প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:০৮ পিএম
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:৩১ পিএম
ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সম্প্রতি ২০২৪ সালের বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ করেছে আম্মানের দ্য রয়েল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার। তালিকার শীর্ষ ৫০ ব্যক্তিত্বের মধ্যে রয়েছেন ড. ইউনূস।
এই তালিকায় জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইবন আল-হুসেইন, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি, এবং ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় মুসলিম ব্যক্তিত্বরা স্থান পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল সেন্টার ফর মুসলিম-ক্রিশ্চিয়ান আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের সহযোগিতায় এ বছরের তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের প্রভাব ও অবদান পর্যালোচনা করে প্রকাশিত হয় ‘দ্য মুসলিম ৫০০: দ্য ওয়ার্ল্ডস ৫০০ মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল মুসলিমস’। ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর এ তালিকা প্রকাশ করে আসছে।
পাঁচটি ক্যাটাগরিতে প্রভাবশালী মুসলিমদের নির্বাচন করা হয়। ক্যাটাগরিগুলো হলো- ধর্মীয়, রাজনৈতিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিল্প ও সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া ও বিনোদন। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে সেসব মুসলিম ব্যক্তিত্বকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যারা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি দীর্ঘদিন ধরে মাইক্রোফাইন্যান্স ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তার অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান এবং বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এ তালিকায় বাংলাদেশের শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও আরও দুই নারী রয়েছেন। ড. হামিদা হোসেন ও রাজিয়া সুলতানা।
ড. হোসেন বাংলাদেশের ও সারা বিশ্বের মানবাধিকার-নারী বিষয়ক অনেক বই এবং নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তিনি আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এটি একটি আইনি সহায়তা এবং মানবাধিকার সংস্থা। ২০২১ সালে তিনি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (বিডিআই) লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
রাজিয়া সুলতানা একজন বাংলাদেশি আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী। যিনি রোহিঙ্গা জনগণের জন্য অনেকদিন ধরে কাজ করছেন। তিনি শতাধিক রোহিঙ্গা নারীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। বর্মী নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা যৌন নির্যাতনের কাহিনী প্রকাশ করেছেন। তিনি ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের (এফআরসি) সমন্বয়ক ও আরাকান রোহিঙ্গা জাতীয় সংগঠনের (আরনো) পরিচালক। ২০১৯ সালে তিনি আন্তর্জাতিক নারী সাহসী পুরস্কার লাভ করেন।
২০২৫ সালের প্রকাশিত প্রভাবশালী ৫০০ মুসলিমের তালিকার নারী বিভাগের ‘ওম্যান অব দ্য ইয়ার’ হয়েছেন জর্ডানের রানী রানিয়া আল-আবদুল্লাহ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সমাজের উন্নয়নে কাজ করছেন।