× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকীয়

জিম্মিদশা থেকে মুক্ত নাবিকদের অভিনন্দন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৪ ১০:০৩ এএম

জিম্মিদশা থেকে মুক্ত নাবিকদের অভিনন্দন

সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের কবলে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর নাবিকরা ৬২ দিন পর ফিরে এলেন স্বজনদের মাঝে। অক্ষত অবস্থায় তাদের ফিরে আসায় শুধু স্বজনদের মধ্যেই নয়, স্বস্তি ফিরেছে আমাদের সবার মাঝেই। তাদের কেউ কেউ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেন, তারা সমুদ্র জয় করে ফিরে এসেছেন। ১৫ মে প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ শীর্ষ সচিত্র প্রতিবেদনসহ ভিন্ন আরও কয়েকটি প্রতিবেদনে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে স্বভূমে ফেরায় চট্টগ্রাম বন্দরে যে আবেগ ও আনন্দের কান্নার রোল ওঠে এর অনুভূতিও কতটা গভীর এ-ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সহজ নয়।

আমরা জানি, ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর নাবিক ও ক্রুদের মুক্ত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। এই সম্পাদকীয় স্তম্ভেই আমরা বলেছিলাম, জিম্মিদশার অবসান ঘটাতে কৌশলী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমরা দেখছি, শুধু বাংলাদেশি জাহাজই নয়; যেকোনো দেশের জাহাজ সোমালিয়ার উপকূল অতিক্রম করার সময় প্রায়ই ভয়াবহ বিপদে পড়ছে। গত মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে এমভি আব্দুল্লাহর ঘটনাটি এ থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের সহযোগী সংস্থা কেএসআরএমের মালিকানাধীন জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে যাওয়ার পথে জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জিম্মি হওয়ার পর থেকে কয়েক দফায় সংবাদমাধ্যমে জিম্মিদের পাঠানো খুদেবার্তায় যে আর্তনাদ উঠে এসেছিল তা-ও সহজেই অনুমেয়। প্রায় ১৩ বছর পর বাংলাদেশি জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল। আমরা এ-ও দেখছি, ভারত মহাসাগর আতঙ্কের একটি নৌপথ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইতঃপূর্বে সংবাদমাধ্যমেই এ-ও উঠে এসেছে, ছিনতাই করা জাহাজ নিয়েই অন্য জাহাজে অভিযান চালায় সোমালিয়ান জলদস্যুরা। এমন প্রেক্ষাপটে জিম্মিদের কবলে থাকা জাহাজ মুক্ত করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে দাঁড়ায় এবং এমভি আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল পক্ষগুলোর কৌশলী ও দূরদর্শী ভূমিকায় জিম্মিদশা থেকে নাবিকদের মুক্ত করায় আমরা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে পুনর্বার আমরা সতর্ক করি, যেহেতু ওই নৌপথে জলদস্যুদের অবাধ বিচরণ রয়েছে এবং এর পেছনে সোমালিয়া রাষ্ট্রটির নীতিনির্ধারকদেরও নানাভাবে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে সেহেতু দস্যুদের বিচরণ করা অঞ্চল অতিক্রম করার সময় অধিকতর সজাগ থাকার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তঃদেশীয় ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন। উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্য এ নৌপথেই হয়ে থাকে। আমরা এ-ও জানি, জলদস্যুদের লক্ষ্য থাকে সাধারণত পণ্যবাহী জাহাজগুলো তাদের কব্জায় নেওয়া। মাঝে কয়েক বছর ওই অঞ্চলে জলদস্যুদের উৎপাত কিছুটা কমলেও কয়েক মাস ধরে তারা ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতঃপূর্বে জলদস্যুদের আক্রমণের ভয়াবহ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার করতে অনেক দিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন জাহাজমালিকরা। আমাদের এ-ও জানা আছে, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) হস্তক্ষেপ চেয়েছিল বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মালিকপক্ষ। তাদের দাবি ছিল, ভারত মহাসাগর এলাকা অতিক্রম করার সময় জাহাজে সশস্ত্র নিরাপত্তাপ্রহরী রাখার অনুমতি যেন দেওয়া হয়। এডেন উপসাগরে একটি আন্তর্জাতিক ট্রানজিট করিডোর রয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যৌথভাবে ওই এলাকা অতিক্রম করে। তবে তাদের যৌথ ব্যবস্থাপনা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি বিধায়ই সোমালিয়ান জলদস্যুদের দাপট আরও বেড়ে যায়।

সোমালিয়ান উপকূল থেকে প্রায় দেড় হাজার নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগরের অর্ধেক এলাকা সোমালিয়ান জলদস্যুরা নিয়ন্ত্রণ করে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফে যাতে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় এই দাবি সঙ্গত কারণেই বারবার উঠছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যথাযথ মনোভাবের অভাবে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা আজও গড়ে ওঠেনি এবং এজন্য আমরা নিরুদ্বিগ্ন থাকতে পারি না। আমরা ইতঃপূর্বে এই সম্পাদকীয় স্তম্ভে এ-ও বলেছিলাম, যেহেতু জলদস্যুদের কবল থেকে বলপ্রয়োগে জিম্মিদশার নিরসন করা দুরূহ সেহেতু দস্যুদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমেই যত দ্রুত সম্ভব উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিরসনে আমাদের দায়িত্বশীল পক্ষগুলোর কৌশলী হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা প্রয়োজনে নেওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু এভাবে সব সময় নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক-সজাগ থাকাও সহজসাধ্য বিষয় নয়।

বিপদসঙ্কুল ও আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সোমালিয়ান জলদস্যুদের নিবৃত্ত করতে আন্তর্জাতিক যৌথ প্রচেষ্টার বিষয়টি বিদ্যমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসেছে। কারণ এখানে অনেকেরই স্বার্থ রয়েছে। আমরা জানি, জলদস্যুরা ভয়াবহ হিংস্র প্রকৃতির হয়। এমভি আব্দু্ল্লাহর জিম্মিদের এই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল। প্রাণভয়ের পাশাপাশি মজুদ খাদ্য ফুরিয়ে যাওয়া এবং এর সুযোগে জলদস্যুদের আরও হিংস্র হয়ে ওঠার বিষয়টিও তাদের একটি ভিন্নতর অপকৌশলের চিত্রই আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। এমভি আব্দুল্লাহর জিম্মি নাবিকরা মুক্ত হয়ে স্বভূমে ফিরে আসায় আমরা আনন্দিত-উচ্ছ্বসিত বটে কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কামুক্ত নই। যে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং বলতে গেলে প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুমুখ থেকে যারা ফিরে এসেছেন তারা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দুর্বিষহ যাতনার বিষয়ে নতুন করে ব্যাখ্যারও কিছু নেই। এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

জিম্মি একেকজনের বক্তব্যে তাদের জিম্মিদশার প্রায় ৩৩ দিনে যে বহুমুখী মর্মন্তুদ বর্ণনা সংবাদমাধ্যমে ১৫ মে উঠে এসেছে তা জিম্মিকালে তারা যে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ছিলেন এরও যেন অন্তহীন মর্মস্পর্শিতা। আমরা মনে করি, বিষয়টি যেহেতু আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে সেহেতু এর নিরসনে আন্তর্জাতিক যৌথ উদ্যোগ অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। ওই অঞ্চলে জলদস্যুদের দাপটের পথ রুদ্ধ করতে হলে দৃষ্টি দিতে হবে একেবারে উৎসে। এর প্রেক্ষাপট কতটা গভীর ও বিস্তৃত তা আমাদের অজানা নয়। আমরা দেখছি, ফিলিস্তিন সংকট প্রকট হয়ে ওঠার পর ওই নৌপথ আরও বেশি বিপদসঙ্কুল হয়ে উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গৃহযুদ্ধকবলিত দেশ সোমালিয়ার সন্ত্রাসীদের জাহাজ ছিনতাই ও জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের যে অপপ্রক্রিয়া তারা পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে, এ ব্যাপারে জাতিসংঘের বিশেষ ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ জাতিসংঘ সোমালিয়ায় শান্তিরক্ষী মিশন প্রেরণ করে অভ্যন্তরীণ জননিরাপত্তার ব্যাপারে ভূমিকা পালন করছে। সেহেতু এক্ষেত্রেও জাতিসংঘের বিশেষ ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়ে স্বভূমে ফিরে আসা সবার জন্য আমাদের শুভকামনা ও অভিনন্দন। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা