নাগরিক শোকসভায় বক্তারা
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৫২ পিএম
আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৪ ১৯:৫৪ পিএম
নাগরিক শোক সভায় বক্তারা। প্রবা ফটো
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মরহুম রুহুল আমিন গাজী ছিলেন একজন আপসহীন সাংবাদিক নেতা। সাংবাদিকদের রুটি-রুজির আন্দোলনে তিনি সব সময় সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মত এমন সাহসী নেতৃত্ব সাংবাদিক জগতে বিরল। দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখনই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তখনই তিনি বুক চিতিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। সর্বশেষ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় অসুস্থ থাকার পরও তিনি রাজপথে নেমে আমাদের সাহস জুগিয়েছেন। তার মৃত্যু সাংবাদিক জগতে একটি শূণ্যতা সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর)
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক এই সভাপতির স্মরণে আয়োজিত নাগরিক
শোক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের
অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন
(ডিইউজে) এ শোক সভার আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতা, রাজনৈতিক দলগুলোর
প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শোক সভায় বক্তারা বলেন,
রুহুল আমিন গাজী বাংলাদেশের ইতিহাসে শুধু একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক হিসেবেই নন, বরং যোগ্য
নেতা হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি দেশের গণমাধ্যমে সাহসী ভূমিকা এবং সাংবাদিকতা
পেশায় অনন্য অবদান রেখেছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার রক্ষার জন্য সবসময় কাজ করেছেন।
তার দীর্ঘ সাংবাদিকতার জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংবাদ প্রকাশ এবং মতপ্রকাশের
স্বাধীনতার পক্ষে সবসময় কথা বলেছেন।
তারা বলেন, রুহুল আমিন
গাজী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতে সক্রিয় ছিলেন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার
পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
এবং মতপ্রকাশের জন্য লড়াই করেছেন। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের চাপ, সাংবাদিকদের
ওপর হামলা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির পক্ষেও সবসময় সরব ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির
সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ
হোসেন বলেন, রুহুল আমিন গাজী ভাই নেই, বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের
সময় থেকেই তাকে চিনি। তিনি ছিলেন একজন অসীম সাহসী নেতা। প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি সাহসের
পরিচয় দিয়েছেন। সর্বশেষ ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের পতনের আগের দিনও তিনি অসুস্থ
অবস্থায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পেশাজীবীদের আন্দোলনে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার
আত্মত্যাগ আমাদের মনে রাখতে হবে। একইসঙ্গে কারাগারের যে জেলার ও ডাক্তার তার চিকিৎসা
দেয়নি তাদের বিচার করতে হবে। তিনি অবিলম্বে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি
দাবি করেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের
সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসেন বলেন, রুহুল আমিন গাজীর শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয়।
তিনি এমন এক সময় চলে গেছেন যখন তার প্রয়োজন ছিল।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, রুহুল আমিন গাজী সবসময় অন্যায়ের
বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেছেন। অনেকেই অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেছে।
কিন্তু তিনি কোনোদিন অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। সড়কে-কলমে সবসময় তিনি অন্যায়ের প্রতিবাদ
করেছেন।
রুহুল আমিন গাজীর ছেলে
আফফান আবরার আমিন বলেন, আমার বাবাকে যেভাবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে তাতে আমি
সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি খুবই দেশপ্রেমিক ছিলেন। সব সময় দেশের মানুষের কথা ভাবতেন।
আমার বাবা জীবনের শেষ সময়ে আমাকে বলে গেছেন, তিনি একটি বৈষম্যহীন, চাঁদাবাজ-দুর্নীতিমুক্ত
মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র দেখতে চান।
নাগরিক শোক সভায় বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদেরা
অংশ নেন।