দিবস
আবুল বাশার খান
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৪ ০৯:৫১ এএম
সারা বিশ্বের
মতো আমাদের দেশেও দিন দিন মেডিটেশনে আগ্রহ বাড়ছে। পরিপূর্ণ সুস্থতার জন্য বিদ্যমান
চিকিৎসার পাশাপাশি মেডিটেশন যে প্রয়োজন, এ পরামর্শ এখন চিকিৎসকরা দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য
অধিদপ্তর সম্প্রতি যোগ-মেডিটেশনকে স্বাস্থ্যসেবার পরিপূরক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশে ২১ মে বিশ্ব মেডিটেশন দিবস পালন করা হয়। ১৯৯৫ সাল থেকে
দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন প্রতি
বছর বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে প্রাণায়াম বা দমচর্চা, প্রত্যয়ন পাঠ ও মেডিটেশন চর্চার
আয়োজন করে। দুই বছর ধরে বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে
পালিত হচ্ছে দিনটি।
অধ্যাপক ডা. স্টিভেন
লরিস নিউরোসায়েন্স গবেষণায় গোটা বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় গবেষকের একজন। ব্যক্তিজীবনে সংকটময়
এক সময়ে মেডিটেশন ও ইয়োগা চর্চা শুরু করেছিলেন। নিয়মিত ধ্যান বা মেডিটেশনের মাধ্যমে
তিনি মানসিক অবসন্নতাও কাটিয়ে ওঠেন। ২০২১ সালে প্রকাশিত তার ‘দ্য নো-ননসেন্স মেডিটেশন
বুক : অ্যা সায়েন্টিস্ট’স গাইড টু দ্য পাওয়ার অব মেডিটেশন’ বইয়ে জানান, ‘প্রতিদিন ভোর
সাড়ে ৫টায় আমি ঘুম থেকে উঠি। এরপর ইয়োগা করি এবং এক ঘণ্টা মেডিটেশন করি। এ অভ্যাস সুনিশ্চিতভাবে
স্ট্রেস কমায়। মেডিটেশন হতে পারে পাশ্চাত্যের আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার পরিপূরক।’ যুক্তরাষ্ট্রের
ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহ্ হেলথের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. ডেভিড আর স্যান্ডওয়েস
২০১৮ সাল থেকে মাইন্ডফুলনেস নিয়ে নানাবিধ কার্যক্রমে জড়িত। তার একটি লেখায় জানান,
‘একবার মৃত্যুপথযাত্রী এক শিশুকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছি। বুঝতে পারলাম, বছর পেরোনোর
আগেই হয়তো শিশুটির মাকে তার সন্তানের মৃত্যুর সংবাদটা জানাতে হবে। উপলব্ধি করলাম, এ
পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আমি এখনও প্রস্তুত নই। মেডিকেল স্কুলগুলো আমাদের চিকিৎসক
হিসেবে দক্ষ করে তুলেছে। কিন্তু শেখায়নি কীভাবে আমরা হারানোর বেদনা, ভুলভ্রান্তি আর
পরাজয়ের মুহূর্তগুলো মোকাবিলা করব। ফলে শোক আর অনিশ্চয়তা কখনও কখনও সুনামির মতো ভর
করে। দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা হাসপাতালে কাজের পর স্থির থাকাও কঠিন। তাই মানসিক স্থিরতার
জন্য চিকিৎসকদের মেডিটেশন চর্চা প্রয়োজন।’
যুক্তরাষ্ট্রের
দ্য ফিজিশিয়ানস্ ফাউন্ডেশন ২০২৩ সালে একটি জরিপ পরিচালনা করে দেখতে পায়, প্রতি ১০ জন
চিকিৎসকের মধ্যে ছয়জন বার্নআউট বা ক্ষোভে-অবসাদে ফেটে পড়ার মতো অনুভূতিতে ভোগে প্রায়ই।
৭৫ শতাংশ মেডিকেল শিক্ষার্থী তীব্র বিষণ্নতায় ভোগে। ৫৫ শতাংশ জানিয়েছে, তারা হতাশ এবং
জীবনের কোনো অর্থ খুঁজে পায় না। এমন একটি একটি জরিপ বাংলাদেশেও হয়েছে। ২০২০ সালে প্রকাশিত
দ্য অফিসিয়াল জার্নাল অব ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ ঢাকার একটি প্রবন্ধে
বলা হয়, এ দেশের ৪০.৮ শতাংশ মেডিকেল শিক্ষার্থী মানসিক অবসন্নতায় ভুগছে। যুক্তরাষ্ট্রের
হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১-এর রিপোর্ট অনুসারে, ডিপ্রেশনের কার্যকর
সমাধান হলো মেডিটেশন।
২০২০ সালে চীনে
চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্ক নিয়ে একটি গবেষণা হয়। এতে ১০৬ জন চিকিৎসককে দুটি গ্রুপে ভাগ
করা হয়। একটি গ্রুপকে আট সপ্তাহব্যাপী মেডিটেশন প্রোগ্রামে যুক্ত করা হয়। আরেকটি গ্রুপকে
তাদের চিরাচরিত রুটিনেই জীবনযাপন করতে দেওয়া হয়। দেখা গেছে, ধ্যানী চিকিৎসকরা রোগীদের
প্রতি সমমর্মী হয়ে উঠেছেন। রোগীর সঙ্গে কথোপকথনে তারা আগের চেয়ে মনোযোগী। অন্যদিকে
যুক্তরাষ্ট্রের রচেস্টার স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড ডেন্টিস্ট্রির প্যালিয়েটিভ কেয়ার
বিশেষজ্ঞ, লেখক ও কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাইন্ডফুল প্র্যাকটিস ইন মেডিসিনের শিক্ষক রোনাল্ড
এম. এপস্টেইন বলেন, ‘চিকিৎসক এবং চিকিৎসাপেশায় নিয়োজিতদের মধ্যে যারা মেডিটেশন করেন,
তারা প্রতিদিনের প্রতিকূলতা সহজে সামাল দিতে পারেন। রোগীদের সঙ্গে কথা বলায় তারা অধিক
মনোযোগী। পেশাগত ত্রুটি শুধরে নিতে আন্তরিক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তৎপর। পেশাগত চাপ
তাদের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে না।’