প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ২০:০৫ পিএম
আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ২০:৪৭ পিএম
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ হাজারেরও বেশি নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত হাজার জনের মৃত্যু ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতার অভাবে এই রোগের চিকিৎসা দেরি হয়।
সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের অডিটোরিয়ামে ‘আমরা নারী’ ও ‘আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের’ উদ্যোগে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা বিষয়ক সেমিনারে এসব কথা তুলে ধরেন বক্তারা।
বিশ্বব্যাপী অক্টোবর মাস স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়। এ উপলক্ষে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নারীদের প্রাথমিক স্তরে স্তন ক্যান্সার শনাক্তকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি। সচেতনতা বৃদ্ধি করে সমাজে এই রোগ নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা। তরুণ প্রজন্ম ও কর্মজীবীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রসার ঘটানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সেমিনারে রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. হাসান শাহরিয়ার কল্লোল, সার্জিক্যাল অনকোলজিতে এমএস (ফেজবি) রেসিডেন্ট ডা. উম্মে হুমায়রা কানেতা, শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট ড. নাসরিন সুলতানা, প্রক্টর শফিউদ্দিন আহমেদ, আমরা নারী ও আমরা নারী রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী এম এম জাহিদুর রহমান (বিপ্লব) প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী জারিন তাসনিম বিপা। অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে শামসুন্নাহর হল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া সেমিনারটিতে স্ন্যাকস পার্টনার হিসাবে ছিল প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে উপস্থিতদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বগল বা স্তনে গাঁটের উপস্থিতি, স্তনের চামড়া কুঁচকে যাওয়া বা আকার পরিবর্তন, স্তনে ব্যথা, লালচে ভাব, বা ফোলা, স্তনের বোঁটা থেকে রস নির্গমন হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া পরামর্শ দেন তারা। এছাড়া ২০ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে একবার নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করা। ৪০ বছর বয়সের পর বছরে একবার ম্যামোগ্রাম করার কথাও জানান তারা।
এম এম জাহিদুর রহমান বিপ্লব বলেন, আমাদের এই উদ্যোগে ইত্তেফাক, বাংলাদেশ পোস্ট, একাত্তর টিভি, এবং ঢাকা মেইল মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে। ধারাবাহিক আমাদের এই সেমিনারগুলোর মাধ্যমে আমরা আশা করি, তরুণ সমাজের মধ্যে সচেতনতার বীজ বপন করবে এবং একটি স্বাস্থ্য সচেতন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আমাদের এই প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য সমাজে নারীদের স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণে উৎসাহিত করা এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা।