× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পরিপ্রেক্ষিত

বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সম্পর্কের সেতু

মো. খসরু চৌধুরী

প্রকাশ : ১০ মে ২০২৪ ১৩:৪০ পিএম

বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড সম্পর্কের সেতু

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে সব ধরনের আগ্রাসন ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন। পরদিন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিনের সঙ্গে তার দপ্তর গভর্নমেন্ট হাউসে সাক্ষাৎ করেন শেখ হাসিনা। থাইল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব ঐতিহাসিক, ভাষাগত ও অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীরে প্রোথিত। এর জেরে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগ, খাদ্যনিরাপত্তা, পর্যটন, জনস্বাস্থ্য, জ্বালানি ও আইসিটি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রভূত সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এর বাইরে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সংযোগ ও যোগাযোগ এবং বিমসটেকের অধীনে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের সুযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শেষ দিকে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতি ও আয়োজক হিসেবে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের কাছে সভাপতিত্ব হস্তান্তর করবে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর দুই নেতার উপস্থিতিতে একটি চুক্তি, তিনটি সমঝোতা স্মারক ও একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের অফিসিয়াল পাসপোর্ট হোল্ডারদের মধ্যে ভিসা ছাড় সংক্রান্ত চুক্তি, জ্বালানি সহযোগিতা, শুল্ক বিষয়ে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা, পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং ২০২৪ সালের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা সংক্রান্ত লেটার অব ইনটেন্ট।

পর্যটন শিল্পে থাইল্যান্ডের রয়েছে ব্যাপক অভিজ্ঞতা ও পেশাদারি। দেশটিতে প্রায় সারা বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটক বেড়াতে আসে। তুলনায় বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অবস্থান একেবারেই প্রাথমিক স্তরে। সে অবস্থায় দেশি পর্যটন শিল্প আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সে দেশের পরামর্শ ও সহযোগিতা কাজে লাগালে এ শিল্পের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। থাইল্যান্ডের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সেবা উন্নত এবং আধুনিক। বলা যায়, সিঙ্গাপুরের পরই এর অবস্থান। তেমন ব্যয়বহুলও নয়। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। তাতে দুই দেশই লাভবান ও সমৃদ্ধ হবে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দান; হাসপাতালসহ চিকিৎসা খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা ইতিবাচক অবশ্যই। দেশের ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং আইসিটি ভিলেজে বিনিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ড চাইলে বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও গড়ে তুলতে পারে। আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্থায়ী সমাধানেও বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের সমর্থন চেয়েছে। ঢাকা-ব্যাংককের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলেই প্রত্যাশা।

বাংলাদেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, সামুদ্রিক মৎস্য ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্য, কাগজ ও কাগজের পাল্প, সাবান, প্লাস্টিক পণ্য এবং রাবারজাত পণ্য থাইল্যান্ডে রপ্তানি করা হয়। অন্যদিকে থাইল্যান্ড থেকে বৈদ্যুতিক সমরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, আয়রন ও স্টিল, জৈব রাসায়নিক পণ্য, কৃত্রিম ফাইবার ও তুলা আমদানি করা হয়। বাংলাদেশের পণ্যগুলো থাইল্যান্ডে রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের পাট ও পাটজাতীয় পণ্য এবং অন্যান্য কৃষিপণ্যেরও চাহিদা রয়েছে দেশটিতে। থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বাড়ানো গেলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হবে। আরও মজবুত হবে দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্কের সেতুও।


  • সংসদ সদস্য
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা