× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিগারেটে কর বাড়িয়ে ঠেকানো যায় ১০ লাখ অকাল মৃত্যু

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:৩২ পিএম

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:৪২ পিএম

সিগারেটে কর বাড়িয়ে ঠেকানো যায় ১০ লাখ অকাল মৃত্যু

সিগারেটে করের হার বাড়িয়ে বছরে ১০ লাখ অকাল মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। একইসঙ্গে এতে ১০ শতাংশ হারে করও বাড়বে। এতে সিগারেট পানের হার কমবে কিন্তু রাজস্ব বাড়বে। তাছাড়া শুধুমাত্র করের ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য পথ অবলম্বন করাও দরকার।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রে ‘সিগারেটে কার্যকর করারোপ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কর্মশালা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। কর্মশালাটির আয়োজন করে উন্নয়ন সমন্বয়।

উন্নয়ন সমন্বয়ের জেষ্ঠ প্রকল্প সমন্বয়কারী জাহিদ রহমানের সঞ্চালনায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন- বিবিসি বাংলার সাংবাদিক ও বর্তমান গণমাধ্যম সংস্কার কমিটির প্রধান কামাল আহমেদ, এতে মূল প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন- প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক আব্দুল্লাহ নাদভী। কর্মশালায় প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন।

কামাল আহমেদ বলেন, ‘শুধুমাত্র কর বাড়িয়ে সিগারেট পান কমানোই সমাধান নয়। অন্যান্য যেসব পন্থা আছে তাও অবলম্বন করতে হবে।’ ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকের ব্যবহার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেওয়া উদ্যোগ বাংলাদেশে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সেই সনদে স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে ধূমপান চলছে এতে আগামী ১৬ বছরে সেটি বাস্তবায়ন করা যাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কেননা আমাদের দেশে তামাকের ব্যবহার বাড়ছে। এক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে তামাকে করের হার বাড়াতে হবে। উন্নত বিশ্বে তিন ধরনের করই বাড়ে, প্রায় শতভাগ হয়ে যায়।’

প্রকাশ্যে ধূমপানে জরিমানার বিধান থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন- সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আইন করে শাস্তির বিধান থাকলেও পুলিশ সেই আইন প্রয়োগ করতে পারছে না। কেননা তারা অন্যান্য অপরাধের বিষয় নিয়েই ব্যস্ত। এজন্য নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। প্যাকেটে সিগারেটের ক্ষতিকর সম্পর্কে লেখা রাখা হয় ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’ শুধু এটি দিয়ে হবে না। এজন্য ক্যান্সারসহ অন্যান্য ভয়ংকর যেসব রোগ হয় সে সবের ছবির আকার বড় করতে হবে।’

তামাক চাষিকে বিকল্প চাষাবাদে ভর্তুকি দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করার কথা থাকলেও তা কমছে না। এটা কমাতে হবে। চাষিকের বিকল্প ফসল চাষে ভর্তুকি দিতে হবে।’

কামাল আহমেদ বলেন, ‘তামাক পানকারীদের বিকল্প খাবার দেওয়ার কর্মসূচি দেশে নেই, এটি দিতে হবে। কেউ কেউ সিগারেট ছেড়ে ভেপিংয়ে ঝুঁকে পড়ছে। সিসা, হুক্কা ব্যবহারের হার বাড়ছে। এসব বন্ধ করতে হবে।’

ব্রিটেনে ২০০৯ সাল থেকে যাদের জন্ম তাদের কাছে সিগারেট বিক্রি করা যাবে না, আইন হচ্ছে- সে ধরনের আইন আমাদের দেশেও হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কেননা সিগারেট কিনতে গেলে বয়সের প্রমাণ দিয়ে কিনতে হবে- এজন্য অনেকেই তা থেকে বিরত থাকবে।

কামাল আহমেদ বলেন, ‘সিগারেটের দাম বাড়িয়ে এগুলোকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়া- এই ক্ষতিকারক পণ্যটির ব্যবহার কমিয়ে আনার একটি খুবই কার্যকর পদ্ধতি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যেই এই পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশেও তাই সিগারেটের দাম প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়িয়ে তার ওপর কার্যকর করারোপ করা একান্ত জরুরি।

তামাকে কর বাড়িয়ে বছরে ১০ লাখ অকাল মৃত্যু ঠেকানো ও ১০ শতাংশ রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ নাদভী। সরকার ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ সময়কালে সিগারেটে কার্যকর করারোপ না করার ফলে প্রতি বছর গড়ে ৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি মূল্যস্ফীতির হারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাজেটে সকল স্তরের সিগারেটের ঘোষিত ন্যূনতম খুচরা মূল্য অন্তত ১০ শতাংশ বাড়াতে হবে। এজন্য নিম্নস্তরের সিগারেটের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের সম্পূরক শুল্কের কাছাকাছি করতে হবে অর্থাৎ অন্তত ৬৩ শতাংশ বাড়াতে হবে। সিগারেটের ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমাতে হবে অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।’

আব্দুল্লাহ নাদভী বলেন, ‘আগামী বাজেটে সিগারেটে ট্যাক্স নির্ধারণের বিষয়ে আগে থেকেই আলোচনা শুরু করা হয়েছে যাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অজুহাত দাঁড় করাতে না পারে।’ 

তিনি বলেন, ‘প্রতি বাজেটেই সিগারেট বা তামাকে দাম বাড়ানো হয় কিন্তু সেটি যথেষ্ট হয় না। বিগত ৫ বছরে (২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪) পর্যন্ত মাথাপিছু আয় ৫৫ শতাংশ বাড়লেও বিভিন্ন স্তরের সিগারেটর দাম সর্বনিম্ন ৬-২২ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে ৩২ শতাংশ।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা