× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

খণ্ড খণ্ড ঘটনাগুলোর অখণ্ড বার্তা বিবেচনায় নিন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৪ ১০:৫৮ এএম

খণ্ড খণ্ড ঘটনাগুলোর অখণ্ড বার্তা বিবেচনায় নিন

যেকোনো রাষ্ট্র কিংবা সমাজব্যবস্থায় জননিরাপত্তা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ প্রেক্ষাপটে স্মরণ করি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পরবর্তীতে যিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন সেই ক্যালভিন কুলিসকে। ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে তিনি প্রথমেই বলেছিলেন, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা রক্ষার চেয়ে বড় কোনো কিছুই নেই। সে দেশের আরেক রাজনীতিক, লেখক, শিক্ষাবিদ রাল্‌ফ নাদের বলেছিলেন, সমাজে জনগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেয়ে ভালো আর কোনো নীতি নেই। যেকোনো রাষ্ট্রের নাগরিক সমাজের অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এ রকম গুরুত্বপূর্ণ উক্তি কিংবা মন্তব্য রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে। এ গৌড়চন্দ্রিকার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে ২১ মে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত আশুলিয়ায় আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার শিরোনামের প্রতিবেদনটি। আমাদের স্মরণে আছে, গত এপ্রিলে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর একাধিক প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা জননিরাপত্তাহানিজনিত একাধিক সংবাদে যে চিত্র উঠে এসেছিল এর প্রেক্ষাপটে এ সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা বলেছিলাম, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মহলকে সমগুরুত্বে নজর গভীর করতে হবে।

২১ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভারের আশুলিয়ায় পৃথক স্থান থেকে আরও চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর তিন দিন আগে সেখান থেকেই ছয়টি মরদেহ উদ্ধারের খবর সংবাদমাধ্যমে জানা গিয়েছিল। দেশের অন্যান্য স্থানেও লাশ উদ্ধারের বেশ কয়েকটি ঘটনা এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। আমাদের স্মরণে আছে, এর আগে রাজধানীর হাতিরঝিল থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্ট্যামফোর্ডের শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি রাজধানীতেই এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যা, পল্লবীতে বাসচালকের সহকারীকে খুন, নরসিংদীতে ইউপি সদস্যকে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে আরও চারজনকে পিটিয়ে হত্যার খবর সংবাদমাধ্যমেই প্রকাশিত হয়। খণ্ড খণ্ড এ ঘটনাগুলো অখণ্ড যে চিত্র তুলে ধরে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না।

টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে জননিরাপত্তার বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আশুলিয়াসহ ঢাকার আশপাশে সাম্প্রতিক একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনা সমাজের অস্থিতিশীলতার চিত্রই সামনে নিয়ে আসে। অনস্বীকার্য, আমরা উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসড়কে উঠেছি, কিন্তু জননিরাপত্তা-সামাজিক শৃঙ্খলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে নিয়মনীতির যথাযথ প্রতিপালন অনেকাংশেই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। খুনখারাবি কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত করে না। অপরাধ সমাজের অন্যতম গুরুতর ব্যাধি এবং এ ব্যাধি উন্নয়ন-অগ্রগতির অন্যতম প্রতিবন্ধকও বটে। ৫৩ বছরের বাংলাদেশে এ তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের কম নয়। ২১ মে একটি সহযোগী দৈনিকের ডিজিটাল মাধ্যমে বলা হয়েছে, ট্রেনে-বাসে রাতে যারা যাতায়াত করছে তারা সংঘবদ্ধ চক্রের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ২১ মে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ , ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাকচর এলাকায় একট গর্তে মাটিচাপা দেওয়া তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুই শিশু ও এক নারী রয়েছে।

আমরা দেখছি, বেওয়ারিশ লাশের রহস্য কোনোভাবেই কাটছে না। যাদের পরিচয় শনাক্ত হয় তাদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অংশ সমাজবিরোধীদের চরম নৃশংসতার শিকার। অজ্ঞাত লাশের পরিচয় জানতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনসহ নানা প্রচারকার্য চালানোর কথা থাকলেও তা মানছে না পুলিশ, এমন অভিযোগও কম নয়। পুলিশ অনেক ক্ষেত্রেই বলে, উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত লাশের বেশিরভাগই সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ভবঘুরে কিংবা ছিন্নমূল মানুষ। আমরা পুলিশের এমন বক্তব্য স্বাভাবিক কারণেই গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি না। কারণ প্রতিটি ঘটনার অনুসন্ধানক্রমে যথাযথ প্রতিবিধান নিশ্চিত করার দায়দায়িত্ব যাদের তাদের কাছে অনুমাননির্ভর কথাবার্তা কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। তা ছাড়া একজন মানুষ ভবঘুরে কিংবা ছিন্নমূল যা-ই হোক, তার নাগরিক অধিকার কোনোভাবেই বিসর্জিত হতে পারে না। এও আমাদের অজানা নয়, প্রযুক্তির বিকাশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর অনুসন্ধানের পথ অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। কিছুদিন আগে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছেÑরাজধানী কিংবা আশপাশে প্রতি মাসে গড়ে ৭০টি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। প্রতি বছর ১ হাজারের বেশি বেওয়ারিশ লাশ দাফন করছে এ সংস্থাটি। প্রশ্ন হচ্ছেÑএত লাশ উদ্ধারের পরও এ ব্যাপারে যথাযথ অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কেন এখনও জুতসই হয়নি।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে এও দেখা গেছে, অনেক বেওয়ারিশ লাশের ঠিকানা শেষ পর্যন্ত কোথায় হয় তা-ও থেকে যায় অজানা। ঢাকা মেডিকেল কলেজে বেওয়ারিশ লাশ বিক্রির সঙ্গে জড়িত কোনো কোনো ডোমের অপতৎপরতার খবরও সংবাদমাধ্যমেই উঠে এসেছিল। অজ্ঞাতনামা লাশের সিংহভাগ থেকে যায় অজ্ঞাতই। বেওয়ারিশ লাশের ওয়ারিশ বা পরিবার-পরিজনের খবর মেলে দুই থেকে তিন ভাগের। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ বাদী যে মামলাগুলো হয় এরও নিরসন হয় না। অপরাধ কিংবা অপরাধী চক্রের মূলোৎপাটনে সর্বাগ্রে প্রয়োজন বিচারহীনতার অপসংস্কৃতির নিরসন। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার সমাজের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই জরুরি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায় রাষ্ট্রের। আমরা সে ক্ষেত্রে কোনোভাবেই রাষ্ট্রের ব্যর্থতা দেখতে চাই না। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামসহ আশপাশের সমতলের জনপদে সমাজবিরোধীদের অপতৎপরতা বেড়ে যাওয়ার অনেক নজির রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সদস্যদের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের নজিরও আছে। কিন্তু আশুলিয়ায় এত লাশের রহস্য অনুদ্‌ঘাটিত থেকে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চয়ই প্রশ্নবোধক। শীতলক্ষ্যা, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু নদীসহ ঢাকার আশপাশে ঝোপজঙ্গল থেকেও সম্প্রতি লাশ উদ্ধারের অনেক ঘটনাই ঘটেছে। বেওয়ারিশ লাশ নিয়ে বহুমাত্রিক রমরমা ব্যবসার খবরও সংবাদমাধ্যমেরই। লাশ নিয়েও গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট, এমন বার্তা শুভবোধসম্পন্ন মানুষকে নিরুদ্বিগ্ন থাকতে দেয় না।

ডিজিটাল যুগেও এত বেওয়ারিশ লাশের অজ্ঞাতপরিচয়ের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া যায় না। আমরা জানি, জননিরাপত্তা তখনই প্রশ্নবিদ্ধ হয় যখন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত-অনভিপ্রেত ঘটনা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। পুলিশের শক্তি ও জনবল, র‍্যাবকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হলেও অপরাধ দমনে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সাফল্য দৃশ্যমান না হওয়াও উৎকণ্ঠার। এর অর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করায় কোনোরকম ছাড় দেওয়ার অবকাশ নেই। জননিরাপত্তা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে আমরা এমনটি বলছি না বটে, কিন্তু সংবাদমাধ্যমের বার্তাগুলো সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রতিটি মহলের দায়িত্ব পালনে যথাযথ নিষ্ঠার তাগিদ দেয়। আশুলিয়াসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জননিরাপত্তাহানিজনিত বার্তাগুলো আমলে নিয়ে এর রহস্য উদ্‌ঘাটনের পাশাপাশি দ্রুত যথাযথ প্রতিবিধান নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা