্রকৃতি সচেতন হয়ে চাষাবাদের জন্য সহায়তার পাশাপাশি তাদের মধ্যে শিক্ষা-সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া প্রথাগত লাইব্রেরি বা পাঠাগারের ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে এই তরুণ-তরুণীরা।
সাজানো-গোছানো বইয়ের তাক, চুপচাপ পরিবেশ আর নিঃশব্দে বই পড়া কিংবা চাইলে কোনো বই খাতায় এন্ট্রি করে বাড়িতে নিয়ে পড়ার সাধারণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই পাঠাগার ও সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা নিজেরাই চলে যান কৃষকের কাছে। কখনও বাড়ির আঙিনায়, কখনও ফসলের মাঠে বসেই স্বেচ্ছাসেবীরা বই পড়ে শোনান নিরক্ষর কৃষকদের। সহজপাঠের পাশাপাশি চলে নানা বিষয়ে কথা আর আড্ডা। যে গ্রামীণ সমাজ থেকে লেখাপড়া শিখে এই তরুণ-তরুণীরা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়েছে, তারাই এখন সে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে; যা এরই মধ্যে সমাজের সব স্তরে সমাদৃত হয়েছে বিশেষভাবে।