প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৪ ২০:৪০ পিএম
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন আইইবির সদস্যরা। প্রবা ফটো
ইনিস্টিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) নবগঠিত কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির সদস্যরা।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটির সদস্যরা।
সকল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের পক্ষে ইঞ্জিনিয়ার কাজী ফজলুল করিমের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ স্বৈরশাসন ও অপশাসনের ফলে প্রত্যেকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ইনিস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) অধীনে প্রকৌশলীদের পেশাগত মান ও দক্ষতা উন্নয়নে ইঞ্জিনিয়ারিং স্টাফ কলেজ এবং প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স রেজিস্ট্রেশন বোর্ড কার্যরত।
দেশের সকল অবকাঠামো, যেমন- ভবন, ব্রীজ, রাস্তাঘাট, রেল, সিভিল এভিয়েশন, বিদ্যুত, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম, শিল্প-কলকারখানা, তথ্য প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ সকল ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রকৌশলীদের পেশার মান উন্নয়নের উপর দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নির্ভরশীল। কিন্তু দলীয় লেজুরবৃত্তির কারণে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের নামে আইইবির পদ ব্যবহার করে দুর্নীতি, তদবিরবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজির মাধ্যমে গত ১৬ বছরে আইইবিকে একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।
এতে বলা হয়, দেশের আপামর ছাত্র-জনতা, বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল শক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশবাসী স্বৈরশাসক হাসিনা ও তার দোসরদের দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছে। এতে আইইবি দখলকারী আওয়ামী দোসররাও পলাতক। ফলে আইইবি নেতৃত্ব শূণ্য অবস্থায় আছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ আছে। এই অচলবস্থা নিরসনে আমরা আইইবির গঠনতন্ত্রের ৫২ (বি) অনুযায়ী ২৬০ জন সদস্যের স্বাক্ষর গ্রহণ করে রিকিইজিশন সভা আহ্বানের জন্য আইইবির প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছি। আমরা কোনো প্রতুত্তর পাইনি।
ইতোমধ্যে এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনির্য়াস বাংলাদেশের (এইবি) তিনজন সদস্য এইবির প্যাড ব্যবহার করে ২৩ অক্টোবর গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি জারি করে আইইবি প্রাঙ্গণে একটি এক্সট্রা অর্ডিনারি জেনারেল মিটিং আহ্বান করে। এ সময় আইইবির সদর দপ্তরের জন্য অবৈধভাবে প্রেসিডেন্ট, সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এবং আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে।
নিম্নোক্ত কারণে কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধঃ
১। আইইবি গঠনতন্ত্রের চ্যাপ্টার ৬ এর ৫২ উপ-বিধি অনুযায়ী কেবল প্রেসিডেন্ট আইইবি এক্সট্রা অর্ডিনারি জেনারেল মিটিং ডাকতে পারবে অন্য কেহ নয়। তাছাড়া এক্সট্রা অর্ডিনারি জেনারেল মিটিংয়ের সভাপতি নির্বাচনে বাই ল এর চ্যাপ্টার ৬ এর ৩৯ ধারা অনুসরণ করা হয়নি।
২। আইইবি গঠনতন্ত্রের চ্যাপ্টার ৬ এর ৫১ উপ-বিধি অনুযায়ী কমপক্ষে ২১ দিন সকল সদস্য এবং সহযোগী সদস্যদের সভার নোটিশ পাঠাতে হবে। অথচ মিটিং আহ্বানকারীরা কোনো নোটিশ না পাঠিয়ে এক দিন আগে একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে সভা আহ্বান করেছে যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
৩। আইইবি গঠনতন্ত্রের চ্যাপ্টার ৬ এর ৫২ উপ-বিধি অনুযায়ী এক্সট্রা অর্ডিনারি জেনারেল মিটিংয়ে কেবল একটি এজেন্ডা থাকবে। কিন্তু মিটিংয়ের নোটিশে, সভায় ব্যবহৃত ব্যানারে কোনো এজেন্ডা ছিল না, যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত। তাছাড়া ব্যানারে আইইবির কোনো লোগো ছিল না।
৪। আইইবি গঠনতন্ত্রের চ্যাপ্টার ৬ এর ৫২ উপ-বিধি অনুযায়ী এক্সট্রা অর্ডিনারি জেনারেল মিটিংয়ে কর্পোরেট সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু ভোট ব্যতীত মনগড়া কমিটি প্রকাশ করা হয়।
৫। বাই ল এর চ্যাপ্টার ৫ এর ৩০ ধারার ব্যতয় ঘটিয়ে সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটি ব্যতীত আইইবির সদর দপ্তরের জন্য প্রেসিডেন্ট, সাধারণ সম্পাদকসহ ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি এবং আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে, যারা সকলেই এইবির সদস্য।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিগত ১৬ বছরের অভিজ্ঞতায় সাধারণ প্রকৌশলী সমাজ আইইবিকে দলীয় লেজুরবৃত্তের ঊর্ধ্বে পেশাজীবীবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। পূর্বের ন্যায় রাজনৈতিক দল এবং আইইবির পদ ব্যবহার করে সরকারি বিভিন্ন বিভাগে পোস্টিং/পদন্নতির অনৈতিক তদবীর, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি সাধারণ প্রকৌশলী সমাজ দেখতে চায় না। প্রয়োজনে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
উল্লেখ্য, যাকে অবৈধভাবে স্বঘোষিত আইইবির প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় এইবির প্রেসিডেন্ট। অর্থাৎ তিনি এখন গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদধারী।