রংপুর অফিস
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:১৩ পিএম
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:১৬ পিএম
আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রংপুরে ১২ জোড়া বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রবা ফটো
ফুল দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়িতে করে বিয়ে করতে এসেছেন তানজীর ইসলাম। পড়নে সৌদি আরবের পোষাক। চারদিকে বিয়ের সাজে সজ্জিত পরিপাটি কমিউনিটি সেন্টারে ঢুকতেই ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানানো হয় তাকে।
এভাবেই রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর হরকলি এলাকার ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি তানজীরের সাথে বিয়ে হয় গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি রামনগরের মনিরা খাতুনের। উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের দেন মোহর ধার্য করা হয় ১০ হাজার টাকা। যা বিয়ের আগেই মনিরাকে পরিশোধ করেছেন তানজীর।
ইসলামি রীতি নীতি অনুযায়ী অনটনের পরিবারে ঘটা করে বিয়ের আয়োজন তাদের কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন।
এ সংস্থার উদ্যোগে শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রংপুর নগরীর রুপকথা থিমপার্কে তানজীর-মনিরার মতো ১২ জোড়া দম্পতির যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর আদায় করে নীলফামারী ডিমলার বাবুরহাট এলাকার রাকিবুজ্জামানের সাথে ডিমলার দক্ষিণ তিতপাড়ার তাসনিমা জান্নাত তাসমি, ৫০ হাজার টাকা দেন মোহর আদায় করে মিঠাপুকুর রসুলপুর গ্রামের ফুয়াদ মিয়ার সাথে মিঠাপুকুর শুকুরেরহাট গেনারপাড় এলাকার হাওয়া বিবি, ২০ হাজার টাকা দেন মোহর আদায় করে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ ধুবনী কঞ্চিবাড়ির আল মামুন মিয়ার সাথে সুন্দগঞ্জ বেলকার জুলি আক্তার, এক লাখ টাকা দেন মোহর আদায় করে নওগাঁ কয়াভবানীপুর এলাকায় মনিরুল ইসলামের সাথে একই এলাকার তানিয়া ইয়াসমিন বর্না, ১০ হাজার টাকা দেন মোহর আদায় করে কুড়িগ্রামে নাগেশ্বরী রতনপুরের রুহুল প্রামাণিকের সাথে আঙ্গুরিয়া এলাকার কেয়া জান্নাতি একা, দেড় লাখ টাকা দেনমোহর আদায় করে দিনাজপুর পার্বতীপুর দোলাপাড়ার শামিম আখতারের সাথে পার্বতীপুর দূর্গাপুরের জহুরুন নেছা টুম্পা, ৬৫ হাজার ৫৯৯ টাকা দেন মোহর আদায় করে দিনাজপুর নবাবগঞ্জের ভেলপুকুরিয়া গ্রামের রাইদ সরকারের সাথে ফুলবাড়ি স্বজনপুকুর এলাকার মোবাশ্বিরা, ৫০ হাজার টাকা দেন মোহর আদায় করে ঢাকা মোহাম্মদপুরের জাহিদুল ইসলামের সাথে রাজশাহী মঙ্গলবাড়ি এলাকার সার্জিনা আক্তার, ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর আদায় করে মিঠাপুকুর রসুলপুর গ্রামের ফাহিম মিয়ার সাথে মিঠাপুকুর জীবনপুরের নুসরাত জাহান আন্নি মনি, ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর আদায় করে সিরাজগঞ্জ বহুলা এলাকার সাব্বির হাসান রাব্বীর সাথে সিরাজগঞ্জ জানপুর এলাকার নাসরিন জাহান নিতু এবং ৫১ হাজার টাকা দেনমোহর আদায় করে দিনাজপুর বীরগঞ্জের সাতোর এলাকার শাহরিয়ার ইসলাম লিখনের সাথে কক্সবাজার ওয়াহেদের পাড়া গ্রামের শারমিন সুলতানার বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

‘যৌতুককে ঘৃণা করি, সহজলভ্যে মোহরানা আদায় করি’ স্লোগানকে সামনে রেখে ১২ জোড়া বিয়েকে ঘিরে ব্যাপক আয়োজন করে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশন। বর ও কনেদের সাজিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে করে কমিউনিটি সেন্টারে আনা হয়। সেখানে তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন। এরপর বর ও কনের পরিবারের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ান বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব মুফতি মনোয়ার হোসেন। বিয়ে পড়ানোর শেষ বর, কনে, তাদের পরিবারের সদস্যসহ প্রায় এক হাজার মানুষকে আপ্যায়ন করা হয়। সেই সাথে নতুন সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, গাছের চারা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। মোহরানা পরিশোধ করে যৌতুকবিহীন বিয়ে করায় ১২ জোড়া দম্পতিকে কক্সবাজারে মধুচন্দ্রিমার ব্যবস্থা করেছে সংস্থাটি।
বর তানজীর ইসলাম বলেন, যৌতুকবিহীন ও মোহরানা আদায় করে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। আয়োজকরা আমাদের যথেষ্ট সম্মান করেছেন এবং ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বর শামিম আখতার বলেন, আয়োজকরা শুধু বিয়ের ব্যবস্থাই করেন নাই। তারা নতুন সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দিয়েছেন। যা দিয়ে আমরা সুন্দরভাবে নতুন সংসার শুরু করতে পারব।
সমাজকর্মী ওয়ালিদা আক্তার বলেন, যৌতুকের কারণে বিয়ের পর অনেক মেয়েদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়। যেহেতু বর-কনের পরিবার সম্মত হয়ে যৌতুকবিহীন বিয়ের ব্যবস্থা করেছে। আগামীতে যেন যৌতুক প্রথা দেশ থেকে উঠে যায় সেই প্রত্যাশা করছি।
আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আজ ১২ জোড়া বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। এ বিয়েতে আমরা যাবতীয় খরচ বহন করেছি। আমাদের চাওয়া- সমাজ থেকে যেন যৌতুক প্রথা উঠে যায়। সেই সাথে যাদের ওপর বিয়ে ফরজ হয়েছে, তাদের ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক যেন বিয়ে হয়। আগামীতে প্রতিটি বিভাগে এমন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।