গবেষণা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:০৩ পিএম
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৫ ২০:৩০ পিএম
বাংলাদেশে বায়ুদূষণের প্রভাবে প্রতিবছর ৫ হাজার ২৫৮ শিশুসহ ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিস (ক্যাপস) ও সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অন ক্লিন এয়ারের (সিআরইএ) যৌথ গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাতাসে অতি ক্ষুদ্র বালু কণার বার্ষিক মান প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম যেখানে বাংলাদেশে তার পরিমাণ প্রতি ঘনমিটার (পিএম ২.৫) ৭৯.৯ মাইক্রোগ্রাম। বায়ুর চরম দূষণে বিভিন্ন বয়সের মানুষসহ ৫ বছরের কম বয়সি শিশুরা হার্ট ডিজিস, স্ট্রোক, হাপানি, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও ফুসফুস ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী বায়ুর মান প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামে নামিয়ে আনতে পারলে মৃত্যুহার শতকরা ৭৯ ভাগ কমানো ও রোগের চিকিৎসা খরচ ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাঁচানো সম্ভব।
সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অন ক্লিন এয়ার (সিআরইএ) এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশ্লেষক এবং প্রধান লেখক ড্যানিয়েল নেসান বলেছেন, বিভিন্ন বায়ু মানের মানদণ্ড, বাংলাদেশের বর্তমান মান এবং ২০০৫ ও ২০২১ সালের ডব্লিউএইচও এর নির্দেশিকা তুলনা করে দেখা গেছে, পিএম ২.৫ স্তরে সামান্য উন্নতিও জাতীয় পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সুবিধা এনে দিতে পারে। কঠোর নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়ন এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি গ্রহণের মাধ্যমে বায়ু দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অন ক্লিন এয়ার (সিআরইএ) এর বায়ু মান বিশ্লেষক ড. জেমি কেলি বলেন, বাংলাদেশের বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার অপরিণত শিশু, কম ওজনের শিশুর জন্ম এবং শিশু মৃত্যু ঘটছে। দূষণ প্রতি বছর প্রায় ২৬৬ মিলিয়ন কর্মদিবসের ক্ষতি সৃষ্টি করে, যা উৎপাদনশীলতার বড় ধরনের ক্ষতি করে।
সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিস (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, বর্তমানে ঢাকা শহরের বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে গিয়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা শুধু মানুষের শরীরেই প্রভাব ফেলছে না, বরং বিপর্যস্ত করে তুলছে মানসিক স্বাস্থ্যকেও।
এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্স-২০২৪ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশগুলোর মানুষের গড় আয়ু ২ দশমিক ৭ বছর হ্রাস পেয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশে নাগরিকদের গড় আয়ু হ্রাস পেয়েছে ৪ দশমিক ৮ বছর।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন দর্শনে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনস্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এজন্য আইন সংস্কারসহ এর কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন- সেন্টার ফর ল এন্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের সেক্রেটারি সৈয়দ মাহবুবুল আলম তাহিন, ২৫০ শয্যা টিবি হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুল ইসলাম প্রমুখ।