নাগরিক স্মরণসভায় বক্তারা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:১৬ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২২:১৮ পিএম
প্রকৌশলী শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাগরিক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। প্রবা ফটো
প্রকৌশলী শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সবসময় নিজের জীবনকে অন্যের জীবনের অংশ করে নিতেন। দেশের বড় কোনো সংকট হলে সবাই তাকেই ডাকত। জনগণের জন্য তিনি ছিলেন অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি একজন দেশপ্রেমিক প্রকৌশলী, উদার মনের মানুষ ছিলেন।
মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে তেল গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত নাগরিক স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি এই সভাটি আয়োজন করেন।
স্মরণসভার শুরুতে বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক এমএম আকাশ। এরপর শ্রদ্ধা জানিয়ে গণসংগীত পরিবেশন করেন বিবর্তন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। প্রকৌশলী শহীদুল্লাহর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘জন্ম সত্য, মৃত্যু সত্য নয়। শহীদুল্লাহ ভাই আমাদের মাঝে ছিলেন, আমাদের মাঝেই থাকবেন। শহীদুল্লাহ ভাই যে কাজ করেছিলেন সে কাজ ছিল প্রকৃত সমাজতান্ত্রিকদের কাজ, দেশপ্রেমিকদের কাজ। উনসত্তরের অভ্যুত্থানে প্রধান শক্তি ছিল সমাজতান্ত্রীরা, কিন্তু তারা বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। উনসত্তরের ডিসেম্বরে তিনি কাজ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।’
বুর্জোয়া রাজনীতির বিরুদ্ধে সকলকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাজতন্ত্রীরা আন্দোলনে বারবার নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু বারবার তা মুহূর্তকে ধরতে পারেননি। উনসত্তরের অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পরেও ধরতে পারেননি। আজকে আমাদের শহীদুল্লাহ ভাই যদি জীবিত থাকতেন তাহলে একটা পরিবর্তন দেখতেন। একটি পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখতেন তিনি। এই মুহূর্তটিকে যদি সমাজতন্ত্রীদের গ্রহণ করতে পারে তাহলে আমাদের ইতিহাস ভিন্নভাবে নিতে হবে। না হলে বুর্জোয়া রাজনীতি, বুর্জোয়া শাসকদের সৃষ্ট সংকট বিরাজ করবে। শহীদুল্লাহ ভাই বেঁচে থাকলে, সকল বামপন্থী, সমাজতান্ত্রিকদের এক প্ল্যাটফর্মে এক হতে আহ্বান করতেন। যেই প্ল্যাটফর্ম হবে গণতান্ত্রিক ঐক্যের বা সমাজতান্ত্রিক ঐক্যের। যারা একসঙ্গে থাকবে এবং বুর্জোয়া রাজনীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।’
আনু মুহাম্মদ তার বক্তব্যে প্রকৌশলী শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ জীবনের নানা দিক এবং তেল, গ্যাস, খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ নিয়ে নানা আন্দোলনের সময়কার স্মৃতিচারণ করেন। আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘শহীদুল্লাহ ভাই সবাইকে সহযোগিতা করতেন। যদি তিনি জানতেন কোথাও কোনো কাজ হচ্ছে, সভা-সমাবেশ হচ্ছে, প্রকাশনা বা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের কোনো আয়োজনকে সফল করতে যা করা লাগে, তিনি তা করতেন। সব সময় নিজের জীবনকে অন্যের জীবনের অংশ করে নিতেন। ব্যক্তিজীবনকে সমষ্টির সঙ্গে যুক্ত করা এতটা সহজ জিনিস না, যেটি প্রকৌশলী শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ করে দেখিয়ে গেছেন। দেশের খনিজ সম্পদ রক্ষায় শহীদুল্লাহর ছিল বিশেষ ভূমিকা। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় মৃত্যু পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন তিনি।’
তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে যে এত বড় আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন হলো, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা এসেছে। বাংলাদেশে যদি একটি বড় ধরনের পরিবর্তন করতে হয় মানুষের মধ্যে মালিকানার বোধ তৈরি করতে হবে। সেটি হলো- এই দেশ আমাদের, এখানের সম্পদও সবার কারো একার না, তাই দায়িত্বও আমাদের। তাহলে লুণ্ঠন, অর্থ পাচার, মানুষের উপর দমন-পীড়ন, নির্যাতন, সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য, শোষণ কোনোটিই ঘটবে না, সম্ভবও হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনের যে ধারাবাহিকতা বা বার্তা সেই বার্তাটির মূল আন্দোলনের সাফল্য পরম্পরার মধ্যদিয়ে তৈরি হবে। আজকের তরুণদের আন্দোলনের সঙ্গে আমরা আগের অনেক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা পাই। একটি আন্দোলন থেকে অন্য আরেকটি আন্দোলন পর্যন্ত ওই শক্তিকে জিইয়ে রাখতে হবে। জীবদ্দশায় শহীদুল্লাহ ভাই আন্দোলনে যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেই নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে।’
নাগরিক স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কার জোনায়েদ সাকি, তার ছেলে এসএম শাহীক মাহমুদ রনি, সাংবাদিক শুভ কিবরিয়া, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নেতা স্থপতি ইকবাল হাবিব, সহকর্মী খোরশেদ আলম, আসাদুজ্জামান বেলাল প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খান আসাদুজ্জামান মাসুম।