সুজনের বিশ্লেষণ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৪ ০০:৩৪ এএম
আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৪ ১১:২৩ এএম
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তথ্যের বিশ্লেষণ ও নির্বাচন মূল্যায়ন শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন করে নাগরিক সংগঠন সুজন। ছবি : সংগৃহীত
সাম্প্রতিক নির্বাচনে উপজেলা পরিষদের বেশিরভাগে সম্পদশালী ও ব্যবসায়ীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া বেশিরভাগ উপজেলায় নির্বাচিত হয়েছেন সংসদ সদস্যদের (এমপি) স্বজন ও অনুগতরা। এর ফলে সব ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতেই কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় এ স্থানীয় সরকারপ্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের হস্তক্ষেপ আরও বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মূল্যায়ন তুলে ধরে নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
উপজেলা পরিষদের ষষ্ঠ সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তথ্যের বিশ্লেষণ উপস্থাপন এবং নির্বাচন মূল্যায়নে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সংগঠনটি।
গত ৮ মে থেকে কয়েক ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সুজন নির্বাচিত মোট ৪৭০ জন উপজেলা চেয়ারম্যানের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। সুজনের তথ্য অনুযায়ী, এ ৪৭০ জনের মধ্যে ৩৬০ জনই পেশায় ব্যবসায়ী, যা শতকরা ৭৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। এরপর আছে কৃষিজীবী ৪৮ জন, আইনজীবী ১৯ জন ও ১৫ জন শিক্ষক।
সুজনের বিশ্লেষণ, নির্বাচনে বিজয়ী ৪৭০ চেয়ারম্যানের মধ্যে ৪২ জনের বার্ষিক আয় ১ কোটি টাকার বেশি। নির্বাচনে স্বল্প আয়ের প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার হার কম বরং বেশি আয়ের প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার হার প্রায় দ্বিগুণ।
৪৭০ জন বিজয়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে ১১৪ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে এবং ১৮২ জনের বিরুদ্ধে অতীতে এবং ৭৫ জনের অতীতে মামলা ছিল এবং বর্তমানেও আছে।
পেনাল কোডের ৩০২ ধারা হলো খুনের শাস্তি। এ ধারায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অতীতে এবং চারজনের অতীতে ও বর্তমানেও মামলা আছে। বর্তমানে ১১৪ জন বিজয়ীর মধ্যে ২২৩টি মামলা রয়েছে। অতীতে মামলাসংশ্লিষ্ট ১৭৬ জন বিজয়ী চেয়ারম্যানের মধ্যে ৫২১টি মামলা ছিল।
নির্বাচিত ৪৭০ জন বিজয়ী উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে ১০৩ জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর; যা বিজয়ী চেয়ারম্যানদের ২১.৯১ শতাংশ। স্নাতক পাস করেছেন ১৬৫ জন; যা বিজয়ী চেয়ারম্যানদের মধ্যে ৩৫.১১ শতাংশ। ৮৩ জন চেয়ারম্যান এইচএসসি পাস এবং ৫১ জন প্রার্থী এসএসসি পাস করেছেন। এসএসসির নিচে রয়েছেন ৬৭ জন। একজন শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘর পূরণ করেননি।
সুজনের আরও মূল্যায়ন, নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হয়নি। ভোটারের অনেকে কেন্দ্রে যায়নি। এর প্রধান কারণ নির্বাচনব্যবস্থার ওপর আস্থাহীনতা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৩৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ভোটার উপস্থিতির এ হার নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুজন সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ভোটার উপস্থিতি যা দেখানো হয়েছে, তা-ও সন্তোষজনক নয়। ৫০ শতাংশ পার হয়নি। এ ছাড়া যে হার দেখানো হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন ও সন্দেহ আছে।
সুজন আরও বলেছে, এ নির্বাচনের ফলে আওয়ামী লীগের দলীয় বিভাজন ও অন্তর্দলীয় কোন্দলে সহিংসতা স্থায়ী হতে পারে। নির্বাচনে জয়ী চেয়ারম্যানের প্রায় ৯০ শতাংশই আওয়ামী লীগের। সে কারণে উপজেলাগুলোয় ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি হয়েছে।
সুজন সম্পাদক বলেন, ভোটারদের কেন্দ্রবিমুখতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর উপজেলা নির্বাচন বর্জন একই সূত্রে গাঁথা। চেয়ারম্যানের মধ্যে ৭৭ শতাংশই ব্যবসায়ী। প্রকৃতপক্ষে ব্যবসায়ীর সংখ্যা আরও বেশি হবে। তারা নির্বাচন করলে সমস্যা নেই, তবে টাকা দিয়ে মনোনয়ন কিনে থাকলে সমস্যা হয়।