এমএসএফের প্রতিবেদন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ২০:৫০ পিএম
আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ২১:১৯ পিএম
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘর্ষ। ছবি : সংগৃহীত
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জুলাই-আগস্ট মাসে সারা দেশে কমপক্ষে ৮০৯ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)।
শনিবার (৩১ আগস্ট) সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তাদের আগস্ট মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলি, সংঘর্ষ ও বিভিন্ন ধরনের সহিংসতায় আগস্ট মাসে নিহত হয়েছে ৫৫৬ জনের বেশি। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ রয়েছে। তার আগের মাস জুলাই মাসে নিহত হয়েছিল আনুমানিক ২৫৩ জন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ ও পরবর্তী সহিংসতায় কমপক্ষে ৬৫০ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এ পর্যন্ত আহত হয়েছে ৩৩ হাজারেরও অধিক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সারা দেশে ছাত্র ও সাধারণ জনতা একাত্মতা প্রকাশ করলে বিক্ষোভ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক ও কল্পনাতীত বলপ্রয়োগের ঘটনা প্রত্যক্ষ করা গেছে। রাষ্ট্রের এই নিপীড়নমূলক পদক্ষেপের ফলে সহিংসতা ব্যাপক আকার ধারণ করে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে শিক্ষর্থী ও সাধারণ জনতার মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে কোটা সংস্কার আন্দোলনটি রূপ নেয় এক দফার আন্দোলনে। আর তা হলো প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। বিক্ষোভ আন্দোলন চরম আকার ধারণ করে। এরই মাঝে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর আন্দোলন দমনের নামে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটায় যা শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতার মাঝে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে। দেশব্যাপী বিজিবি নামানো হয়। হতাহতের সংখ্যা অনেকাংশে বাড়তে থাকে। নিহত তরুণ-কিশোর-শিশুদের আড়াল করতে সরকারি যানবাহন ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে আহত-নিহতদের ওপর দোষ চাপানো হয়।
সমাধানযোগ্য একটি সমস্যাকে ক্ষমতাসীন দলের অযৌক্তিক ও অসংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া এবং কোটাপদ্ধতি নিয়ে শুধু দায়িত্বহীন বক্তব্যই নয়, উস্কানিমূলক আচরণ, অসহিষ্ণুতা, ক্ষমতার দম্ভ, নাগরিকদের প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও জবাবদিহিহীন শাসনব্যবস্থা কীভাবে ভয়ংকর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে সেটা সাধারণ নাগরিকেরা দেখেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদায়ি মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর হত্যাযজ্ঞ ও সহিংসতার জেরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের নামে যেভাবে মামলা হচ্ছে তা বিগত সরকারের আমলের ধারাবাহিকতা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কোনো আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার নিরাপত্তার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। সেই দায়িত্ব পালনে তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। একটি বিষয়, মামলা যেই করুক না কেন সেখানে অজ্ঞাতনামা আসামি রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলে সন্দেহভাজন হিসেবে যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে। ফলে অনেক নির্দোষ ব্যক্তি বা আসামি ভোগান্তির শিকার হতে পারেন এবং জনমনে অনিরাপত্তাবোধের জন্ম দিতে পারে যা সামগ্রিকভাবে সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সৃষ্ট সহিংসতায় সাংবাদিক হতাহত প্রসঙ্গে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিষয়ে ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে ২৮ জন। তার মধ্যে শুধুমাত্র ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচি চলার সময় সিরাজগঞ্জে প্রদীপ কুমার ভৌমিক নামের এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আহত হয়েছেন ২৩ জন সাংবাদিক। আহতদের মধ্যে ৩ জন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া ৫ আগস্ট মাগুরায় সাংবাদিক জাওয়াদ নির্ঝর, পাবনার চাটমহরে সাংবাদিক সঞ্জিত সাহা, কক্সবাজারে সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল, সিরাজগঞ্জে সাংবাদিক মো. তৈমুর ফারুকের বাড়িঘরে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়।