মতবিনিময় সভায় বক্তারা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৪ ২০:২৫ পিএম
মঙ্গলবার রাজধানীর সিক্স সিজনস হোটেলে ‘সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবা ফটো
‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’ শীর্ষক ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার টাকার অঙ্কে ৭ লক্ষ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চেয়ে আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে চেয়ে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এবারের বাজেটে ক্রমাগত মূল্যস্ফীতির চাপে হিমশিম খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে বর্তমান সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। যা নিঃসন্দেহে ভালো একটি পদক্ষেপ। তবে প্রকৃত উপকারভোগীর বিশাল একটা অংশ এখনও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেনি। প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিক তালিকা না থাকা, শিক্ষার অনগ্রসরতা, জবাবদিহির অভাব, বিচারহীনতার সংস্কুতি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, স্বজনপ্রীতি, লিঙ্গ বৈষম্য, কর্মসংস্থানের অভাব, নিয়মিত মনিটরিং না করা প্রভৃতি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় আসার জন্য অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর সিক্স সিজনস হোটেলে ‘সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলীর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এডভোকেট সানজিদা খানম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জাকিয়া আফরোজ, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মো. আনোয়ার হোসেন এবং ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর নুজহাত জাবিন।
মতবিনিময় সভায় সামাজিক নিরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন গবেষক আহমেদ বোরহান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ও সঞ্চালনা করেন, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক কানিজ ফাতেমা।
এছাড়াও এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, নাগরিক সমাজ, যুব ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মহসিন আলী বলেন, ‘মূলধারার আমরাই দলিত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, হিজড়া প্রভৃতি জনগোষ্ঠীকে আসলে পিছিয়ে রাখি। কোনো ক্ষেত্রে রাষ্ট্রও পিছিয়ে রাখে। যেমন, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য প্রয়োজনীয় আইন দরকার। সরকার এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবেন বলে আশা করি। সামাজিক সুরক্ষাসহ সকল কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য দরকার সুশাসন নিশ্চিত করা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে না পারলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সরকারকেই প্রথমে তৎপর হতে হবে, নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে, সোচ্চার হতে হবে। এজন্য সরকারের তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বিত কাঠামো বা ব্যবস্থা তৈরি ও কার্যকর করা প্রয়োজন।’
প্রধান অতিথির বক্তব্য সানজিদা খানম বলেন, “টেকসই উন্নয়নের যে মূলমন্ত্র ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়’ বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান সরকারও এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার খাদ্য ও অর্থ সহায়তা, প্রশিক্ষণ, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ প্রভৃতি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে এমডিজি বাস্তবায়নের জন্য পুরস্কার পেয়েছে। সে ধারাতেই সকল ধরনের মানুষের উন্নয়ন ও সকলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার এগিয়ে যেতে চায়। দরকার সকল অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়। তাহলেই আমরা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রকৃত উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাব।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সামাজিক নিরীক্ষার এ ফলাফল পরিসংখ্যান ব্যুরোর অনুমোদন নিয়ে প্রকাশিত হলে গবেষকরা পরবর্তীতে তা ব্যবহার করতে পারবেন। সামাজিক খাতে এবারের যে বাজেট বরাদ্দ তা জিডিপির প্রায় আড়াই শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের জন্য বরাদ্দও বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯টি কর্মসূচির জন্য প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। সরকারি ও বেসরকারি খাত সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সিলেট এবং ঢাকায় হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য পাইলট ভিত্তিতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। তাদের ভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রে ৫০ বছর বয়সের যে একটি সীমা রয়েছে, সেটি তুলে দেয়া হচ্ছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে যেসব সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাণীসম্পদসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ফলাফলে প্রভাব ফেলছে। এভাবেই সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকার টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও অভিযোজনকেও বিবেচনায় নিতে হবে।’
জাকিয়া আফরোজ বলেন, ‘মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভিজিডিসহ অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় বাস্তবায়ন হচ্ছে, যা আরও উন্নত করার প্রক্রিয়া চলছে। গর্ভবতী মায়েদের ভাতা সরাসরি তাদের ব্যাংক একাউন্টে চলে যায়।’
মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের বক্তব্য শুনে মনে হলো, ওয়েভ ফাউন্ডেশন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে যে কাজ করেছে তার ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের দিকেও আমরা এগিয়ে যাব, যার জন্য সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে এবারের বাজেটে গত অর্থবছরের চেয়েও দশ হাজার কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, বিবেচনায় রাখা হয়েছে বর্তমান বিশ্ব ও অর্থনৈতিক অবস্থার বিষয়টিও। কর্মমুখী ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে যুক্ত করলে তাদের ক্ষমতায়ন টেকসই হবে।’
প্রকল্প শেষ হলেও এডভোকেসি নেটওয়ার্ক কমিটি সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে এ কাজের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে- এ আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘দাতা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা এ প্রকল্পের কাজগুলোকে অন্যান্য জেলাতেও সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।’
নুজহাত জাবিন বলেন, ‘আমরা যাদেরকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী বলি, তারা আসলে আমাদেরই কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য পিছিয়ে রয়েছেন। আমাদের মতো তাদেরও রয়েছে সমঅধিকার, সেটা যদি সকলে বিবেচনায় নিই তাহলেই আরও অনেকদূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সবাই যেভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, প্রকল্প শেষ হলেও এ কাজের ধারাকে অব্যাহত রাখবেন আশা করি।’
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে উপকারভোগীদের তালিকায় সচ্ছতা এবং ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা; বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে এডভোকেসি নেটওয়ার্ক কমিটির তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
সামাজিক নিরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপনকালে আহমেদ বোরহান বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও অর্থেও পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি একটি জটিল ও বহুমাত্রিক কাঠামো, যা প্রায় ১১৯টি কর্মসূচির সমন্বয়ে, সরকারে ২৫টি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। সামাজিক ভাতা, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উপবৃত্তি, উপকরণ স্থানান্তর, ঋণ সহায়তা (ক্রেডিট সাপোর্ট প্রোগ্রাম) এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো বেশকিছু বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টার রয়েছে এর অধীনে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দুঃস্থ মহিলা উন্নয়ন কর্মসূচি বা ভিজিডি, বয়ষ্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, আর্থিকভাবে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, দরিদ্র স্তন্যদায়ী মায়েদের সহায়তা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, কাজের বিনিময়ে খাদ্য, দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যক্রম, টেস্ট রিলিফ এবং খোলা বাজারে পণ্য বিক্রয় ইত্যাদি। এছাড়াও হিজড়া, বেদে, চা-শ্রমিক, সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বেশকিছু অরক্ষিত সম্প্রদায়ের মানুষ সহায়তা পেয়ে থাকেন। এসব নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
স্থানীয় মানুষ চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত সেবা পাচ্ছে কিনা সেই চিত্রই তুলে ধরা হয় সামাজিক নিরীক্ষার মাধ্যমে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে সেবাগ্রহীতার মতামত জানার পাশাপাশি সেবা প্রদানকারীদের বক্তব্যও জানা যায়। ইএলএমসি প্রকল্পের অধীনে পরপর দুই বছরে (২০২৩ ও ২০২৪) রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা বিভাগের ৮টি জেলার ৭৩টি উপজেলায় পরিচালিত হয় এই সামাজিক নিরীক্ষা কার্যক্রম। এটি পরিচালনায় মূল ভূমিকা পালন করেছে এসব উপজেলায় নাগরিক সমাজের সদস্য ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এডভোকেসি নেটওয়ার্ক কমিটি বা এএনসি। এই সামাজিক নিরীক্ষায় প্রথম বছরে মোট ২৭৯৫ জন উত্তরদাতা অংশগ্রহণ করেছেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে ২৪৬০ জন সেবাগ্রহীতা এবং ৩৩৫ জন সেবা প্রদানকারী।
দ্বিতীয় বছরে মোট উত্তরদাতার সংখ্যা ছিল ৪২৮৩ জন, যাদের মধ্যে ৩৯৭১ জন সেবাগ্রহীতা এবং ৩১২ জন সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে উল্লিখিত প্রকল্প অংশগ্রহণকারীদের পাশাপশি সরকারি সেবা প্রদানকারী অংশীজনদের মধ্যে ছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধি, বিশেষত সমাজকল্যাণ, মহিলা বিষয়ক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিনিধিবৃন্দ।
সামাজিক নিরীক্ষার ফলাফল যে সুপারিশগুলো উঠে এসেছে সেগুলো হলো: বর্তমান প্রেক্ষাপটে মূল্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নিম্নবিত্তদের জন্য স্বল্পমেয়াদী (যেমন, রেশনিং) ও দীর্ঘমেয়াদী (যেমন, মূল্য কমিশন প্রতিষ্ঠা) পদক্ষেপ গ্রহণ করা; সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট নতুন দরিদ্রদের অন্তর্ভুক্ত করা; নগর দরিদ্রদের জন্য বেশি বরাদ্দের পাশাপাশি নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা; সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর উপকারভোগীদের ডিজিটালাইজড নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সেবা প্রদান বিষয়ে ন্যূনতম জানাবোঝার ব্যবস্থা করা; পেনশন, সঞ্চয়পত্রের সুদ, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি প্রভৃতি খাত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে না রাখা; কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং সেবাগ্রহীতাদের উত্তরণে একটি সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনাসহ শক্তিশালী মনিটরিং ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করা; সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসমূহের ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) সহজতর ও কার্যকর করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা; ভিজিডি, প্রতিবন্ধী ও হিজড়া ভাতা গ্রহণকারীদেরকে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আরও বেশি করে অন্তর্ভুক্ত করা; প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাঠামোগত বাধা (আইসিইউ, অ্যাম্বুলেন্স, টয়লেট ইত্যাদি), মানবসম্পদের ঘাটতি ইত্যাদি পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা; হিজড়া সম্প্রদায়ের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ ও হয়রানিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা; সামাজিক সুরক্ষাসহ সরকারি বিভিন্ন সেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রচারের জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনসমূহের সহায়তা গ্রহণ এবং বেসরকারি সংগঠনগুলোরও এ সংক্রান্ত প্রচারাভিযান অব্যাহত রাখা।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহায়তায় ‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ’ (ইএলএমসি) শিরোনামে প্রায় ৪ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প দলিত, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, হিজড়া এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন, অংশীজনদের স্থানীয় সংগঠন ও নেটওয়ার্কগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের সুশাসন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাজশাহী, সিলেট, খুলনা বিভাগের আটটি জেলার ৭৩টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।