প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:০০ পিএম
আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:০৪ পিএম
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, ‘শুধুমাত্র সিলেবাসভিত্তিক পড়াশুনায় না থেকে সৃজনশীল বইয়ের দিকেও নজর দিতে হবে। পৃথিবীতে যত বড় বড় মানুষ বড় বড় স্বপ্ন দেখেছেন, বড় বড় চিন্তা করেছেন, বড় বড় হৃদয়ের কথা বলেছেন, ভাবনার কথা বলেছেন, সেই ভাবনাগুলো আমাদের মধ্যে নিতে হবে। তাহলে পরে তোমরা বড় হয়ে যাবে। তোমরা বড় হলে বাংলাদেশও বড় হবে।’
শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ঢাকা মহানগরের স্কুল কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘বই মানে কী? পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লেখকরা তাদের অন্তরের যত সৌন্দর্য্য, আনন্দ, স্বপ্ন সবই এই বইয়ের মধ্যে লিখেছে। সেই সমস্ত স্বপ্ন যদি তোমার মধ্যে চলে আসে, তাহলে তুমি অনেক বড় হয়ে যাবে। সেজন্য আমরা সে চেষ্টা ৪৫ বছর ধরে করেছি, করছি। আশা করছি এক কোটি বা দুই কোটি ছেলেমেয়েকে অচিরেই হয়ত পড়াতে পারব, এটা আমাদের স্বপ্ন।’
তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন মানে গন্তব্য। আমি কোথায় যেতে চাই, তার নাম হল স্বপ্ন। এবং সে যাওয়ার জন্য আমি যে কাজগুলো করি, সে কাজটা হচ্ছে স্বপ্ন। এই যে যখন আন্দোলন হচ্ছিল, তখন যে মানুষটা ঘরের মধ্যে ছিল আর যে মানুষটা বেরিয়ে গিয়েছিল রাস্তায়, দুজন কি এক মানুষ? বড় কে? তাহলে চল আমরাও বাইরে যাই। আমরা শুধু ঘরের মধ্যে বসে থাকব না।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের দুই সদস্য কথাসাহিত্যিক আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া ও সমাজকর্মী পারভীন মাহমুদ, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শামীম আল মামুন প্রমুখ।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উৎকর্ষ (বইপড়া) কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৫০ হাজার ছাত্রছাত্রী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল মহানগরের ৩১৫টি স্কুলের প্রায় ৫০ হাজার ছাত্রছাত্রী বইপড়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে। দুদিনে ৮ পর্বে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তন থেকে ঢাকা মহানগরের ৬২টি স্কুলের ৫ হাজার ১৩৭ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হবে। এর মধ্যে প্রথম দিনে সেরা পাঠক পুরস্কার পেয়েছে ৪০ জন; অভিনন্দন পুরস্কার পেয়েছে ৫৬ জন; শুভেচ্ছা পুরস্কার পাচ্ছেন ৩৬৮ জন; স্বাগত পুরস্কার পেয়েছেন ২ হাজার ৫৪ জন।
গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় দেশের ৫টি মহানগরে বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল মহানগরের পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।